📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খাদ্যের সংজ্ঞা

📄 খাদ্যের সংজ্ঞা


মানুষ যা খায় এবং যা দ্বারা জীবন ধারণ ও পুষ্টি অর্জন করে, তাকেই খাদ্য বলা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন: قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ
'বলুন, আমার কাছে যে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে, তাতে আমি কোনো হারাম খাদ্য পাইনা কোনো ভক্ষণকারীর জন্য যা সে ভক্ষণ করে......।' (সূরা আনয়াম, ১৪৫)। একমাত্র সে খাদ্যই হালাল, যা পবিত্র এবং যার প্রতি মন আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ্ বলেন: يَسْتَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ
'লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে কী কী জিনিস তাদের জন্য হালাল করা হয়েছে? আপনি বলুন, তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে পবিত্র জিনিসসমূহ.....।' (সূরা মায়িদা, আয়াত ৪)। এখানে পবিত্র বস্তু দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে জিনিসের প্রতি মন আকৃষ্ট হয়। যেমন সূরা আরাফের ১৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে: وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ
'যিনি হালাল করেন তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু এবং হারাম করেন অপবিত্র বস্তু..।' এক ধরনের খাদ্য আছে যা জড় জাতীয় আর এক ধরনের খাদ্য আছে প্রাণী জাতীয়। জড় জাতীয় খাদ্যের মধ্যে যা অপবিত্র, অপবিত্র জিনিস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অপবিত্র, ক্ষতিকারক, মাদক ও অন্যের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট, তা ছাড়া আর সবই হালাল। অপবিত্র জিনিসের উদাহরণ হলো রক্ত। আর অপবিত্র জিনিস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। অপবিত্র হওয়া জিনিসের উদাহরণ হলো, যে ঘিতে ইঁদুর পড়েছে। কেননা ইমাম বুখারি মাইমুনা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে ঘিতে ইঁদুর পড়েছে, তার বিধান কী? তিনি বললেন: ইঁদুরটি ফেলে দাও এবং তার চার পাশের ঘিও ফেলে দাও, তারপর তোমাদের ঘি খাও।'
এ হাদিস থেকে জানা গেল যে, জড় জাতীয় খাদ্যে যদি মৃত প্রাণী পড়ে তবে তা ফেলে দিতে হবে এবং তার পার্শবর্তী জিনিসও ফেলে দিতে হবে। আর যেটুকু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, উক্ত মৃত প্রাণীর কোনো অংশ তাতে পৌঁছেনি, সেটুকু পবিত্র। আর তরল পদার্থ অপবিত্র পদার্থের সংস্পর্শে আসা মাত্রই অপবিত্র হয়ে যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুবাহ্

📄 মুবাহ্


ক্ষতিকর খাদ্যের উদাহরণ বিষ প্রভৃতি। বিচ্ছু, মৌমাছি ও বিষধর সাপ থেকে নির্গত বিষ এবং বিষাক্ত তরুলতা ও আর্সেনিক। কেননা আল্লাহ্ বলেন:
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ طَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا 'তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করোনা। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি করুণাময়।' -নিসা, ২৯। তিনি আরো বলেন: - وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ 'তোমরা নিজের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।' (সূরা বাকারা, ১৯৫)।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কোনো পাহাড়ের উপর থেকে পড়ে নিজেকে হত্যা করে, সে অনন্তকাল ধরে উপর থেকে জাহান্নামের আগুনে পড়তে থাকবে।'
ইমাম বুখারী বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি বিষ পান দ্বারা নিজেকে হত্যা করে, সে জাহান্নামে অনন্তকাল ধরে সেই বিষ হাতে নিয়ে পান করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোনো লোহার অস্ত্র দিয়ে নিজেকে কুপিয়ে হত্যা করে সে সেই অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে অনন্তকাল ধরে নিজেকে হত্যা করতে থাকবে।'
তবে বিষের যে পরিমাণ ক্ষতি করে, সেই পরিমাণই হারাম। বিষ ছাড়া অন্য যে সব জিনিস যাদের জন্য ক্ষতিকর, যেমন মাটি, কাঁদা, পাথর, কয়লা, সে সব জিনিস যাদের জন্য ক্ষতিকর তাদের জন্য হারাম। কেননা রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: 'ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও নিষিদ্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত করাও নিষিদ্ধ।' -আহমদ, ইবনে মাজা। ধূমপান এবং মাদক দ্রব্য সেবনও এই হাদিসের আলোকে নিষিদ্ধ। আর অন্যের হকের সাথে যা কিছু সংশ্লিষ্ট, যেমন চোরাই মাল ও জবরদখলকৃত মাল, তার সবই হারাম। আর জলজ প্রাণী, অর্থাৎ যে সকল প্রাণী পানিতে বাস করে, তার সবই হালাল। আর স্থলজ প্রাণী, চাই তা পশু হোক বা পাখি তন্মধ্যে কতক হালাল ও কতক হারাম। ইসলাম এর বিশদ বিবরণ দিয়েছে। যেমন আল্লাহ্ বলেন:
وَقَنْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ আল্লাহ্ তোমাদের উপর যা কিছু হারাম করেছেন, তা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে তোমরা নিরুপায় হলে তা স্বতন্ত্র'। (সূরা আনয়াম: ১১৯) এ বিশদ বর্ণনায় তিন ধরনের জিনিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: প্রথমত হারাম জিনিসের বর্ণনা। দ্বিতীয়ত মুবাহ জিনিসের বর্ণনা। তৃতীয়ত যে সকল জিনিস সম্পর্কে ইসলাম মৌনতা অবলম্বন করেছে, তার বর্ণনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জলাক্ত প্রাণী

