📄 জলাক্ত প্রাণী
যে সকল জিনিসকে মুবাহ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
জলজ প্রাণী: একমাত্র ক্ষতিকর বিষ বহনকারী ব্যতীত সমস্ত জলজ প্রাণী হালাল, চাই তা মাছ হোক বা অন্য কিছু শিকার করা হোক বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যাক, কোনো মুসলমান, ইহুদি খ্রিষ্টান বা পৌত্তলিকের হাতে শিকার করা প্রাণী এবং স্থলচর প্রাণীসমূহের মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো প্রাণী থাক বা না থাক। জলজ প্রাণী জবাই করার প্রয়োজন নেই। এর প্রমাণ সূরা মায়িদার ৯৬ নং আয়াত:
أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَكُمْ وَالسَّيَّارَةِ 'তোমাদের ও মুসাফিরদের ভোগের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে।' ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য বলতে বুঝায় সমুদ্র যা কিছু তীরে নিক্ষেপ করে। -দারু কুতনি।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে: সমুদ্রের খাদ্যের অর্থ মৃত সামুদ্রিক প্রাণী। কারণ আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলো: হে আল্লাহ্র রসূল, আমরা সমুদ্রে চলাফেরা করি, আমরা সামান্য কিছু পানি সাথে রাখি। তা দিয়ে যদি ওযু করি তবে আমাদের পিপাসায় কষ্ট পেতে হয়। তবে কি আমরা সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করবো? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। পাঁচটি সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। তিরমিযি এটিকে হাসান ও সহিহ এবং বুখারি সহিহ বলেছেন।
📄 সোনা মাছ
নোনা মাছ: মাছ যাতে দীর্ঘকাল অবিকৃত থাকে, সে জন্য মাছকে প্রায়ই লবণ যুক্ত করে রাখা হয়। একে নোনা মাছ বলা হয়। সব রকমের নোনা মাছই হালাল, যতক্ষণ তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে হারাম। বিশিষ্ট মালিকি ফকিহ্ দারদেরি রাহ, বলেন: 'আমি আল্লাহ্র যে বিধির আনুগত্য করি তা হলো, নোনা মাছ হালাল। কেননা মৃত্যুর পূর্বে তাকে নোনা করা হয় না। আর প্রবাহমান রক্ত কেবল প্রবাহিত হওয়ার পরই অপবিত্র, তার আগে নয়। মাছের মৃত্যুর পর যদি তাতে রক্ত পাওয়া যায় তবে তা শরিয়তসম্মত পন্থায় জবাই করার পর ধমনীতে অবশিষ্ট থাকা রক্তের মত। জবাইর পর তা থেকে যে আর্দ্র পদার্থ বের হয়, তা নি:সন্দেহে পবিত্র। এটাই হানাফি, হাম্বলি ও কিছু সংখ্যক মালিকি আলিমের অভিমত।
📄 জলচর ও স্থলচর প্রাণী
ইমাম ইবনুল আরাবী বলেন: জলচর ও স্থলচর প্রাণীর ব্যাপারে সঠিক মত হলো, তা নিষিদ্ধ। কেননা এগুলোর হালাল হওয়া ও হারাম হওয়া উভয়ের পক্ষেই প্রমাণ রয়েছে। তথাপি সতর্কতা বশত: আমরা হারাম হওয়ার পক্ষের প্রমাণকেই অগ্রাধিকার দেই। ইবনুল আরাবী ব্যতীত অন্যান্য আলেমগণ মনে করেন, সকল জলচর মৃত প্রাণী হালাল, যদিও তা স্থলে বসবাস করতে সক্ষম হয়। একমাত্র ব্যাঙ হারাম। কেননা এটাকে হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছ। আব্দুর রহমান ইবনে উসমান (রা) থেকে বর্ণিত: জনৈক চিকিৎসক রসূল (সা) কে ব্যাঙ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যা সে ওষুধে ব্যবহার করে। তখন রসূল (সা) তাকে ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করলেন। (আবুদাউদ, নাসায়ি, আহমদ)।
📄 সূচর হালাল প্রাণী
যে সকল হালাল স্থলচর প্রাণীর বিবরণ কুরআন ও সুন্নাহ্ থেকে পাওয়া যায় তা আমরা নিম্নে উল্লেখ করছি: