📄 সংজ্ঞা
এমন যে কোনো সম্পদকে লাওয়ারিশ সম্পদ বলা হয়, যা সম্পূর্ণ নির্দোষ, কিন্তু যার ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং যার মালিক কে তা অজ্ঞাত। প্রধানত: অপ্রাণী বস্তু জাতীয় সম্পদকেই এ নামে আখ্যায়িত করা হয়। প্রাণী জাতীয় হলে তাকে বলা হয় হারানো।
📄 বিধান
লাওয়ারিশ সম্পদ কুড়িয়ে নেয়া মুস্তাহাব। কেউ কেউ বলেন, ওয়াজিব। আবার অন্যেরা বলেন: জিনিসটা যদি এমন জায়গায় থাকে, যেখানে রেখে দিলেও নিরাপদ থাকবে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে তা কুড়িয়ে নেয়া মুস্তাহাব, আর যদি নিরাপদ থাকবে বলে নিশ্চিত হওয়া না যায় তবে কুড়িয়ে নেয়া ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি লাওয়ারিশ জিনিসটি দেখে সে যদি বুঝতে পারে যে, বাড়ি নিয়ে গেলে সে নিজেই তার লোভে পড়ে যাবে, তবে তার জন্য কুড়িয়ে নেয়া হারাম। এই মতভেদ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক, চাই মুসলমান হোক বা অমুসলিম। সে যদি স্বাধীন, প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক না হয়, তবে সে লাওয়ারিশ সম্পদ কুড়িয়ে নিতে বাধ্য নয়। যায়দ ইবনে খালিদ (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস এ সংক্রান্ত মূলনীতি নির্দেশক। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট এসে লাওয়ারিশ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন: 'যে পাত্রে জিনিসটি ছিলো এবং যে রশি দিয়ে তা বাঁধা ছিলো, সেই দুটোই সংরক্ষণ কর। তারপর এক বছর ধরে ওটির প্রাপ্তি সংবাদ প্রচার করতে থাক। জিনিসটির মালিক যদি এসে পড়ে তবে দিয়ে দেবে। নচেৎ ওটা তুমি ব্যবহার করবে। (পাত্র ও রশি সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো, ওটা যেন কুড়িয়ে নেয়া লোকটির মালামালের সাথে মিশে না যায় এবং আলাদা থাকে। তা ছাড়া মালিক এলে তার কাছে জিনিসটির আলামতসমূহ জিজ্ঞাসা করে তার দাবি সত্য না মিথ্যা তা যেন যাচাই করা যায়।) লোকটি বললো: হারিয়ে যাওয়া ছাগল বা ভেড়া হলে? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটা তোমার, নতুবা তোমার ভাই এর (অর্থাৎ তার মালিকের বা অন্য কোনো কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তির) অথবা হিংস্র প্রাণীর। লোকটি বললো: যদি হারিয়ে যাওয়া বস্তুটি উট হয়? রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তাকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দাও। তার সাথে পানির ভান্ডার রয়েছে, তার পায়ে মোজা রয়েছে, সে পানি পান করবে, গাছ খাবে, অত:পর এক সময় তার মালিকের সাক্ষাৎ পাবে।' (বুখারি)।
📄 হারাম শরীফের লাওয়ারিস সম্পদ
এতক্ষণ যা কিছু বলা হলো, তা হারাম শরীফ ব্যতীত অন্যান্য স্থানে পাওয়া লাওয়ারিশ জিনিস সংক্রান্ত। হারাম শরীফের লাওয়ারিশ সম্পদ শুধু মাত্র প্রচারের জন্য কুড়ানো জায়েয আছে। কেননা রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন; 'মক্কার লাওয়ারিশ সম্পদ শুধু সেই ব্যক্তি কুড়াতে পারবে, যে তার কথা প্রচার করবে।' (লাওয়ারিশ সম্পদ যেখানে পাওয়া যায় সেখানে যদি এমন বিশ্বস্ত সরকার থাকে, যার ভেতরে তার রক্ষণাবেক্ষণের সুপ্রসিদ্ধ স্থান ও ব্যবস্থা রয়েছে, তবে সেই সরকারের নিকট ওটা সমর্পণ করা জায়েয। কেননা ওটাই জনগণের পক্ষে সহজতর ও নিরাপদতর ব্যবস্থা।)
📄 লাওয়ারিস সম্পদের প্রচার
যে ব্যক্তি লাওয়ারিশ সম্পদ কুড়িয়ে নেবে, তার জন্য উক্ত সম্পদের সেই সব আলামত অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে অবহিত হওয়া কর্তব্য, যা দ্বারা তাকে অন্যান্য জিনিস থেকে বেছে পৃথক করা যায়। যেমন তা কী পাত্রে রক্ষিত ছিলো এবং কী দিয়ে বাঁধা ছিলো। অনুরূপ তার শ্রেণী, জাতীয়তা ও পরিমাণও সুনির্দিষ্টভাবে জেনে নেয়া কর্তব্য। অত:পর তাকে তার নিজের মালামালের মতই সংরক্ষণ করতে হবে, চাই তা যতই মূল্যবান বা নগণ্য জিনিস হোক। জিনিসটি যে ব্যক্তি কুড়িয়েছে তার কাছে আমানত স্বরূপ থাকবে। নিজের বাড়াবাড়ির কারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে তা ধ্বংস হলে সে তার জন্য দায়ী হবে না। তাকে সমগ্র ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, বাজারে ও যেখানে যেখানে তার মালিকের থাকার সম্ভাবনা আছে, সর্বত্র জিনিসটি সম্পর্কে প্রচার চালাতে হবে। মালিক যদি আসে এবং তার সঠিক আলামতগুলো বলে, যা দ্বারা তাকে অন্যান্য জিনিস থেকে পৃথক করা যায়, তবে সাক্ষ্য প্রমাণ না দেখালেও তাকে জিনিসটি দেয়া যাবে। আর যদি মালিক না আসে তবে এক বছর পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে হবে। এক বছরেও যদি মালিকের খোঁজ না পাওয়া যায় তবে তা সদকা করে দেয়া বা নিজে ব্যবহার করা জায়েয হবে, চাই সে ধনী হোক বা দরিদ্র হোক। সে জিনিসটির জন্য দায়ী হবে না। কেননা ইমাম বুখারি ও তিরমিযি সুয়াইদ ইবনে গাফলা থেকে বর্ণনা করেন, সুয়াইদ বলেন: আমি আওস ইবনে কাবেরের সাথে সাক্ষাত করলাম। তিনি বললেন: আমি একশো দিনার ভর্তি একটা থলি পেয়ে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে গেলাম। তিনি বলেন: থলিটি সম্পর্কে এক বছর ঘোষণা দিতে থাক। আমি এক বছর ব্যাপী প্রচার চালাতে লাগলাম, কিন্তু মালিককে পেলাম না। অত:পর তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট গেলাম। তখন তিনি বললেন: জিনিসটির পাত্র ও রশি সংরক্ষণ কর। অত:পর মালিক এলে তাকে দিও, নচেৎ নিজেই ব্যবহার কর।'
ঘনবসতিতে পাওয়া লাওয়ারিশ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: এক বছর ধরে জিনিসটির প্রচার চালাও। তারপর যদি তার অন্বেষণকারী পাও তবে তাকে দিয়ে দেবে। নচেৎ ওটা তোমার। জিজ্ঞাসাকারী বললো: বিরান স্থানে যা পাওয়া যায়? তিনি বললেন: বিরান স্থানে পাওয়া জিনিসে ও মাটির নীচে প্রোথিত মূল্যবান জিনিসে এক পঞ্চমাংশ।'