📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবর দখলকৃত ভূমিতে নির্মাণ কিংবা চাষাবাদ

📄 জবর দখলকৃত ভূমিতে নির্মাণ কিংবা চাষাবাদ


জবর দখলকৃত ভূমিতে চাষাবাদ করলে ফসল ভূমির মালিকের প্রাপ্য, আর জবর দখলকারী পাবে শুধু চাষাবাদের খরচ। এ ব্যবস্থা কেবল তখন প্রযোজ্য, যখন ফসল কাটা হয়নি। ফসল কাটা হয়ে গেলে ভূমির মালিক শুধু ভূমির ভাড়া পাবে। আর যদি গাছের চারা রোপণ করা হয় তবে চারা উপড়ে ফেলতে হবে এবং নির্মাণের কাজ করা হয়ে থাকলে তা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।
রাফে ইবনে খাদীজ (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি অন্য কারো জমিতে তার বিনা অনুমতিতে চাষাবাদ করে, তার ঐ জমির ফসল কিছু প্রাপ্য নেই। তবে তার যা খরচ হয়েছে, তা তার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।' -আবু দাউদ, ইবনে মাজা, তিরমিযি ও আহমদ। (ইমাম আহমদ বলেন: যুক্তির বিরুদ্ধে হলেও আমি শুধু হাদিসের অনুসরণে এই মত অবলম্বন করি।) আবু দাউদ ও দারু কুতনি উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কোনো পতিত জমি আবাদ করবে, সে জমি তার হবে। তবে কোনো জবরদখলকারী তার ঘাম ঝরানোর জন্য কোনো অধিকার পাবে না।'
বর্ণনাকারী বলেন: যে ব্যক্তি আমাকে এ হাদিস শুনিয়েছে, সে জানিয়েছে যে, দুই ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে তাদের বিবাদ মীমাংসার জন্য উপস্থিত হয়। তাদের একজন অপর জনের জমিতে খেজুরের গাছ লাগিয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সা) জমির মালিককে তার জমি বুঝিয়ে দিলেন এবং খেজুর গাছওয়ালাকে তার গাছ উপড়ে ফেলার আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: 'আমি দেখলাম, গাছটির শেকড়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে এবং তা ছিলো লম্বা খেজুর গাছ।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ

📄 জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ


যেহেতু জবর দখল হারাম, তাই জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া হারাম, চাই যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন। বস্তুটি থেকে আরো কিছু যদি উৎপন্ন হয়ে থাকে, তবে উৎপন্ন বস্তু তার সাথে যুক্ত থাক বা বিচ্ছিন্ন থাক, তা ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক। সামুরা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে হাত কারো জিনিস অপহরণ করেছে, তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকবে।' -আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম ও ইবনে মাজা। নতুন উৎপন্ন বস্তুটি যদি জবরদখলকারীর চেষ্টার ফল হয়ে থাকে তবে কোনো কোনো আলিম সেটিকে জবরদখলকারী ও মালিকের মধ্যে মুদারাবার নিয়মে বণ্টন করার পক্ষে। জবরদখলকৃত জিনিস যদি ধ্বংস হয়ে যায় তবে তার সমমূল্যের জিনিস বা মূল্য মালিককে ফেরত দেয়া জবরদখলকারীর উপর ওয়াজিব, চাই তার কাজ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধ্বংস হোক। মালেকি মযহাব মতে, অস্থাবর সম্পত্তি ও জীবজন্তু প্রভৃতি, যা ওজন বা মাপ করা হয় না, তা জবরদখল করার পর ধ্বংস হয়ে গেলে তার মূল্য ফেরত দেয়া ওয়াজিব। হানাফি ও শাফেয়ি মযহাব অনুসারে যে ব্যক্তি তা নষ্ট করবে বা ভোগ করবে, তার উপর সমমূল্যের জিনিস ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক। যখন সমমূল্যের জিনিস পাওয়া যাবে না কেবল তখনই এর ব্যতিক্রম করা যাবে। ফকিহগণ একমত যে, ওজন করা হয় বা মাপা হয় এমন জিনিস জবরদখল করা হলে এবং তারপর তা নষ্ট হলে তার সমমূল্যের জিনিস প্রাপ্তি সাপেক্ষে সমমূল্যের জিনিস ফেরত দিতে হবে। কেননা আল্লাহ্ বলেন: فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمُ 'সুতরাং যে কেউ তোমাদের উপর আক্রমণ করলে, তোমরাও তার উপর অনুরূপ আক্রমণ করবে।'
জবরদখলকৃত জিনিস ফেরত দেয়ার ব্যয়ভার ও শ্রম যতই হোক, তা জবরদখল কারীকেই বহন করতে হবে। আর জবরদখলকৃত বস্তু যদি হ্রাসপ্রাপ্ত হয় তবে যতো টুকু হ্রাস পেয়েছে ততোটুকু মূল্যে ফেরত দিতে হবে, চাই বস্তুটি আকৃতিতে হ্রাস পাক বা গুণবৈশিষ্টে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ

📄 সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ


যখন কারো সম্পদ অন্য কেউ লুণ্ঠন করতে সচেষ্ট হয়, তখন তার সেই চেষ্টা প্রতিহত করা ওয়াজিব। অপেক্ষাকৃত মৃদু পন্থায় প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু তাতে কাজ নাহলে কঠোরতর পন্থায় প্রতিহত করতে হবে, তাতে যদি মারামারি ও খুনাখুনি পর্যন্ত গড়ায় তবুও। রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহিদ। যে ব্যক্তি নিজের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজের ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।' (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে ব্যক্তি তার সম্পদ অন্যের কাছে পাবে, সে তার অধিকতর হকদার

📄 যে ব্যক্তি তার সম্পদ অন্যের কাছে পাবে, সে তার অধিকতর হকদার


যার সম্পদ জবরদখল হয়েছে, সে যদি তার সম্পদ অন্য কারো কাছে পায় তবে সে-ই ঐ সম্পদের সর্বাপেক্ষা হকদার, যদিও জবরদখলকারী তার কাছে বিক্রয় করে থাকে। কেননা জবরদখলকারী যখন বিক্রয় করেছে, তখন সে ঐ সম্পদের মালিক ছিল না। কাজেই এই বিক্রয় শুদ্ধ ছিলনা। এরূপ ক্ষেত্রে ক্রেতা জবরদখলকারীর কাছ থেকে তার দেয়া মূল্য ফেরত আনতে পারবে। আবু দাউদ ও নাসায়ি সামুরা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি তার হুবহু সম্পদ অন্যের কাছে পাবে, সে ঐ সম্পদের সবচেয়ে বেশি হকদার। আর ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য ফেরত আনবে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00