📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ

📄 কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ


কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ, সে ব্যাপারে ফকিহগণ একটা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন। মূলনীতিটি হলো: 'মানুষের নিজের জন্য যে চুক্তি সম্পাদন করা বৈধ, সে চুক্তি সম্পাদনের জন্য তার প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ। কিন্তু যে কাজ অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ নেই, সে কাজে প্রতিনিধিত্ব বৈধ নয়। যেমন নামায, শপথ, পবিত্রতা। এসব কাজে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েয নেই। কেননা এ সব কাজের উদ্দেশ্যই হলো, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক মানুষের পরীক্ষা করা। অন্যকে দিয়ে করালে এ উদ্দেশ্য সফল হয় না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিনিধি দায়িত্বশীল

📄 প্রতিনিধি দায়িত্বশীল


যখন প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পন্ন হবে তখন যে কাজের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে, সে কাজে সে দায়িত্বশীল হবে। তবে নিজের অবহেলা বা বাড়াবাড়ি ব্যতীত কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী হবে না এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেলে সে সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। (অবহেলার উদাহরণ হলো: পণ্য বিক্রয় করা ও মূল্য গ্রহণ না করেই পণ্য ক্রেতাকে অর্পণ করা, অথবা পণ্যকে নিজে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বা অরক্ষিত স্থানে রাখা।)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা

📄 দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা


ঋণ, সম্পত্তির দাবি ও যাবতীয় পাওনা সংক্রান্ত দাবিদাওয়া আদায় করার জন্য প্রতিনিধি তথা উকিল নিয়োগ করা বৈধ, চাই মুয়াক্কেল (প্রতিনিধি নিয়োগকর্তা) অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত হোক, চাই সে পুরুষ বা স্ত্রী হোক, এবং চাই প্রতিপক্ষ তাতে সম্মত হোক বা না হোক। কেননা পাওনা আদায়ের চেষ্টা মুয়াক্কেলের ঐকান্তিক অধিকার। ইচ্ছা করলে সে নিজেই এ চেষ্টা করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে নিজের পক্ষ হতে অন্য কাউকে এ কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, দাবি আদায়ের জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি বা উকিল তার মুয়াক্কেলের পক্ষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে পারে কি? আর আদালতের রায়ে মুয়াক্কেলের জন্য ঘোষিত সম্পত্তি কি উকিল দখলে নিতে পারে? এর জবাব নিম্নে উল্লেখ করা যাচ্ছে:

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মুয়াকেলের পক্ষে উকলের স্বীকারোক্তি

📄 মুয়াকেলের পক্ষে উকলের স্বীকারোক্তি


মুয়াক্কেলের পক্ষে উকিলের স্বীকারোক্তি যদি 'হুদুদ' (শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি) ও 'কিসাস' (মৃত্যুদণ্ড) সংক্রান্ত হয় তবে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়; চাই তা বিচার অধিবেশন চলাকালেই দেয়া হোক বা তার বাইরে। হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে দেয়া হলে ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে বলেছেন যে, বিচার অধিবেশনে ব্যতীত তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার অধিবেশনে দেয়া স্বীকারোক্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলেন: স্বীকারোক্তি বৈধ হবে। তবে মুয়াক্কেল যদি শর্ত দিয়ে থাকে যে, তার বিরুদ্ধে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়া চলবে না তাহলে বৈধ হবে না। অন্য তিনজন ইমাম (শাফেয়ি, মালেক ও আহমদ) বলেন: কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। কেননা স্বীকারোক্তি দেয়া তার ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ তথা অনধিকার চর্চা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00