📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


জবর দখল হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্যের সম্পদ বা অধিকার জোর পূর্বক ও শক্তি প্রয়োগে হস্তগত করা ও দখল করা। (কারো মাল তার রক্ষণাবেক্ষণের স্থান থেকে গোপনে নেয়া হলে তাকে বলা হয় চুরি। ঔদ্ধত্য সহকারে নিলে তা হয় লুণ্ঠন, প্রভাব বিস্তার করে নিলে তা হয় আত্মসাৎ, আর নিজের কাছে আমানত হিসাবে রক্ষিত জিনিস এরূপ করলে তাকে বলা হয় খেয়ানত।)
আল্লাহ্ সূরা কাহফ্ফের ৭৯ নং আয়াতে বলেন: أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسْكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيْبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُمْ مَلِكَ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا 'নৌকাটির ব্যাপার হলো, ওটা ছিলো কতিপয় দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো। আমি ইচ্ছা করলাম, নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে। কারণ তাদের সম্মুখে ছিলো এক রাজা, যে বলপ্রয়োগে সকল নৌকা ছিনিয়ে নিতো।' (অর্থাৎ ভালো নৌকা ছিনিয়ে নিতো।)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবর দখল সম্পর্কে শরিয়তের বিধি

📄 জবর দখল সম্পর্কে শরিয়তের বিধি


এটা হারাম এবং এ ধরনের কাজ যে করে সে গুনাহগার। আল্লাহ্ বলেন:
وَلَا تَكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ 'তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা।' (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)।
১. বুখারি ও মুসলিম বর্ণিত বিদায় হজ্জের ভাষণে রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: 'তোমাদের পরস্পরের রক্ত, সহায়-সম্পদ, ও মান-সম্মান তোমাদের উপর হারাম আজকের এই দিনে আজকের এই মাসেও তোমাদের এই নগরীতে যেমন হারাম।'
২. বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় ব্যভিচার করেনা। মদখোর যখন মদ পান করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় মদ পান করেনা। চোর যখন চুরি করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় চুরি করেনা। কোনো লুটেরা যখন লুণ্ঠন করে এবং লোকেরা তার দিকে চোখ মেলে তাকায়, তখন সে মুমিন অবস্থায় লুণ্ঠন করেনা।'
৩. সায়েব ইবনে ইয়াযীদ সুত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'তোমাদের কেউ যেন কোনোক্রমেই তার ভাইয়ের সম্পদ খেলাচ্ছলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অপহরণ না করে। তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের লাঠি নিয়ে থাকলে সে যেন তা তাকে ফেরত দিয়ে দেয়।' (আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি)।
৪. দারুকুতনিতে আনাস (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'কোনো মুসলমানের সম্পদ সে খুশী মনে না দিলে হালাল হয়না।'
৫. রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্পদ অপহরণ করবে, আল্লাহ তার উপর দোযখ অবধারিত ও বেহেশত হারাম করবেন। এক ব্যক্তি বললো: হে রসূলুল্লাহ্। নগণ্য জিনিস হলেও? তিনি বললেন: এমনকি আরাক গাছের একটা ডালও যদি হয়।'
৬. বুখারি ও মুসলিম আয়েশা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন, রসূল (সা) বলেন; যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমি জবর দখল করবে, আল্লাহ সাতটি পৃথিবী তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবর দখলকৃত ভূমিতে নির্মাণ কিংবা চাষাবাদ

