📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খাবার জিনিস ও পশণ্য জিনিসের ব্যতিক্রম

📄 খাবার জিনিস ও পশণ্য জিনিসের ব্যতিক্রম


উপরে যা কিছু বলা হলো, তা শুদ্ধ খাবার ও নগণ্য জিনিস বাদে অন্যান্য জিনিস সংক্রান্ত। খাবার জিনিস নিয়ে প্রচারের প্রয়োজন নেই। তা খাওয়া জায়েয। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত: রসূল (সা) রাস্তায় কিছু ফলমূলের মধ্য দিয়ে যাত্রাকালে বললেন: এই ফলগুলো সদকার হতে পারে এই আশংকা যদি না থাকতো, তবে আমি এই ফল খেতাম।' (বুখারি, মুসলিম)।
অনুরূপ কোনো নগণ্য জিনিস হলে তা নিয়েও এক বছর প্রচার চালানোর প্রয়োজন নেই, বরং এতটা সময় প্রচার চালানো যথেষ্ট, যার পরে মালিক আর দাবি করবে না বলে ধারণা জন্মে। মালিকের খোঁজ না পাওয়া গেলে যে ব্যক্তি কুড়িয়ে নিয়েছে, তার জন্য জিনিসটি ব্যবহার করা জায়েয। জাবির (রা) বলেন: 'লাঠি, চাবুক, রশি ও এ জাতীয় জিনিস কুড়িয়ে পেলে তা ব্যবহার করতে রসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।' (আহমদ, আবুদাউদ)।
আলি (রা) বলেন: তিনি রাস্তায় পাওয়া এক দিনার নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গেলে তিনি বললেন: এটি সম্পর্কে তিন দিন প্রচার চালাও। তিনি তিন দিন প্রচার চালালেন, কিন্তু কেউ এলোনা। তখন রসূল (সা) বললেন: 'এখন তুমি ওটা খাও।' (আব্দুর রাজ্জাক)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হারানো ছাগল ভেড়া

📄 হারানো ছাগল ভেড়া


হারানো ছাগল-ভেড়া নেয়া জায়েয। কেননা এটা দুর্বল প্রাণী, ধ্বংসের ঝুঁকি প্রবণ এবং হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে এ সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। মালিক যদি দাবি নিয়ে না আসে, তবে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তা নিতে পারে। অবশ্য মালিককে এজন্য জরিমানা দিতে হবে। মালেকি মযহাব মতে, যে কুড়িয়ে পাবে, সে দখলে নেয়া মাত্রই তার মালিক হবে, মালিক এলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। অবশ্য এটা সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে মালিক প্রাণীটি খাওয়ার পরে দাবি নিয়ে আসে। খাওয়ার আগে এলে সর্বসম্মত ভাবে ফেরত দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হারানো উট, গরু, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর

📄 হারানো উট, গরু, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর


আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, হারানো উট কুড়িয়ে নেয়া জায়েয নেই। ইতিপূর্বে যায়েদ ইবনে খালিদ বর্ণিত হাদিস এর প্রমাণ। কেননা হারানো উট তার কুড়িয়ে পাওয়া লোকের তদারকির মুখাপেক্ষী নয়। পিপাসা সহ্য করা তার স্বভাবসিদ্ধ ব্যাপার। আর তার ঘাড় লম্বা হওয়ার কারণে সহজেই গাছ থেকে পাতা খেতে সক্ষম। কাজেই তার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া তার মালিকের পক্ষে তাকে খুঁজে পাওয়া সহজ। উসমান (রা) এর আমল পর্যন্ত এই নিয়মই চালু ছিলো। উসমান (রা) যখন দেখলেন, হারানো উট কুড়ানো ও বিক্রয় চলছে, তখন মালিক এলে উটের মূল্য নিয়ে নিত।
ইবনে শিহাব যুহরি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর আমলে হারানো উট ব্যাপক সংখ্যায় থাকতো এবং তা দিয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করা হতো। উসমান (রা) এর আমলে এগুলো নিয়ে প্রচার করার আদেশ দেয়া হতো। প্রচারের পর বিক্রয় করা হতো। মালিক এলে তাকে তার মূল্য দেয়া হতো। (মুয়াত্তা-ই ইমাম মালিক)।
উসমান (রা) এরপর আলি (রা) এগুলোর জন্য একটা ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিন এবং সেখানে তাকে সংরক্ষণ করা ও এমনভাবে ঘাস খাওয়ানোর আদেশ দিন যেন বেশি মোটা না হয়, কৃশও না হয়। তারপর কেউ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাকে দেয়া হতো। নচেৎ যেমন ছিলো তেমন থাকতো। বিক্রয় করা হতো না। ইবনুল মুসাইয়াব এই পন্থাই পছন্দ করতেন। গরু, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের বিধান ইমাম শাফেয়ি ও আহমদের নিকট উটের মতো। (তবে ইমাম শাফেয়ি অল্পবয়স্ক গুলো কুড়িয়ে নেয়া জায়েয মনে করতেন।) ইমাম আবু হানিফা বলেন: এগুলো কুড়ানো জায়েয। ইমাম মালেক বলেন: এগুলোর উপর হিংস্র প্রাণীর হামলার ভয় থাকলে কুড়ানো জায়েয, নতুবা জায়েয নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হারানো প্রাণীর ব্যয়

📄 হারানো প্রাণীর ব্যয়


হারানো প্রাণী কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তার জন্য যা কিছু ব্যয় করবে, তা তার মালিকের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে। তবে সে যদি তার দুধ দোহন ও পিঠে আরোহণ করার বিনিময়ে ব্যয় করে তবে তা আদায় করতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00