📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চিকিৎসার জন্য কি হালাল?

📄 চিকিৎসার জন্য কি হালাল?


ক্ষুধায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হারাম খাদ্য খাওয়ার অনুমতি আছে এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত। কেবল চিকিৎসার জন্য মদের অনুমতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: অনুমতি আছে, কেউ বলেন: নেই। এ ক্ষেত্রে অনুমতি না থাকার মতটাই অগ্রগণ্য। কারণ ইসলামের আগমনের পূর্বে জাহিলি যুগে লোকেরা মদ দিয়ে রোগের চিকিৎসা করতো। ইসলাম এসে এটা নিষিদ্ধ করে দেয়। তারেক ইবনে সুয়াইদ জাফি থেকে ইমাম আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, ও তিরমিযি বর্ণনা করেন: সুয়াইদ রসূলুল্লাহ্ (সা) কে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে মদ স্পর্শ করতে নিষেধ করেন। সুয়াইদ বললেন: আমি মদকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মদ ওষুধ নয়, বরং রোগ।'
আবু দারদা (রা) থেকে আবুদাউদ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'আল্লাহ্ তায়ালা রোগ ও ওষুধ দুটোই নাযিল করেছেন। প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ সৃষ্টি করেছেন। কাজেই তোমরা রোগের চিকিৎসা করাও। তবে কোনো হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করাবো না।' ইসলামের পূর্বে লোকেরা ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে মদ পান করতো। ইসলাম তাদের উদ্দেশ্যেও মদ পান করতে নিষেধ করেছে।
আবু দাউদ বর্ণনা করেন, দাইলাম আলহিমাইয়ারি রসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা একটা শীত প্রধান এলাকায় বাস করি এবং আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা গম দিয়ে এক ধরনের পানীয় তৈরি করি, যা দ্বারা আমরা আমাদের শ্রমের জন্য শক্তি সঞ্চয় করি এবং এলাকার শীতের মোকাবিলা করি। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমাদের সেই পানীয় কি মাতাল করে? দাইলাম বললেন: হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তাহলে এটা বর্জন করো। দাইলাম বললেন: লোকেরা এটা বর্জন করবে না। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তারা এটা বর্জন না করলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।' অবশ্য কোনো কোনো ফকিহ্ মদ দ্বারা চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তারা এ জন্য হারামের মত কার্যকর হালাল ওষুধ খুঁজে না পাওয়া রোগীর এ দ্বারা নেশা ও মজা উপভোগ করার ইচ্ছা না থাকা এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ব্যবহার না করার শর্ত আরোপ করেছেন। অনুরূপ অনন্যোপায় অবস্থায় মদ পানেরও অনুমতি দিয়েছেন ফকিহগণ। উদাহরণ স্বরূপ, কেউ এক গ্লাস খাদ্য গিলেছে, কিন্তু তা গলায় আটকে গেছে। এ সময় ঐ খাবার গলা থেকে নামানোর জন্য মদ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা, এমতাবস্থায় তার জন্য মদ খাওয়া জায়েয। অথবা কেউ ঠান্ডার আতিশয্যে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌছে গেছে, অথচ এক ঢোক বা এক গ্লাস মদ পান করা ছাড়া মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছনা। অথবা কেউ হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকির সম্মুখীন এবং চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ মদ পান না করলে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হওয়া যাবেনা। এ সব অবস্থায় নিষিদ্ধ জিনিসও বৈধ হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00