📄 ধার দেয়ার শর্তাবলী
এর বৈধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ জরুরি:
১. ধারদাতাকে সেচ্ছায় দান করার যোগ্য হতে হবে।
২. যে জিনিসটি ধার দেয়া হবে, তা যেন স্থিতিশীল হওয়ার সাথে সেবা দানের যোগ্য হয়।
৩. সেবা বা উপকারিতা বৈধ হওয়া চাই।
📄 ধার দেয়া জিনিস পুন ধার দেয়া ও ভাড়া দেয়া
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক বলেন: ধার দেয়া জিনিসটি যদি এমন হয় যে, ব্যবহারকারীর ব্যবহারে তাতে কোনো পরিবর্তন সূচিত হয় না, তাহলে তা ধার নেয়ার পর ধারদাতার অনুমতি ব্যতিরেকে অন্যকে ধার দেয়া বৈধ।
হাম্বলি মযহাব অনুসারে ধার নেয়া জিনিস দ্বারা শুধু ধারগ্রহীতা নিজে বা তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি উপকৃত হতে পারবে। মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে তা অন্য কাউকে ধার বা ভাড়া দিতে পারবে না। মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে যদি দ্বিতীয় ব্যক্তিকে ধার দেয় এবং জিনিসটি দ্বিতীয় ব্যক্তির নিকট নষ্ট হয়, তাহলে মালিক দুজনের যাকে ইচ্ছা দায়ী করতে পারবে। তবে দ্বিতীয় জনের উপরই দায় স্থির হবে। কেননা সে দায় মেনে নিয়েই তা নিজের দখলে নিয়েছে এবং তার হাতেই ধ্বংস হয়েছে। তাই দায় তার উপরই বর্তাবে। একজন লুটেরার নিকট থেকে যখন আরেক লুটেরা লুট করে তখন দ্বিতীয় লুটেরাই দায়ী হয়।
📄 ধারদাতা কখন তার জিনিস তলব করতে পারবে
ধারদাতা ধার গ্রহীতার ক্ষতি না হয় এমন উপায়ে যখন ইচ্ছা তার জিনিস ফেরত চাইতে পারে। ফেরত চাওয়ায় যদি ধার গ্রহীতার ক্ষতির আশংকা থাকে, তবে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে তাকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ফেরত নেয়া বিলম্বিত করবে।
📄 কখন ফেরত দেয়া জরুরি
ধার নেয়া জিনিসের সেবা গ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর তা ফেরত দেয়া ধারগ্রহীতার অবশ্য কর্তব্য। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন: ইন আল্লাহ্ ইয়া'মুরুকুম আন তু'আদ্দু আল-আমানাত ইলা আহলিহা 'আল্লাহ্ হকদারের নিকট আমানত প্রত্যর্পণ করতে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন।' (সূরা নিসা: ৫৮)
আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: 'যে ব্যক্তি তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার কাছে আমানত ফেরত দাও, আর যে ব্যক্তি তোমার আমানতের খেয়ানত করেছে, তুমি তার খেয়ানত করো না।' (আবুদাউদ, তিরমিযি)।
আবুদাউদ ও তিরমিযি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: 'ধার অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।'