📄 অমুসলিম নাগরিকদের জন্যে শুফআ
শুফআ যেমন মুসলমানের প্রাপ্য হয়ে থাকে, তেমনি তা অমুসলিম নাগরিকেরও প্রাপ্য। এটা অধিকাংশ ফকিহের অভিমত। ইমাম আহমদ, হাসান, ও শাবির মতে এটা অমুসলিমের জন্য নয়। কেননা দারু কুতনিতে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: 'কোনো খ্রিষ্টান শুফআর সুবিধা পাবে না।'
📄 বিক্রয়ের পূর্বে অংশীদারের অনুমতি চাওয়া
একজন অংশীদার তার সম্পত্তি বিক্রয়ের পূর্বে তার অপর অংশীদারের অনুমতি গ্রহণ করতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া যদি বিক্রয় করে তবে সে-ই উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ের অধিকতর হকদার। আর যদি সে বিক্রয়ের অনুমতি দেয় এবং বলে: ঐ সম্পত্তিতে আমার কোনো আগ্রহ নেই, তবে বিক্রয়ের পর সে আর তার দাবি করতে পারবে না। এটা রসূলুল্লাহ (সা) এর হুকুমের দাবি এবং কোনোভাবেই এর বিরোধিতার অবকাশ নেই।
১. ইমাম মুসলিম জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন: 'একাধিক ব্যক্তির মালিকানা সম্পত্তি যতোক্ষণ বণ্টিত না হয়, ততক্ষণ রসূলুল্লাহ (সা) তাতে শুফআর বিধান দিয়েছেন, চাই তা বাড়ি হোক বা বাগান। অংশীদারের অনুমতি না নেয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। ইচ্ছা হলে সে কিনবে, নচেৎ বর্জন করবে। তার অনুমতি ছাড়া বিক্রয় করলে সে-ই উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ে অধিকতর হকদার।'
২. ইয়াহিয়া ইবনে আদম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: যার কোনো বাড়িতে বা বাগানের মালিকানায় অংশ আছে, সে অংশীদারের অনুমতি ব্যতীত তার অংশ বিক্রয় করতে পারবে না। সে ইচ্ছা করলে কিনবে, না হয় বর্জন করবে।'
ইমাম ইবনে হাযম বলেন: 'যার কোনো সম্পত্তির মালিকানায় অংশ আছে, তার পক্ষে তার অন্যান্য শরীকদেরকে না জানিয়ে বিক্রয় করা বৈধ নয়। শরীক যদি অন্যের দেয়া মূল্যে কিনতে ইচ্ছুক হয় তবে শরীকের অধিকারই সর্বাধিক। আর যদি কিনতে না চায় তবে তার অধিকার রহিত হবে এবং অত:পর সে যার কাছেই বিক্রয় করুক, শরীকের তাতে কোনো দাবি জানানোর অধিকার থাকবে না। শরীকদেরকে না জানিয়ে যদি বিক্রয় করে তবে শরীক ইচ্ছা করলে সেই বিক্রয় বহাল রাখতে পারবে অথবা বিক্রয় বাতিল করে যে মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে সেই মূল্যে নিজের জন্যে রেখে দিতে পারবে।'
ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন: এটা রসূলুল্লাহ (সা) এর ফায়সালা, এর বিরোধিতা করার অধিকার কারো নেই। এটাই অকাট্য, চূড়ান্ত ও সঠিক।' কতিপয় শাফেয়ি ফকিহ কিছু সংখ্যক আলিমের বক্তব্য এই যে, শরীকদেরকে জানিয়ে বিক্রয় করা মুস্তাহাব। নববী বলেন: জানিয়ে বিক্রয় করা মুস্তাহাব এবং না জানিয়ে বিক্রয় করা মাকরূহ, হারাম নয়।
📄 বিক্রয়ের অধিকার রহিত করার জন্য ছল চাতুরির আশ্রয় নেয়া
