📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে তার শর্তাবলী

📄 যে কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে তার শর্তাবলী


যে কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে তার শর্ত হলো, কাজটি সম্পর্কে প্রতিনিধির জ্ঞাত থাকা চাই আর অজ্ঞ থাকলেও যেন পুরোপুরি অজ্ঞ না থাকে। তবে নিয়োগকর্তা যদি শর্তহীনভাবে নিয়োগ করে তাহলে পুরোপুরি অজ্ঞ থাকলেও দোষ নেই। যেমন সে যদি বলে: 'তুমি যা ইচ্ছা তা-ই আমার জন্য কিনে নিয়ে এসো।' সেই সাথে এটিও একটি শর্ত যে, কাজটি প্রতিনিধি নিয়োগের উপযুক্ত হওয়া চাই। প্রতিনিধি নিয়োগ এমন যাবতীয় কাজের চুক্তিতে প্রযোজ্য, যে কাজের চুক্তি মানুষ নিজের জন্য করে থাকে, যেমন ক্রয়, বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া দেয়া, ঋণ প্রমাণ করা, মামলা করা, পাওনা দাবি করা, আপোষ মীমাংসা করা, ওজুফা দাবি করা, দান করা, সক্কা করা, বন্ধক দেয়া, বন্ধক রাখা, ধার দেয়া, ধার নেয়া, বিয়ে, তালাক, আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি, চাই প্রতিনিধি নিয়োগকারী উপস্থিত হোক বা অনুপস্থিত হোক এবং পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক।
ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এক ব্যক্তির একটা নির্দিষ্ট বয়সের উট পাওনা ছিলো। সে তার পাওনার দাবি নিয়ে এল। রসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তার প্রাপ্য উটটি দিতে আদেশ দিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়সের উট পাওয়া গেলনা। বরং তার চেয়ে বেশি বয়সের উট পাওয়া গেল। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটাই ওকে দিয়ে দাও। লোকটি বললো: আপনি আমার পাওনা পরিশোধ করেছেন, আল্লাহ্ আপনার পাওনা পরিশোধ করুন। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে উত্তমভাবে পাওনা পরিশোধ করে।
ইমাম কুরতুবি বলেন: এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন সুস্থ ও উপস্থিত ব্যক্তিও প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। কেননা রসূল (সা) তাঁর সাহাবিদেরকে তার পক্ষ থেকে যে বয়সের উট পাওয়া যাচ্ছে তা প্রদানের আদেশ দিলেন। এটা তার পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রতিনিধি নিয়োগের পর্যায়ভুক্ত। অথচ রসূলুল্লাহ্ (সা) রোগীও ছিলেন না, মুসাফিরও ছিলেন না। এ দ্বারা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম সাহ্নুনের এ মত ভুল প্রমাণিত হয় যে, সুস্থ ও উপস্থিত ব্যক্তির পক্ষে প্রতিপক্ষের সম্মতি ব্যতীত প্রতিনিধি নিয়োগ করা অবৈধ। আলোচ্য হাদিস তাদের মত খণ্ডন করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ

📄 কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ


কিসে কিসে প্রতিনিধিত্ব বৈধ, সে ব্যাপারে ফকিহগণ একটা মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন। মূলনীতিটি হলো: 'মানুষের নিজের জন্য যে চুক্তি সম্পাদন করা বৈধ, সে চুক্তি সম্পাদনের জন্য তার প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ। কিন্তু যে কাজ অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ নেই, সে কাজে প্রতিনিধিত্ব বৈধ নয়। যেমন নামায, শপথ, পবিত্রতা। এসব কাজে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েয নেই। কেননা এ সব কাজের উদ্দেশ্যই হলো, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক মানুষের পরীক্ষা করা। অন্যকে দিয়ে করালে এ উদ্দেশ্য সফল হয় না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 প্রতিনিধি দায়িত্বশীল

📄 প্রতিনিধি দায়িত্বশীল


যখন প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পন্ন হবে তখন যে কাজের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়েছে, সে কাজে সে দায়িত্বশীল হবে। তবে নিজের অবহেলা বা বাড়াবাড়ি ব্যতীত কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী হবে না এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেলে সে সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। (অবহেলার উদাহরণ হলো: পণ্য বিক্রয় করা ও মূল্য গ্রহণ না করেই পণ্য ক্রেতাকে অর্পণ করা, অথবা পণ্যকে নিজে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বা অরক্ষিত স্থানে রাখা।)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা

📄 দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিধি বা উকিল নিয়োগ করা


ঋণ, সম্পত্তির দাবি ও যাবতীয় পাওনা সংক্রান্ত দাবিদাওয়া আদায় করার জন্য প্রতিনিধি তথা উকিল নিয়োগ করা বৈধ, চাই মুয়াক্কেল (প্রতিনিধি নিয়োগকর্তা) অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত হোক, চাই সে পুরুষ বা স্ত্রী হোক, এবং চাই প্রতিপক্ষ তাতে সম্মত হোক বা না হোক। কেননা পাওনা আদায়ের চেষ্টা মুয়াক্কেলের ঐকান্তিক অধিকার। ইচ্ছা করলে সে নিজেই এ চেষ্টা করতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে নিজের পক্ষ হতে অন্য কাউকে এ কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, দাবি আদায়ের জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি বা উকিল তার মুয়াক্কেলের পক্ষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে পারে কি? আর আদালতের রায়ে মুয়াক্কেলের জন্য ঘোষিত সম্পত্তি কি উকিল দখলে নিতে পারে? এর জবাব নিম্নে উল্লেখ করা যাচ্ছে:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00