📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে পরিমাণ হারাম খাদ্য খাওয়া জায়েয

📄 যে পরিমাণ হারাম খাদ্য খাওয়া জায়েয


অনন্যোপায় ব্যক্তি মৃত প্রাণী বা অন্য কোনো হারাম খাদ্য থেকে সর্বোচ্চ ততটুকুই খেতে পারবে, যতটুকু তার জীবন বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট। সে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সফরের সম্বল হিসেবেও নিতে পারবে।
এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালিক ও আহমদ বলেন, অনন্যোপায় ব্যক্তি যখন হারাম খাদ্য খাবে, তখন তা তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে। কেননা ইমাম আবুদাউদ জাবির ইবনে সামুরা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি 'হারাতে' এসে যাত্রা বিরতি করলো। এর কিছুক্ষণ পর তার উটনীটা মারা গেল। তখন তার স্ত্রী বললো: ওর চামড়া খুলে ফেল, আমরা ওর চর্বি ও গোশত জ্বাল দেব ও খাব। সে বললো: আগে রসূল (সা) এর কাছে জিজ্ঞাসা করে নেই। অত:পর রসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল (সা) বললেন: তোমার নিকট কি আর কোনো সম্পদ নেই? সে বললো: না। তিনি বললেন: তা হলে খাও।'
ইমাম আবু হানিফার শিষ্যগণ বলেন: এ রকম অবস্থায় তৃপ্তি সহকারে খাওয়া চলবে না। ইমাম শাফেয়ি থেকে দু'রকমের মত বর্ণিত আছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অন্যের খাদ্য পাওয়া গেলেও তাকে অন্যোপায় বলা যাবেনা

📄 অন্যের খাদ্য পাওয়া গেলেও তাকে অন্যোপায় বলা যাবেনা


মানুষ তখনই অনন্যোপায় বলে গণ্য হবে যখন খাওয়ার মত কোনো খাদ্যই পায় না, এমনকি যদি তা অন্যের খাদ্যও হয়। যখন অন্য কারো মালিকানাধীন খাদ্য তার নাগালে থাকে, তখন সে তা তার মালিকের অনুমতি ছাড়াও খেতে পারবে। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ আছে শুধু ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কিনা সেই ব্যাপারে। অধিকাংশ আলেমের মত এই যে, কেউ যদি ক্ষুধার কারণে অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং অন্যের মালিকানাধীন খাবার ব্যতীত আর কিছু তার নাগালে না থাকে, অথচ সে খাবারের মালিক অনুপস্থিত, তা হলে সে তা থেকে কিছু নিতে পারে এবং সে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে। কেননা নিরুপায় অবস্থা অন্যের হক বাতিল করে না।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে না। কেননা তার নিরুপায় অবস্থাই তার দায়বদ্ধতা রহিত করে। কারণ আল্লাহ্ নিজেই তাকে এর অনুমতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ যেখানে অনুমতি দিয়েছেন, সেখানে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
যে ক্ষেত্রে খাদ্য বিদ্যমান, কিন্তু তার মালিক তা দিতে নারাজ, সে ক্ষেত্রে অনন্যোপায় ব্যক্তি ক্ষমতা থাকলে বল প্রয়োগে কেড়ে নিতে পারবে। আর মালেকি মযহাব অনুসারে, এরূপ ক্ষেত্রে অনন্যোপায় ব্যক্তি মালিককে নিজের অনন্যোপায় অবস্থার কথা জানিয়ে তাকে হুশিয়ারি দেবে যে, সে তাকে খাবার না দিলে সে তার সাথে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করবে। এরপরও না দিলে সে তার সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারবে। যুদ্ধে খাবারের মালিক নিহত হলে এই হত্যার জন্য হত্যাকারী দায়ী হবে না। আর অনন্যোপায় ব্যক্তিকে খাবার দেয়া তার উপর ওয়াজিব ছিলো।
ইমাম ইবনে হাযম বলেন: যে ব্যক্তি হারাম খাদ্য ব্যতীত আর কিছু যোগাড় করতে অক্ষম এবং কোনো মুসলমানের বা চুক্তিবদ্ধ (যিম্মি) অমুসলিমের সম্পদও তার নাগালে নেই, সে উক্ত হারাম খাদ্য তৃপ্তি সহকারে খেতে পারবে এবং পরবর্তী প্রয়োজন পূরণের জন্য সম্বল হিসেবেও নিতে পারবে। পরে যখনই সে হালাল খাদ্য পাবে, তখনই ঐ হারাম খাদ্য পুনরায় তার জন্য আগের মতো হারাম হয়ে যাবে। আর যদি সে কোনো মুসলমান বা যিম্মীর খাদ্য পেয়ে যায়, তাহলে সেই খাদ্যে তার হক প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কেননা রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: 'ক্ষুধার্তকে খাবার দাও।' রসূলুল্লাহ্ (সা) এর এই আদেশ বলে সে উক্ত খাদ্যের হকদার। এমতাবস্থায় সে মৃত প্রাণী বা অন্য কোনো হারাম খাদ্য খাওয়ার জন্য নিরুপায় নয়। কিন্তু খাদ্যের মালিক অন্যায়ভাবে তাকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করলে সে নিরুপায় হিসাবে গণ্য হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চিকিৎসার জন্য কি হালাল?