📄 জবর দখলকৃত ভূমিতে নির্মাণ কিংবা চাষাবাদ


জবর দখলকৃত ভূমিতে চাষাবাদ করলে ফসল ভূমির মালিকের প্রাপ্য, আর জবর দখলকারী পাবে শুধু চাষাবাদের খরচ। এ ব্যবস্থা কেবল তখন প্রযোজ্য, যখন ফসল কাটা হয়নি। ফসল কাটা হয়ে গেলে ভূমির মালিক শুধু ভূমির ভাড়া পাবে। আর যদি গাছের চারা রোপণ করা হয় তবে চারা উপড়ে ফেলতে হবে এবং নির্মাণের কাজ করা হয়ে থাকলে তা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।
রাফে ইবনে খাদীজ (রা) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি অন্য কারো জমিতে তার বিনা অনুমতিতে চাষাবাদ করে, তার ঐ জমির ফসল কিছু প্রাপ্য নেই। তবে তার যা খরচ হয়েছে, তা তার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।' -আবু দাউদ, ইবনে মাজা, তিরমিযি ও আহমদ। (ইমাম আহমদ বলেন: যুক্তির বিরুদ্ধে হলেও আমি শুধু হাদিসের অনুসরণে এই মত অবলম্বন করি।) আবু দাউদ ও দারু কুতনি উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: যে ব্যক্তি কোনো পতিত জমি আবাদ করবে, সে জমি তার হবে। তবে কোনো জবরদখলকারী তার ঘাম ঝরানোর জন্য কোনো অধিকার পাবে না।'
বর্ণনাকারী বলেন: যে ব্যক্তি আমাকে এ হাদিস শুনিয়েছে, সে জানিয়েছে যে, দুই ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে তাদের বিবাদ মীমাংসার জন্য উপস্থিত হয়। তাদের একজন অপর জনের জমিতে খেজুরের গাছ লাগিয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সা) জমির মালিককে তার জমি বুঝিয়ে দিলেন এবং খেজুর গাছওয়ালাকে তার গাছ উপড়ে ফেলার আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: 'আমি দেখলাম, গাছটির শেকড়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে এবং তা ছিলো লম্বা খেজুর গাছ।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ

📄 জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ


যেহেতু জবর দখল হারাম, তাই জবর দখলকৃত বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া হারাম, চাই যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন। বস্তুটি থেকে আরো কিছু যদি উৎপন্ন হয়ে থাকে, তবে উৎপন্ন বস্তু তার সাথে যুক্ত থাক বা বিচ্ছিন্ন থাক, তা ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক। সামুরা বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে হাত কারো জিনিস অপহরণ করেছে, তা ফেরত না দেয়া পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকবে।' -আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম ও ইবনে মাজা। নতুন উৎপন্ন বস্তুটি যদি জবরদখলকারীর চেষ্টার ফল হয়ে থাকে তবে কোনো কোনো আলিম সেটিকে জবরদখলকারী ও মালিকের মধ্যে মুদারাবার নিয়মে বণ্টন করার পক্ষে। জবরদখলকৃত জিনিস যদি ধ্বংস হয়ে যায় তবে তার সমমূল্যের জিনিস বা মূল্য মালিককে ফেরত দেয়া জবরদখলকারীর উপর ওয়াজিব, চাই তার কাজ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধ্বংস হোক। মালেকি মযহাব মতে, অস্থাবর সম্পত্তি ও জীবজন্তু প্রভৃতি, যা ওজন বা মাপ করা হয় না, তা জবরদখল করার পর ধ্বংস হয়ে গেলে তার মূল্য ফেরত দেয়া ওয়াজিব। হানাফি ও শাফেয়ি মযহাব অনুসারে যে ব্যক্তি তা নষ্ট করবে বা ভোগ করবে, তার উপর সমমূল্যের জিনিস ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক। যখন সমমূল্যের জিনিস পাওয়া যাবে না কেবল তখনই এর ব্যতিক্রম করা যাবে। ফকিহগণ একমত যে, ওজন করা হয় বা মাপা হয় এমন জিনিস জবরদখল করা হলে এবং তারপর তা নষ্ট হলে তার সমমূল্যের জিনিস প্রাপ্তি সাপেক্ষে সমমূল্যের জিনিস ফেরত দিতে হবে। কেননা আল্লাহ্ বলেন: فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمُ 'সুতরাং যে কেউ তোমাদের উপর আক্রমণ করলে, তোমরাও তার উপর অনুরূপ আক্রমণ করবে।'
জবরদখলকৃত জিনিস ফেরত দেয়ার ব্যয়ভার ও শ্রম যতই হোক, তা জবরদখল কারীকেই বহন করতে হবে। আর জবরদখলকৃত বস্তু যদি হ্রাসপ্রাপ্ত হয় তবে যতো টুকু হ্রাস পেয়েছে ততোটুকু মূল্যে ফেরত দিতে হবে, চাই বস্তুটি আকৃতিতে হ্রাস পাক বা গুণবৈশিষ্টে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00