📄 সংজ্ঞা ও বিধান
গচ্ছিত সম্পদ সে সম্পদ বুঝায়, যা মানুষ অন্যের কাছে সংরক্ষণের জন্য জমা রাখে।
গচ্ছিত সম্পদ জমা রাখা ও জমা দেয়া দুটোই জায়েয। যে ব্যক্তি এর সংরক্ষণে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত, তার পক্ষে গচ্ছিত রাখা মুস্তাহাব। গচ্ছিত সম্পদ নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করা রক্ষকের উপর ওয়াজিব। এর মালিক যখনই চাইবে তখনই তা ফেরত দেয়া কর্তব্য। আল্লাহ বলেন: 'তোমাদের একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত প্রত্যর্পণ করে এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে।' (সূরা বাকারা-২: আয়াত ২৮৩)।
ইতিপূর্বে এ হাদিসটিও উল্লেখ করা হয়েছে: 'যে ব্যক্তি তোমাকে বিশ্বাস করেছে, তার নিকট আমানত ফিরিয়ে দাও।'
ক্ষতিপূরণ: গচ্ছিত সম্পদের রক্ষক তার রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা না করে থাকলে কিংবা গচ্ছিত ধনের বিরুদ্ধে অপরাধ না করে থাকলে তার ক্ষয়ক্ষতি পূরণে দায়ী হবে না। ইতিপূর্বে দারু কুতনি বর্ণিত হাদিস এর প্রমাণ।
আর আমর ইবনে শূয়াইব বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কোনো গচ্ছিত সম্পদ সংরক্ষণ করে, তার উপর কোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় নেই।' (ইবনে মাজা)। বায়হাকি বর্ণিত অপর হাদিসে রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'আমানত রক্ষকের উপর কোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় নেই।'
একটি থলি বা ব্যাগে রক্ষিত গচ্ছিত ধন থলি বা ব্যাগ ছিঁড়ে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আবু বকর (রা) রায় দিয়েছিলেন যে, এর কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
উরওয়া ইবনে যুবায়ের আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমানের নিকট বনুমুসয়াবের কিছু সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন। আবু বকরের নিকট উক্ত সম্পদ পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তখন উরওয়া তাকে বার্তা পাঠালেন: 'তোমাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। তুমি তো কেবল আমানত রক্ষক।' আবু বকর বললেন: আমি জানতাম, আমার উপর ক্ষতিপূরণের দায় নেই, তবে তুমি কুরাইশকে জানতে দেবে না যে, আমার আমানত নষ্ট হয়েছে।' অত:পর তিনি কিছু জিনিস কিনে ফেরত দিলেন।
📄 আমানত রক্ষকের বক্তব্য তার শপথ সহকারে গৃহীত হবে
আমানত রক্ষক যখন দাবি করবে, তার কাছে রাখা গচ্ছিত সম্পদ তার কোনো বাড়াবাড়ি ছাড়াই ধ্বংস হয়েছে তখন সে এই দাবি শপথ সহকারে করলে তা গৃহীত হবে। ইবনুল মুন্যির এ মতের স্বপক্ষে তার পরিচিত ফকিহদের ইজমা দাবি করেছেন।
📄 পহিত সম্পদ চুরি হওয়ার দাবি করলে
ইবনে তাইমিয়ার 'ফাওয়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'যে ব্যক্তি দাবি করবে, সে তার নিজের সম্পদের সাথে একত্রে গচ্ছিত সম্পদ সংরক্ষণ করেছে এবং তার নিজের মাল ছাড়া শুধু গচ্ছিত সম্পদ চুরি হয়েছে তাকে চুরি হওয়া গচ্ছিত সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।'
উমর (রা) আনাস (রা) কে এমন একটি গচ্ছিত সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিতে দায়ী করেছিলেন, যার সম্পর্কে আনাস (রা) দাবি ছিলো যে, চুরি হয়েছে কিন্তু তার নিজের মাল চুরি হয়নি।
📄 গচ্ছিত সম্পদ রক্ষকের মৃত্যু হলে
যে ব্যক্তি মারা যায় এবং প্রমাণিত হয় যে, তার কাছে অন্য একজনের সম্পদ গচ্ছিত ছিলো, কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা, সে ঐ সম্পদের ঋণ হিসাবে দায়বদ্ধ থাকবে এবং তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করা হবে। আর যখন মৃত ব্যক্তির হস্তলিখিত স্বীকারোক্তি পাওয়া যাবে যে, তার নিকট কারো সম্পদ আমানত ছিলো, তখন তাকে দায়ী করা হবে। কেননা পরিচিত হস্তাক্ষরে লিখিত স্বীকারোক্তি মৌখিক স্বীকারোক্তির মতোই।