📄 হারাম শরীফের লাওয়ারিস সম্পদ
এতক্ষণ যা কিছু বলা হলো, তা হারাম শরীফ ব্যতীত অন্যান্য স্থানে পাওয়া লাওয়ারিশ জিনিস সংক্রান্ত। হারাম শরীফের লাওয়ারিশ সম্পদ শুধু মাত্র প্রচারের জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'মক্কার লাওয়ারিশ সম্পদ শুধু সেই ব্যক্তি কুড়াতে পারবে, যে তার কথা প্রচার করবে।' (লাওয়ারিশ সম্পদ যেখানে পাওয়া যায় সেখানে যদি এমন বিশ্বস্ত সরকার থাকে, যার ভেতরে তার রক্ষণাবেক্ষণের সুপ্রসিদ্ধ স্থান ও ব্যবস্থা রয়েছে, তবে সেই সরকারের নিকট ওটা সমর্পণ করা জায়েয। কেননা ওটাই জনগণের পক্ষে সহজতর ও নিরাপদতর ব্যবস্থা।)
📄 লাওয়ারিস সম্পদের প্রচার
যে ব্যক্তি লাওয়ারিশ সম্পদ কুড়িয়ে নেবে, তার জন্য উক্ত সম্পদের সেই সব আলামত অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে অবহিত হওয়া কর্তব্য, যা দ্বারা তাকে অন্যান্য জিনিস থেকে বেছে পৃথক করা যায়। যেমন তা কী পাত্রে রক্ষিত ছিলো এবং কী দিয়ে বাঁধা ছিলো। অনুরূপ তার শ্রেণী, জাতীয়তা ও পরিমাণও সুনির্দিষ্টভাবে জেনে নেয়া কর্তব্য। অত:পর তাকে তার নিজের মালামালের মতই সংরক্ষণ করতে হবে, চাই তা যতই মূল্যবান বা নগণ্য জিনিস হোক। জিনিসটি যে ব্যক্তি কুড়িয়েছে তার কাছে আমানত স্বরূপ থাকবে। নিজের বাড়াবাড়ির কারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে তা ধ্বংস হলে সে তার জন্য দায়ী হবে না। তাকে সমগ্র ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, বাজারে ও যেখানে যেখানে তার মালিকের থাকার সম্ভাবনা আছে, সর্বত্র জিনিসটি সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। মালিক যদি আসে এবং তার সঠিক আলামতগুলো বলে, যা দ্বারা তাকে অন্যান্য জিনিস থেকে পৃথক করা যায়, তবে সাক্ষ্য প্রমাণ না দেখালেও তাকে জিনিসটি দেয়া যাবে। আর যদি মালিক না আসে তবে এক বছর পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে হবে। এক বছরেও যদি মালিকের খোঁজ না পাওয়া যায় তবে তা সদকা করে দেয়া বা নিজে ব্যবহার করা জায়েয হবে, চাই সে ধনী হোক বা দরিদ্র হোক। সে জিনিসটির জন্য দায়ী হবে না। কেননা ইমাম বুখারি ও তিরমিযি সুয়াইদ ইবনে গাফলা থেকে বর্ণনা করেন, সুয়াইদ বলেন: আমি আওস ইবনে কাবেরের সাথে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেন: আমি একশো দিনার ভর্তি একটা থলি পেয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে গেলাম। তিনি বলেন: থলিটি সম্পর্কে এক বছর ঘোষণা দিতে থাক। আমি এক বছর ব্যাপী প্রচার চালাতে লাগলাম, কিন্তু মালিককে পেলাম না। অত:পর তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেন: জিনিসটির পাত্র ও রশি সংরক্ষণ কর। অত:পর মালিক এলে তাকে দিও, নচেৎ নিজেই ব্যবহার কর।'
ঘনবসতিতে পাওয়া লাওয়ারিশ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এক বছর ধরে জিনিসটির প্রচার চালাও। তারপর যদি তার অন্বেষণকারী পাও তবে তাকে দিয়ে দেবে। নচেৎ ওটা তোমার। জিজ্ঞাসাকারী বললো: বিরান স্থানে যা পাওয়া যায়? তিনি বললেন: বিরান স্থানে পাওয়া জিনিসে ও মাটির নীচে প্রোথিত মূল্যবান জিনিসে এক পঞ্চমাংশ।'
📄 খাবার জিনিস ও পশণ্য জিনিসের ব্যতিক্রম
উপরে যা কিছু বলা হলো, তা শুদ্ধ খাবার ও নগণ্য জিনিস বাদে অন্যান্য জিনিস সংক্রান্ত। খাবার জিনিস নিয়ে প্রচারের প্রয়োজন নেই। তা খাওয়া জায়েয। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত: রসূল (সা) রাস্তায় কিছু ফলমূলের মধ্য দিয়ে যাত্রাকালে বললেন: এই ফলগুলো সদকার হতে পারে এই আশংকা যদি না থাকতো, তবে আমি এই ফল খেতাম।' (বুখারি, মুসলিম)।
অনুরূপ কোনো নগণ্য জিনিস হলে তা নিয়েও এক বছর প্রচার চালানোর প্রয়োজন নেই, বরং এতটা সময় প্রচার চালানো যথেষ্ট, যার পরে মালিক আর দাবি করবে না বলে ধারণা জন্মে। মালিকের খোঁজ না পাওয়া গেলে যে ব্যক্তি কুড়িয়ে নিয়েছে, তার জন্য জিনিসটি ব্যবহার করা জায়েয। জাবির (রা) বলেন: 'লাঠি, চাবুক, রশি ও এ জাতীয় জিনিস কুড়িয়ে পেলে তা ব্যবহার করতে রসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন।' (আহমদ, আবুদাউদ)।
আলি (রা) বলেন: তিনি রাস্তায় পাওয়া এক দিনার নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গেলে তিনি বললেন: এটি সম্পর্কে তিন দিন প্রচার চালাও। তিনি তিন দিন প্রচার চালালেন, কিন্তু কেউ এলোনা। তখন রসূল (সা) বললেন: 'এখন তুমি ওটা খাও।' (আব্দুর রাজ্জাক)।
📄 হারানো ছাগল ভেড়া
হারানো ছাগল-ভেড়া নেয়া জায়েয। কেননা এটা দুর্বল প্রাণী, ধ্বংসের ঝুঁকি প্রবণ এবং হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে এ সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। মালিক যদি দাবি নিয়ে না আসে, তবে কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি তা নিতে পারে। অবশ্য মালিককে এজন্য জরিমানা দিতে হবে। মালেকি মযহাব মতে, যে কুড়িয়ে পাবে, সে দখলে নেয়া মাত্রই তার মালিক হবে, মালিক এলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। অবশ্য এটা সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে মালিক প্রাণীটি খাওয়ার পরে দাবি নিয়ে আসে। খাওয়ার আগে এলে সর্বসম্মত ভাবে ফেরত দিতে হবে।