📄 ওকালার শর্তাবলী
ওকালার শর্তাবলী পূরণ করা না হলে ওকালাহ্ শুদ্ধ হবে না। এ সব শর্তের মধ্যে কতক রয়েছে প্রতিনিধির সাথে সংশ্লিষ্ট, কতক রয়েছে নিয়োগকর্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, আবার কতক রয়েছে যে বিষয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে সে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
📄 মুয়াকেল তবা প্রতিনিধি নিয়োগকর্তা সংক্রান্ত শর্তাবলী
মুয়াক্কেলের পক্ষে উকিলের স্বীকারোক্তি যদি 'হুদুদ' (শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি) ও 'কিসাস' (মৃত্যুদণ্ড) সংক্রান্ত হয় তবে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়; চাই তা বিচার অধিবেশন চলাকালেই দেয়া হোক বা তার বাইরে। হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে দেয়া হলে ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে বলেছেন যে, বিচার অধিবেশনে ব্যতীত তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার অধিবেশনে দেয়া স্বীকারোক্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলেন: স্বীকারোক্তি বৈধ হবে। তবে মুয়াক্কেল যদি শর্ত দিয়ে থাকে যে, তার বিরুদ্ধে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়া চলবে না তাহলে বৈধ হবে না। অন্য তিনজন ইমাম (শাফেয়ি, মালেক ও আহমদ) বলেন: কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। কেননা স্বীকারোক্তি দেয়া তার ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ তথা অনধিকার চর্চা।
📄 প্রতিনিধি হওয়ার শর্তাবলী
প্রতিনিধি হওয়ার শর্ত হলো সুস্থ মস্তিষ্ক বুদ্ধিমান হওয়া। পাগল বা ভালোমন্দ বুঝে না এমন বালক হলে তাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ নয়। ভালোমন্দ বুঝতে পারে এমন বালককে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হানাফি মযহাব মতে বৈধ। কেননা সে জাগতিক বিষয়গুলো প্রাপ্তবয়স্কের মতোই আয়ত্ত করেছে। রসূলুল্লাহ্ (সা) এর স্ত্রী উম্মে সালমাকে তার ছেলে আমর অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায়ই রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন।
📄 যে কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে তার শর্তাবলী
যে কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে তার শর্ত হলো, কাজটি সম্পর্কে প্রতিনিধির জ্ঞাত থাকা চাই আর অজ্ঞ থাকলেও যেন পুরোপুরি অজ্ঞ না থাকে। তবে নিয়োগকর্তা যদি শর্তহীনভাবে নিয়োগ করে তাহলে পুরোপুরি অজ্ঞ থাকলেও দোষ নেই। যেমন সে যদি বলে: 'তুমি যা ইচ্ছা তা-ই আমার জন্য কিনে নিয়ে এসো।' সেই সাথে এটিও একটি শর্ত যে, কাজটি প্রতিনিধি নিয়োগের উপযুক্ত হওয়া চাই। প্রতিনিধি নিয়োগ এমন যাবতীয় কাজের চুক্তিতে প্রযোজ্য, যে কাজের চুক্তি মানুষ নিজের জন্য করে থাকে, যেমন ক্রয়, বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া দেয়া, ঋণ প্রমাণ করা, মামলা করা, পাওনা দাবি করা, আপোষ মীমাংসা করা, ওজুফা দাবি করা, দান করা, সক্কা করা, বন্ধক দেয়া, বন্ধক রাখা, ধার দেয়া, ধার নেয়া, বিয়ে, তালাক, আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি, চাই প্রতিনিধি নিয়োগকারী উপস্থিত হোক বা অনুপস্থিত হোক এবং পুরুষ হোক বা স্ত্রী হোক।
ইমাম বুখারি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এক ব্যক্তির একটা নির্দিষ্ট বয়সের উট পাওনা ছিলো। সে তার পাওনার দাবি নিয়ে এল। রসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে তার প্রাপ্য উটটি দিতে আদেশ দিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়সের উট পাওয়া গেলনা। বরং তার চেয়ে বেশি বয়সের উট পাওয়া গেল। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: ওটাই ওকে দিয়ে দাও। লোকটি বললো: আপনি আমার পাওনা পরিশোধ করেছেন, আল্লাহ্ আপনার পাওনা পরিশোধ করুন। রসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে উত্তমভাবে পাওনা পরিশোধ করে।
ইমাম কুরতুবি বলেন: এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, একজন সুস্থ ও উপস্থিত ব্যক্তিও প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। কেননা রসূল (সা) তাঁর সাহাবিদেরকে তার পক্ষ থেকে যে বয়সের উট পাওয়া যাচ্ছে তা প্রদানের আদেশ দিলেন। এটা তার পক্ষ থেকে তাদেরকে প্রতিনিধি নিয়োগের পর্যায়ভুক্ত। অথচ রসূলুল্লাহ্ (সা) রোগীও ছিলেন না, মুসাফিরও ছিলেন না। এ দ্বারা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম সাহ্নুনের এ মত ভুল প্রমাণিত হয় যে, সুস্থ ও উপস্থিত ব্যক্তির পক্ষে প্রতিপক্ষের সম্মতি ব্যতীত প্রতিনিধি নিয়োগ করা অবৈধ। আলোচ্য হাদিস তাদের মত খণ্ডন করে।