📄 ওকালার মূল উপাদান
ওকালাহ্ অন্যান্য চুক্তির মতোই একটা চুক্তি। সুতরাং এর মূল উপাদান ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও প্রস্তাব গ্রহণ) ব্যতীত এটা শুদ্ধ হবে না। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা নেই, বরং যে কোনো কথা বা কাজ দ্বারা প্রতিনিধিত্ব বুঝা গেলেই ওকালত শুদ্ধ হবে। চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষ যে কোনো অবস্থায় ওকালাহ্ চুক্তি বাতিল করারও অধিকারী। কেননা এটা বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়, বরং বৈধ চুক্তি।
📄 শর্তযুক্ত ও শর্তহীন ওকালাহ্
ওকালাহর চুক্তি শর্তহীনভাবে, শর্তযুক্তভাবে, ভবিষ্যতের কোনো কাজের উপর নির্ভরশীল রেখে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত রেখে বা নির্দিষ্ট কাজের উপর নির্ভরশীল রেখেও করা যায়। শর্তহীন ওকালার উদাহরণ হলো: 'তোমাকে অমুক জিনিস কিনতে উকিল তথা প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম।' আর শর্তযুক্ত ওকালাহ্ উদাহরণ, যথা: 'এরূপ যদি ঘটে, তবে তুমি আমার প্রতিনিধি।' ভবিষ্যতের উপর নির্ভরশীল ওকালার উদাহরণ হলো, যথা: 'রমযান মাস সমাগত হলেই তোমাকে আমি প্রতিনিধি নিয়োগ করবো।' নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত ওকালাহর উদাহরণ হলো: 'তোমাকে অমুক কাজে এক বছরের জন্যে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম।' এ হচ্ছে হানাফি ও হাম্বলি মযহাবের মত। শাফেয়ি মযহাব মতে ওকালাহ্ কোনো শর্তের অধীনে জায়েয নেই।
ওকালাহ্ বিনা মজুরিতেও হতে পারে, আবার মজুরির ভিত্তিতেও হতে পারে। মজুরি ভিত্তিক হলে নিয়োগকর্তা এরূপ শর্ত আরোপ করতে পারবে যে, নির্দিষ্ট মেয়াদের পরে ব্যতীত প্রতিনিধি নিজেকে প্রতিনিধিত্ব থেকে মুক্ত করতে পারবে না। করলে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। চুক্তিতে যদি প্রতিনিধির জন্য মজুরি নির্ধারিত হয়, তাহলে সে একজন চাকর বা মজুর গণ্য হবে এবং চাকর সংক্রান্ত যাবতীয় বিধি তার উপর প্রযোজ্য হবে। (কেউ যদি কাউকে বলে: 'এটা দশ মুদ্রায় বিক্রয় কর, বেশি দামে বিক্রয় করতে পারলে বেশিটুকু তোমার' তবে তা বৈধ হবে এবং বেশিটুকু সে পাবে। এটা ইস্হাক প্রমুখের মত, ইবনে আব্বাস এতে কোনো দোষ দেখেন না।
📄 ওকালার শর্তাবলী
ওকালার শর্তাবলী পূরণ করা না হলে ওকালাহ্ শুদ্ধ হবে না। এ সব শর্তের মধ্যে কতক রয়েছে প্রতিনিধির সাথে সংশ্লিষ্ট, কতক রয়েছে নিয়োগকর্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, আবার কতক রয়েছে যে বিষয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছে সে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
📄 মুয়াকেল তবা প্রতিনিধি নিয়োগকর্তা সংক্রান্ত শর্তাবলী
মুয়াক্কেলের পক্ষে উকিলের স্বীকারোক্তি যদি 'হুদুদ' (শরিয়ত নির্ধারিত দণ্ডবিধি) ও 'কিসাস' (মৃত্যুদণ্ড) সংক্রান্ত হয় তবে তা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়; চাই তা বিচার অধিবেশন চলাকালেই দেয়া হোক বা তার বাইরে। হুদুদ ও কিসাস ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে দেয়া হলে ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে বলেছেন যে, বিচার অধিবেশনে ব্যতীত তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার অধিবেশনে দেয়া স্বীকারোক্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা বলেন: স্বীকারোক্তি বৈধ হবে। তবে মুয়াক্কেল যদি শর্ত দিয়ে থাকে যে, তার বিরুদ্ধে কোনো স্বীকারোক্তি দেয়া চলবে না তাহলে বৈধ হবে না। অন্য তিনজন ইমাম (শাফেয়ি, মালেক ও আহমদ) বলেন: কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। কেননা স্বীকারোক্তি দেয়া তার ক্ষমতা বহির্ভূত কাজ তথা অনধিকার চর্চা।