📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস আদায়ে প্রতিনিধির নিয়োগ

📄 কিসাস আদায়ে প্রতিনিধির নিয়োগ


কিসাস আদায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলেন: শুধু মুয়াক্কেলের উপস্থিতিতেই এটা বৈধ, তার অনুপস্থিতিতে বৈধ নয়। কেননা মুয়াক্কেলই তার প্রাপ্য অধিকারের মালিক। সে উপস্থিত থাকলে ক্ষমা করেও দিতে পারতো। তাই এই বিষয়ে সংশয় থাকার পরিপ্রেক্ষিতে কিসাস আদায় উকিলের জন্য বৈধ নয়। ইমাম মালেক বলেন: মুয়াক্কেল অনুপস্থিত থাকলেও কিসাস আদায় করা জায়েয। ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি মতের মধ্যে সঠিক মত এটাই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিক্রয়ের প্রতিনিধি

📄 বিক্রয়ের প্রতিনিধি


যে ব্যক্তি তার পক্ষে কোনো জিনিস বিক্রয় করার জন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, সে যদি মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই শর্তহীনভাবে নিযুক্ত করে এবং বাকি বা নগদ বিক্রয় করবে কিনা তা উল্লেখ না করেই করে। তবে সে শুধু প্রচলিত মূল্যে ও নগদে বিক্রয় করতে পারবে। সে যদি এমন মূল্যে বিক্রয় করে, যা সচরাচর ঠকা বিবেচিত হয়না, অথবা বাকিতে বিক্রয় করে তবে মুয়াক্কেলের সম্মতি ছাড়া সেই বিক্রয় বৈধ হবেনা। কেননা এটা তার স্বার্থের পরিপন্থী। কাজেই সে এটা ফেরত চাইতে পারবে। শর্ত আরোপ না করার অর্থ প্রতিনিধিকে যা ইচ্ছে তাই করার স্বাধীনতা দেয়া নয়, বরং তার অর্থ হলো, ব্যবসায়ীদের নিকট পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য এবং মুয়াক্কেলের জন্য অধিকতর উপকারী ধরনের বিক্রয়। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা বলেন, নগদ বা বাকি, প্রচলিত মূল্যে বা ঠকা মূল্যে এবং দেশে প্রচলিত মুদ্রায় বা অন্য মুদ্রায় যেভাবেই বিক্রয় করুক বৈধ হবে। কেননা এটাই শর্ত আরোপ না করার অর্থ। কারণ মানুষ অনেক সময় তার মালিকানাধীন কোনো কোনো জিনিস অত্যধিক সস্তা দামে বিক্রয় করে হলেও তা থেকে নিস্তার পেতে আগ্রহী হয়ে থাকে। অবশ্য প্রতিনিধি নিয়োগ যখন শর্তহীনভাবে সম্পন্ন হয়, এটা তখনকার জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু যখন শর্ত আরোপ করে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়, তখন মুয়াক্কেলের আরোপিত শর্ত পূরণ করেই প্রতিনিধির কাজ করা বাধ্যতামূলক। তার অন্যথা করা তার জন্য বৈধ নয়। তবে মুয়াক্কেলের জন্য অধিকতর লাভজনক হয় এমন কিছু করলে বৈধ। যথা, মুয়াক্কেল যদি একটা নির্দিষ্ট মূল্য বেঁধে দেয়, আর সে তার চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রয় করে, অথবা তাকে যদি বলে, এটা বাকিতে বিক্রয় কর, কিন্তু সে নগদে বিক্রয় করে, তবে বিক্রয় শুদ্ধ হবে।
শর্ত লংঘনপূর্বক মুয়াক্কেলের জন্য অধিকতর লাভজনকভাবে বিক্রয় করতে নাপারলে সে বিক্রয় ইমাম শাফেয়ির মতে বাতিল হবে। হানাফিগণ মনে করেন, মুয়াক্কেল সম্মতি দিলে শুদ্ধ হবে, নচেৎ বাতিল হবে। (হাম্বলি আলেমদের মতে প্রতিনিধি যদি নির্ধারিত মূল্য বা প্রচলিত মূল্যের চেয়ে এত বেশি মূল্যে ক্রয় করে, যা জনগণের জন্য সাধারণত ঠকা বলে বিবেচিত হয় না, তাহলে মুয়াক্কেলের জন্য সেই ক্রয় শুদ্ধ হবে, তবে বাড়তি মূল্য দেয়ার জন্য প্রতিনিধি দায়ী হবে। ক্রয় ও বিক্রয় শুদ্ধতায় একই রকম। বিক্রয় কম মূল্যে করলে তার জন্যও প্রতিনিধি দায়ী হবে, যেমন বেশি মূল্যে আয়ের জন্য প্রতিনিধি দায়ী হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিনিধি কর্তৃক নিজের জন্য ক্রয় করা

