📄 শুফআর হস্তক্ষেপ
শুফআর দাবিদার শুফআর সম্পত্তি হস্তগত করার আগে ক্রেতা ক্রীত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করে থাকলে তা বৈধ। কেননা সে তার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে। এমনকি সে যদি তা বিক্রয় করে দেয় তবে তাও বৈধ। তবে সে ক্ষেত্রে শুফআর দাবিদার দুই বিক্রয়ের যে কোনোটি থেকে তার অধিকার গ্রহণ করতে পারবে।
আর যদি সে উক্ত সম্পত্তি দান, সক্কা, ওয়াকফ, দেনমোহর ইত্যাদি বাবত দিয়ে দেয়, তাহলে শুফআর অধিকার রহিত হবে। কেননা এভাবে যার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। কারণ তার মালিকানাভুক্ত সম্পত্তি কোনো বিনিময় ছাড়াই তার হাতছাড়া হবে। শুফআর দাবিদার শুফয়া গ্রহণের পর ক্রেতা ঐ সম্পত্তিতে কোনো হস্তক্ষেপ করলে সেই হস্তক্ষেপ বাতিল গণ্য হবে। কেননা মালিকানা শুফয়ার দাবিদারের নিকট হস্তান্তরিত হয়েছে।
📄 ক্রেতা যদি ক্রীত সম্পত্তিতে শুফআর দাবি পূর্বে কিছু নির্মাণ করে
ক্রেতা যখন শুফআর দাবিকৃত সম্পত্তিতে শুফআর দাবি বাস্তবায়িত হওয়ার আগে কিছু নির্মাণ বা চারা রোপণ করে, অত:পর শুফআর দাবিদার শুফআর অধিকার পায়, তখন ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে, শুফআর দাবিদার ভাঙ্গা অবস্থায় নির্মিত বস্তুর মূল্য, অথবা উপড়ানো অবস্থায় রোপিত চারার মূল্য পরিশোধ করতে পারবে অথবা ক্রেতাকে ভাঙ্গা ও উপড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবে। ইমাম মালেক বলেন: শুফআর দাবিদার ক্রেতাকে নির্মাণ কার্যের বা রোপিত চারার মূল্য না দেয়া পর্যন্ত শুফআ পাবে না।
📄 শুফআ রহিত করার জন্য আপোস মীমাংসা
শুফআর দাবিদার যদি তার শুফয়ার অধিকার ছেড়ে দিতে আপোসে সম্মত হয় অথবা ক্রেতার নিকট তা বিক্রয় করে দেয়, তবে তার এ কাজ তার শুফআর অধিকার রহিত করবে এবং তার বিনিময়ে ক্রেতার নিকট থেকে কিছু নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিতে সে বাধ্য। এটা ইমাম শাফেয়ির মত। কিন্তু অবশিষ্ট তিন প্রধান ইমামের নিকট এটা জায়েয এবং ক্রেতা তার জন্য যা ব্যয় করেছে, সে তার মালিক হতে পারবে।