📄 হারানো উট, গরু, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, হারানো উট কুড়িয়ে নেয়া জায়েয নেই। ইতিপূর্বে যায়েদ ইবনে খালিদ বর্ণিত হাদিস এর প্রমাণ। কেননা হারানো উট তার কুড়িয়ে পাওয়া লোকের তদারকির মুখাপেক্ষী নয়। পিপাসা সহ্য করা তার স্বভাবসিদ্ধ ব্যাপার। আর তার ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণে সহজেই গাছ থেকে পাতা খেতে সক্ষম। কাজেই তার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া তার মালিকের পক্ষে তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ। উসমান (রা) এর আমল পর্যন্ত এই নিয়মই চালু ছিলো। উসমান (রা) যখন দেখলেন, হারানো উট কুড়ানো ও বিক্রয় চলছে, তখন মালিক এলে উটের মূল্য নিয়ে নিত।
ইবনে শিহাব যুহরি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর আমলে হারানো উট ব্যাপক সংখ্যায় থাকতো এবং তা দিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করা হতো। উসমান (রা) এর আমলে এগুলো নিয়ে প্রচার করার আদেশ দেয়া হতো। প্রচারের পর বিক্রয় করা হতো। মালিক এলে তাকে তার মূল্য দেয়া হতো। (মুয়াত্তা-ই ইমাম মালিক)।
উসমান (রা) এরপর আলি (রা) এগুলোর জন্য একটা ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিন এবং সেখানে তাকে সংরক্ষণ করা ও এমনভাবে ঘাস খাওয়ানোর আদেশ দিন যেন বেশি মোটা না হয়, কৃশও না হয়। তারপর কেউ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাকে দেয়া হতো। নচেৎ যেমন ছিলো তেমন থাকতো। বিক্রয় করা হতো না। ইবনুল মুসাইয়াব এই পন্থাই পছন্দ করতেন। গরু, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের বিধান ইমাম শাফেয়ি ও আহমদের নিকট উটের মতো। (তবে ইমাম শাফেয়ি অল্পবয়স্ক গুলো কুড়িয়ে নেয়া জায়েয মনে করতেন।) ইমাম আবু হানিফা বলেন: এগুলো কুড়ানো জায়েয। ইমাম মালেক বলেন: এগুলোর উপর হিংস্র প্রাণীর হামলার ভয় থাকলে কুড়ানো জায়েয, নতুবা জায়েয নেই।
📄 হারানো প্রাণীর ব্যয়
হারানো প্রাণী কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তার জন্য যা কিছু ব্যয় করবে, তা তার মালিকের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে। তবে সে যদি তার দুধ দোহন ও পিঠে আরোহণ করার বিনিময়ে ব্যয় করে তবে তা আদায় করতে পারবে না।