📄 প্রতিনিধি কর্তৃক নিজের জন্য ক্রয় করা


প্রতিনিধিকে যখন কোনো জিনিস বিক্রয়ের কাজে নিযুক্ত করা হয় তখন তার পক্ষে ঐ জিনিস নিজের জন্য ক্রয় করা কি বৈধ? ইমাম মালেক বলেন: মূল্য একটু বাড়িয়ে সে নিজের জন্য ক্রয় করতে পারে। ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ি ও আহমদ বলেন: এটা জায়েয নয়। কেননা মানুষ স্বভাবতই নিজের জন্য সস্তায় কিনতে উদগ্রীব হয়ে থাকে। অথচ মুয়াক্কেলের উদ্দেশ্য হলো বর্ধিত মূল্যে বিক্রয় করা। অথচ এ দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ক্রয়ের কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ

📄 ক্রয়ের কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ


ক্রয়ের কাজে নিযুক্ত প্রতিনিধির উপর যদি মুয়াক্কেল শর্ত আরোপ করে থাকে, তবে সেই শর্ত অবশ্যই পালনীয়, চাই সে শর্ত ক্রীত পণ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা মূল্যের সাথে। সে যদি শর্ত লংঘন করে তাকে যা কিনতে বলা হয়েছে, তার পরিবর্তে অন্য কিছু কেনে, অথবা মুয়াক্কেলের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে কেনে, তবে সেটা তার নিজের ক্রয় হবে, মুয়াক্কেলের নয়। শর্ত লংঘন করে যদি উৎকৃষ্টতর কিছু কেনা হয় বা অধিকতর সস্তা মূল্যে কেনা হয় তাহলে তা জায়েয। উরওয়া আল বারেকি (রা) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা) তাকে একটা ছাগল বা অন্য কোনো কুরবানীর জন্তু ক্রয়ের জন্য এক দিনার দিলেন। উরওয়া এক দিনার দিয়ে দুটো ছাগল কিনলেন। ঐ দুটো ছাগলের একটা তিনি এক দিনারে বিক্রয় করে রসূলুল্লাহ্ (সা) এর নিকট একটা ছাগল ও এক দিনার নিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) তার বিক্রয়ে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এর ফল হলো এই যে, তিনি মাটি কিনলেও তাতে মুনাফা হতো। (বুখারি, আবুদাউদ, তিরিমিযি)।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মুয়াক্কেল যদি প্রতিনিধিকে এক দিনার দিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের একটা ছাগল কিনতে বলে এবং সে সেই ধরনের দু'টা ছাগল এক দিনার দিয়ে কেনে, তবে তা জায়িয হবে। কেননা মুয়াক্কেলের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে এবং প্রতিনিধি তার জন্য অতিরিক্ত কিছু মংগলজনক কাজ করেছে। অনুরূপ, তাকে যদি একটা ছাগল এক দিরহামে বিক্রয় করার আদেশ দেয় এবং সে সেটি দুই দিরহামে বিক্রয় করে অথবা এক দিরহামে কিনতে বলে এবং সে অধিক দিরহামে কিনে আনে, তবে তাও জায়েয। ইমাম নবাবি বলেছেন, শাফেয়ি মযহাব মোতাবেক এই মতই শুদ্ধ। আর যদি শর্তহীনভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বা অতিরিক্ত ঠকা মূল্যে আয় করা প্রতিনিধির জন্য বৈধ নয়। প্রতিনিধি যখন শর্ত লংঘন করবে, তখন তার ক্রয় কার্যকর হবে না, বরং ঐ ক্রয় তার নিজের জন্য হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00