📄 জলাক্ত প্রাণী


যে সকল জিনিসকে মুবাহ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
জলজ প্রাণী: একমাত্র ক্ষতিকর বিষ বহনকারী ব্যতীত সমস্ত জলজ প্রাণী হালাল, চাই তা মাছ হোক বা অন্য কিছু শিকার করা হোক বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যাক, কোনো মুসলমান, ইহুদি খ্রিষ্টান বা পৌত্তলিকের হাতে শিকার করা প্রাণী এবং স্থলচর প্রাণীসমূহের মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো প্রাণী থাক বা না থাক। জলজ প্রাণী জবাই করার প্রয়োজন নেই। এর প্রমাণ সূরা মায়িদার ৯৬ নং আয়াত:
أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَكُمْ وَالسَّيَّارَةِ 'তোমাদের ও মুসাফিরদের ভোগের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে।' ইবনে আব্বাস (রা) বলেন: সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য বলতে বুঝায় সমুদ্র যা কিছু তীরে নিক্ষেপ করে। -দারু কুতনি।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে: সমুদ্রের খাদ্যের অর্থ মৃত সামুদ্রিক প্রাণী। কারণ আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলো: হে আল্লাহ্র রসূল, আমরা সমুদ্রে চলাফেরা করি, আমরা সামান্য কিছু পানি সাথে রাখি। তা দিয়ে যদি ওযু করি তবে আমাদের পিপাসায় কষ্ট পেতে হয়। তবে কি আমরা সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করবো? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। পাঁচটি সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত। তিরমিযি এটিকে হাসান ও সহিহ এবং বুখারি সহিহ বলেছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সোনা মাছ

📄 সোনা মাছ


নোনা মাছ: মাছ যাতে দীর্ঘকাল অবিকৃত থাকে, সে জন্য মাছকে প্রায়ই লবণ যুক্ত করে রাখা হয়। একে নোনা মাছ বলা হয়। সব রকমের নোনা মাছই হালাল, যতক্ষণ তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে হারাম। বিশিষ্ট মালিকি ফকিহ্ দারদেরি রাহ, বলেন: 'আমি আল্লাহ্র যে বিধির আনুগত্য করি তা হলো, নোনা মাছ হালাল। কেননা মৃত্যুর পূর্বে তাকে নোনা করা হয় না। আর প্রবাহমান রক্ত কেবল প্রবাহিত হওয়ার পরই অপবিত্র, তার আগে নয়। মাছের মৃত্যুর পর যদি তাতে রক্ত পাওয়া যায় তবে তা শরিয়তসম্মত পন্থায় জবাই করার পর ধমনীতে অবশিষ্ট থাকা রক্তের মত। জবাইর পর তা থেকে যে আর্দ্র পদার্থ বের হয়, তা নি:সন্দেহে পবিত্র। এটাই হানাফি, হাম্বলি ও কিছু সংখ্যক মালিকি আলিমের অভিমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00