📄 চিকিৎসার জন্য কি হালাল?


ক্ষুধায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হারাম খাদ্য খাওয়ার অনুমতি আছে এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত। কেবল চিকিৎসার জন্য মদের অনুমতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন: অনুমতি আছে, কেউ বলেন: নেই। এ ক্ষেত্রে অনুমতি না থাকার মতটাই অগ্রগণ্য। কারণ ইসলামের আগমনের পূর্বে জাহিলি যুগে লোকেরা মদ দিয়ে রোগের চিকিৎসা করতো। ইসলাম এসে এটা নিষিদ্ধ করে দেয়। তারেক ইবনে সুয়াইদ জাফি থেকে ইমাম আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, ও তিরমিযি বর্ণনা করেন: সুয়াইদ রসূলুল্লাহ্ (সা) কে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে মদ স্পর্শ করতে নিষেধ করেন। সুয়াইদ বললেন: আমি মদকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: মদ ওষুধ নয়, বরং রোগ।'
আবু দারদা (রা) থেকে আবুদাউদ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'আল্লাহ্ তায়ালা রোগ ও ওষুধ দুটোই নাযিল করেছেন। প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ সৃষ্টি করেছেন। কাজেই তোমরা রোগের চিকিৎসা করাও। তবে কোনো হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করাবো না।' ইসলামের পূর্বে লোকেরা ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে মদ পান করতো। ইসলাম তাদের উদ্দেশ্যেও মদ পান করতে নিষেধ করেছে।
আবু দাউদ বর্ণনা করেন, দাইলাম আলহিমাইয়ারি রসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা একটা শীত প্রধান এলাকায় বাস করি এবং আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা গম দিয়ে এক ধরনের পানীয় তৈরি করি, যা দ্বারা আমরা আমাদের শ্রমের জন্য শক্তি সঞ্চয় করি এবং এলাকার শীতের মোকাবিলা করি। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমাদের সেই পানীয় কি মাতাল করে? দাইলাম বললেন: হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তাহলে এটা বর্জন করো। দাইলাম বললেন: লোকেরা এটা বর্জন করবে না। রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: তারা এটা বর্জন না করলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।' অবশ্য কোনো কোনো ফকিহ্ মদ দ্বারা চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তারা এ জন্য হারামের মত কার্যকর হালাল ওষুধ খুঁজে না পাওয়া রোগীর এ দ্বারা নেশা ও মজা উপভোগ করার ইচ্ছা না থাকা এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ব্যবহার না করার শর্ত আরোপ করেছেন। অনুরূপ অনন্যোপায় অবস্থায় মদ পানেরও অনুমতি দিয়েছেন ফকিহগণ। উদাহরণ স্বরূপ, কেউ এক গ্লাস খাদ্য গিলেছে, কিন্তু তা গলায় আটকে গেছে। এ সময় ঐ খাবার গলা থেকে নামানোর জন্য মদ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা, এমতাবস্থায় তার জন্য মদ খাওয়া জায়েয। অথবা কেউ ঠান্ডার আতিশয্যে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌছে গেছে, অথচ এক ঢোক বা এক গ্লাস মদ পান করা ছাড়া মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার আর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছনা। অথবা কেউ হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকির সম্মুখীন এবং চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ মদ পান না করলে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হওয়া যাবেনা। এ সব অবস্থায় নিষিদ্ধ জিনিসও বৈধ হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00