📄 প্রতিনিধি কর্তৃক নিজের জন্য ক্রয় করা
প্রতিনিধিকে যখন কোনো জিনিস বিক্রয়ের কাজে নিযুক্ত করা হয় তখন তার পক্ষে ঐ জিনিস নিজের জন্য ক্রয় করা কি বৈধ? ইমাম মালেক বলেন: মূল্য একটু বাড়িয়ে সে নিজের জন্য ক্রয় করতে পারে। ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমদ বলেন: এটা জায়েয নয়। কেননা মানুষ স্বভাবতই নিজের জন্য সস্তায় কিনতে উদগ্রীব হয়ে থাকে। অথচ মুয়াক্কেলের উদ্দেশ্য হলো বর্ধিত মূল্যে বিক্রয় করা। অথচ এ দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল নেই।
📄 ক্রয়ের কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ
ক্রয়ের কাজে নিযুক্ত প্রতিনিধির উপর যদি মুয়াক্কেল শর্ত আরোপ করে থাকে, তবে সেই শর্ত অবশ্যই পালনীয়, চাই সে শর্ত ক্রীত পণ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা মূল্যের সাথে। সে যদি শর্ত লংঘন করে তাকে যা কিনতে বলা হয়েছে, তার পরিবর্তে অন্য কিছু কেনে, অথবা মুয়াক্কেলের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে কেনে, তবে সেটা তার নিজের ক্রয় হবে, মুয়াক্কেলের নয়। শর্ত লংঘন করে যদি উৎকৃষ্টতর কিছু কেনা হয় বা অধিকতর সস্তা মূল্যে কেনা হয় তাহলে তা জায়েয। উরওয়া আল বারেকি (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) তাকে একটা ছাগল বা অন্য কোনো কুরবানীর জন্তু ক্রয়ের জন্য এক দিনার দিলেন। উরওয়া এক দিনার দিয়ে দুটো ছাগল কিনলেন। ঐ দুটো ছাগলের একটা তিনি এক দিনারে বিক্রয় করে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট একটা ছাগল ও এক দিনার নিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) তার বিক্রয়ে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এর ফল হলো এই যে, তিনি মাটি কিনলেও তাতে মুনাফা হতো। (বুখারি, আবুদাউদ, তিরিমিযি)।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মুয়াক্কেল যদি প্রতিনিধিকে এক দিনার দিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের একটা ছাগল কিনতে বলে এবং সে সেই ধরনের দু'টা ছাগল এক দিনার দিয়ে কেনে, তবে তা জায়িয হবে। কেননা মুয়াক্কেলের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে এবং প্রতিনিধি তার জন্য অতিরিক্ত কিছু মংগলজনক কাজ করেছে। অনুরূপ, তাকে যদি একটা ছাগল এক দিরহামে বিক্রয় করার আদেশ দেয় এবং সে সেটি দুই দিরহামে বিক্রয় করে অথবা এক দিরহামে কিনতে বলে এবং সে অধিক দিরহামে কিনে আনে, তবে তাও জায়েয। ইমাম নবাবি বলেছেন, শাফেয়ি মযহাব মোতাবেক এই মতই শুদ্ধ। আর যদি শর্তহীনভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বা অতিরিক্ত ঠকা মূল্যে আয় করা প্রতিনিধির জন্য বৈধ নয়। প্রতিনিধি যখন শর্ত লংঘন করবে, তখন তার ক্রয় কার্যকর হবে না, বরং ঐ ক্রয় তার নিজের জন্য হবে।
📄 প্রতিনিধিত্ব চুক্তির পরিসমাপ্তি
প্রতিনিধিত্বের চুক্তি নিম্নোক্ত কারণে শেষ হয়:
১. চুক্তির দুই পক্ষের যে কোনো এক পক্ষের মৃত্যু বা পাগল হওয়া। কেননা প্রতিনিধিত্বের অন্যতম শর্ত হলো জীবিত থাকা ও সুস্থমস্তিষ্ক থাকা। মৃত্যু ঘটলে বা পাগল হলে চুক্তির বৈধতার ভিত্তি ধ্বসে যায়।
২. প্রতিনিধিত্ব দ্বারা যে কাজ সমাধা করা কাম্য, তার সমাপ্তি। কেননা যে কাজের জন্য প্রতিনিধিত্বের সৃষ্টি, সে কাজ যখন শেষ হয়ে যাবে, তখন আর প্রতিনিধিত্বের কোনো অর্থ থাকবে না।
৩. মুয়াক্কেল কর্তৃক প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা, এমনকি এটা যদি তার অজান্তেও হয়। (এটা শাফেয়ি ও হাম্বলি মযহাবের অভিমত। বরখাস্ত হওয়ার পর তার কাছে মুয়াক্কেলের যা থাকবে তা আমানত গণ্য হবে।)
হানাফি মযহাব অনুসারে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রতিনিধির অবগত হওয়া জরুরি। অবগত হওয়ার পূর্বে তার করা সকল কাজ বরখাস্ত হওয়ার পূর্বের কাজের মতো।
৪. প্রতিনিধির পদত্যাগ: এ ক্ষেত্রে প্রতিনিধির পদত্যাগের কথা মুয়াক্কেলের জানা শর্ত নয়। কিন্তু হানাফিদের মতানুসারে এটা তার জানা শর্ত, যাতে সে কোনো ক্ষতির শিকার না হয়।
৫. যে জিনিসের ব্যাপারে তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয়েছে, তা মুয়াক্কেলের মালিকানা থেকে বেরিয়ে যাওয়া।