📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অযোগ্যপায় অবস্থায় হারাম খাওয়া জায়েয

📄 অযোগ্যপায় অবস্থায় হারাম খাওয়া জায়েয


যে ব্যক্তির হালাল খাদ্য সংগ্রহ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তার জন্য মৃত প্রাণী, শূকর, অন্যান্য হারাম প্রাণীর গোস্ত অথবা অন্য কোনো হারাম খাদ্য বাঁচানো ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে খাওয়া শুধু জায়েয নয়, বরং ওয়াজিব। কারণ সূরা নিসার ২৯ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ط إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا 'তোমাদের নিজেদেরকে হত্যা করোনা। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি দয়াময়।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অন্যোপায় অবস্থায় সীমারেখা

📄 অন্যোপায় অবস্থায় সীমারেখা


মানুষ তখনই অনন্যোপায় বলে বিবেচিত হবে, যখন ক্ষুধা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় অথবা এমন রোগে আক্রান্ত করার উপক্রম হয়, যা তাকে মৃত্যুরমুখে নিক্ষেপ করতে পারে। যে ব্যক্তি এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়, সে আল্লাহর অনুগত না অবাধ্য, তাতে কিছু যায় আসে না। আল্লাহ বলেন: فَمَنِ اضْطُرْ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ، إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ 'কিন্তু যে অনন্যোপায় অথচ নাফরমান কিংবা সীমালংঘনকারী নয়, তার কোনো পাপ হবে না। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (হারাম খাদ্য খাওয়ার সময় একই পর্যায়ের অনন্যোপায় অপর ব্যক্তির হক গ্রাস করা, তাকে খেতে না দিয়ে একাকী খাওয়া ও তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া নাফরমানীর আওতাভুক্ত। আর যতটুকু খেলে তৃপ্তি হয়, মতান্তরে, যতোটুকু খেলে জীবন বাঁচে ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি দূরীভূত হয়, তার চেয়ে বেশি খাওয়া সীমালংঘনের পর্যায়ে পড়ে।)
ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেন: ফুজাই আমেরি (রা) রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: কী অবস্থায় আমাদের জন্য মৃত প্রাণী হালাল হয়? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমাদের খাদ্য কী? ফুজাই বললেন: সকাল বিকাল শুধু তরল পানীয়। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: 'এটাই সেই ক্ষুধা, যা মৃত প্রাণী হালাল করে।' অত:পর তিনি তাদেরকে মৃত প্রাণী খাওয়ার অনুমতি দিলেন। ইবনে হাযম বলেন:
'অনন্যোপায় অবস্থার সীমারেখা হলো, পুরো একদিন ও এক রাত এমন অবস্থায় থাকতে হবে যে, কোনো খাদ্য ও পানীয় পাওয়া যাচ্ছেনা। এমতাবস্থায় সে যদি এমন কষ্টকর দুর্বলতার আশংকা করে যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তাকে মৃত্যুর মুখে নিক্ষেপ করতে পারে অথবা তার জীবিকা উপার্জন বন্ধ করে দেবে, তবে তার জন্য এমন যে কোনো জিনিস খাওয়া ও পান করা বৈধ, যা ক্ষুধা ও পিপাসা জনিত মৃত্যু থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে। একদিন ও একরাত অনাহারে থাকার সীমারেখা উল্লেখ করেছি এ জন্য যে, রসূলুল্লাহ্ (সা) রোযার জন্য পুরো একদিন ও একরাত একটানা পানাহার না করাকে হারাম ঘোষণা করেছেন।
মালেকি মযহাব অনুসারে কেউ যদি একটানা তিনদিন অনাহারে কাটায়, তবে তার পক্ষে যে কোনো হারাম জিনিস খাওয়া জায়েয, চাই তা অন্যের সম্পদ হোক না কেন।
উল্লেখ্য, শাফেয়ি ও যায়দি মতানুসারে অন্য কিছু না পাওয়া গেলে মানুষের গোস্ত খাওয়াও জায়েয। তবে এ জন্য তারা কিছু শর্ত আরোপ করেন। কিন্তু হানাফি ও যাহেরি মযহাব অনুসারে মানুষের গোস্ত খাওয়া কোনো অবস্থায়ই জায়েয নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে পরিমাণ হারাম খাদ্য খাওয়া জায়েয

📄 যে পরিমাণ হারাম খাদ্য খাওয়া জায়েয


অনন্যোপায় ব্যক্তি মৃত প্রাণী বা অন্য কোনো হারাম খাদ্য থেকে সর্বোচ্চ ততটুকুই খেতে পারবে, যতটুকু তার জীবন বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট। সে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সফরের সম্বল হিসেবেও নিতে পারবে।
এক বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালিক ও আহমদ বলেন, অনন্যোপায় ব্যক্তি যখন হারাম খাদ্য খাবে, তখন তা তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে। কেননা ইমাম আবুদাউদ জাবির ইবনে সামুরা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি 'হারাতে' এসে যাত্রা বিরতি করলো। এর কিছুক্ষণ পর তার উটনীটা মারা গেল। তখন তার স্ত্রী বললো: ওর চামড়া খুলে ফেল, আমরা ওর চর্বি ও গোশত জ্বাল দেব ও খাব। সে বললো: আগে রসূল (সা) এর কাছে জিজ্ঞাসা করে নেই। অত:পর রসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো। রসূল (সা) বললেন: তোমার নিকট কি আর কোনো সম্পদ নেই? সে বললো: না। তিনি বললেন: তা হলে খাও।'
ইমাম আবু হানিফার শিষ্যগণ বলেন: এ রকম অবস্থায় তৃপ্তি সহকারে খাওয়া চলবে না। ইমাম শাফেয়ি থেকে দু'রকমের মত বর্ণিত আছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অন্যের খাদ্য পাওয়া গেলেও তাকে অন্যোপায় বলা যাবেনা

📄 অন্যের খাদ্য পাওয়া গেলেও তাকে অন্যোপায় বলা যাবেনা


মানুষ তখনই অনন্যোপায় বলে গণ্য হবে যখন খাওয়ার মত কোনো খাদ্যই পায় না, এমনকি যদি তা অন্যের খাদ্যও হয়। যখন অন্য কারো মালিকানাধীন খাদ্য তার নাগালে থাকে, তখন সে তা তার মালিকের অনুমতি ছাড়াও খেতে পারবে। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। মতভেদ আছে শুধু ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কিনা সেই ব্যাপারে। অধিকাংশ আলেমের মত এই যে, কেউ যদি ক্ষুধার কারণে অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং অন্যের মালিকানাধীন খাবার ব্যতীত আর কিছু তার নাগালে না থাকে, অথচ সে খাবারের মালিক অনুপস্থিত, তা হলে সে তা থেকে কিছু নিতে পারে এবং সে তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে। কেননা নিরুপায় অবস্থা অন্যের হক বাতিল করে না।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে না। কেননা তার নিরুপায় অবস্থাই তার দায়বদ্ধতা রহিত করে। কারণ আল্লাহ্ নিজেই তাকে এর অনুমতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ যেখানে অনুমতি দিয়েছেন, সেখানে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
যে ক্ষেত্রে খাদ্য বিদ্যমান, কিন্তু তার মালিক তা দিতে নারাজ, সে ক্ষেত্রে অনন্যোপায় ব্যক্তি ক্ষমতা থাকলে বল প্রয়োগে কেড়ে নিতে পারবে। আর মালেকি মযহাব অনুসারে, এরূপ ক্ষেত্রে অনন্যোপায় ব্যক্তি মালিককে নিজের অনন্যোপায় অবস্থার কথা জানিয়ে তাকে হুশিয়ারি দেবে যে, সে তাকে খাবার না দিলে সে তার সাথে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করবে। এরপরও না দিলে সে তার সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারবে। যুদ্ধে খাবারের মালিক নিহত হলে এই হত্যার জন্য হত্যাকারী দায়ী হবে না। আর অনন্যোপায় ব্যক্তিকে খাবার দেয়া তার উপর ওয়াজিব ছিলো।
ইমাম ইবনে হাযম বলেন: যে ব্যক্তি হারাম খাদ্য ব্যতীত আর কিছু যোগাড় করতে অক্ষম এবং কোনো মুসলমানের বা চুক্তিবদ্ধ (যিম্মি) অমুসলিমের সম্পদও তার নাগালে নেই, সে উক্ত হারাম খাদ্য তৃপ্তি সহকারে খেতে পারবে এবং পরবর্তী প্রয়োজন পূরণের জন্য সম্বল হিসেবেও নিতে পারবে। পরে যখনই সে হালাল খাদ্য পাবে, তখনই ঐ হারাম খাদ্য পুনরায় তার জন্য আগের মতো হারাম হয়ে যাবে। আর যদি সে কোনো মুসলমান বা যিম্মীর খাদ্য পেয়ে যায়, তাহলে সেই খাদ্যে তার হক প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কেননা রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: 'ক্ষুধার্তকে খাবার দাও।' রসূলুল্লাহ্ (সা) এর এই আদেশ বলে সে উক্ত খাদ্যের হকদার। এমতাবস্থায় সে মৃত প্রাণী বা অন্য কোনো হারাম খাদ্য খাওয়ার জন্য নিরুপায় নয়। কিন্তু খাদ্যের মালিক অন্যায়ভাবে তাকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করলে সে নিরুপায় হিসাবে গণ্য হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00