শুফআর অধিকার রহিত করার জন্য ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয়া জায়েয নেই। কেননা এতে মুসলমানের অধিকার নষ্ট করা হয়। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: 'ইহুদিরা যে অন্যায় করতো তোমরা তা করো না, ছল-চাতুরির মাধ্যমে আল্লাহ হারাম বস্তুকে হালাল করে নেবে না।' এটা ইমাম মালেক ও আহমদের মত। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ি মনে করেন, ছল-চাতুরির আশ্রয় নেয়া বৈধ। শুফআর অধিকার হরণে ছল-চাতুরির উদাহরণ হলো: যার কাছে সম্পত্তি বিক্রয় করবে তাকে সম্পত্তির কিছু অংশের মালিক বলে স্বীকার করে নেবে, এই স্বীকৃতি দ্বারা সে শরীকে পরিণত হবে, তারপর অবশিষ্ট অংশ তার কাছে বিক্রয় অথবা দান করবে।
📄 শুফআর শর্তাবলী
শুফআর অধিকার বলে সম্পত্তি হস্তগত করার জন্যে নিম্নোক্ত শর্তাবলী প্রযোজ্য:
প্রথম শর্ত: শুফআর দাবিযুক্ত সম্পত্তি অবশ্যই জমি, বাড়ি বা তার সাথে সংযুক্ত কোনো স্থাবর সম্পত্তি হওয়া চাই। কেননা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, জাবির (রা) বলেন: বণ্টিত হয়নি এমন প্রত্যেক যৌথ সম্পত্তি যথা বাড়ি বা বাগানে রসূলুল্লাহ (সা) শুফআর পক্ষে ফায়সালা করেছেন, এটা অধিকাংশ ফকিহের মত। মক্কাবাসী ও যাহেরি ফকিহগণ এর বিরোধী। ইমাম আহমদের কথিত একটি মতও এর বিরোধী। তাঁরা বলেন: সব ধরনের সম্পত্তিতেই শুফআর অধিকার রয়েছে। কেননা জমিতে শরীকের যে ক্ষতির আশংকা রয়েছে, তা অস্থাবর সম্পত্তিতে হওয়ার আশংকা আছে। এক বর্ণনায় জাবির (রা) বলেন: রসূলুল্লাহ (সা) 'সকল জিনিসেই শুফআ চালু আছে।'
ইবনে হাযম এই মতের সমর্থনে বলেন: অবণ্টিত যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির প্রত্যেক বিক্রীত অংশে শুফআ ওয়াজিব, চাই তা দু'জন বা ততোধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন হোক এবং বিভাজ্য বা অবিভাজ্য যেমনই হোক, যেমন জমি, এক বা একাধিক গাছ, দাস বা দাসী, তরবারী, খাদ্য, জন্তু, বা অন্য যে কোনো বিক্রীত জিনিস।
দ্বিতীয় শর্ত: শাফী বা শুফআর দাবিদারকে অবশ্যই শুফআর দাবিভুক্ত সম্পত্তিতে সম্পত্তি বিক্রয়ের আগে থেকেই শরীক থাকতে হবে এবং উভয় শরীকের শরীকানাভুক্ত অংশ অচিহ্নিত অবস্থায় থাকতে হবে। কেননা জাবির (রা) বলেন: ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি এমন প্রত্যেক সম্পত্তিতে রসূলুল্লাহ (সা) শুফআর পক্ষে ফায়সালা করেছেন। যখন সীমা নির্ধারিত ও রাস্তা পরিবর্তিত হয়ে যাবে তখন আর শুফআর অধিকার থাকবে না। (পাঁচটি সহিহ হাদিস গ্রন্থ কর্তৃক বর্ণিত)
অর্থাৎ প্রত্যেক যৌথ মালিকানাধীন অবিভক্ত সম্পত্তিতে শুফআ আছে। যখন ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাবে, সীমানা নির্ধারিত হবে ও রাস্তা চিহ্নিত হবে, তখন আর শুফআর অধিকার থাকবে না।
শুফআ যেহেতু শরীকের জন্যে প্রতিষ্ঠিত, তাই তা প্রত্যেক বণ্টনযোগ্য সম্পত্তিতে শুফআ থাকবে এবং শরীককে বণ্টনে বাধ্য করা হবে। তবে সে জন্যে এই শর্ত প্রযোজ্য যে, বন্টনের আগে তা দ্বারা যেভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব ছিলো, বণ্টনের পরও যেন তা দ্বারা তদ্রূপ উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়। সুতরাং ভাগবাটোয়ারা হলে উপকারিতা নষ্ট হয় এমন সম্পত্তিতে শুফআ দেয়া হবেনা। 'মিনহাজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'বাটোয়ারার পর কাংখিত উপকারিতা পাওয়া যাবে না এমন সম্পত্তিতে শুফআ নেই, যেমন গোসলখানা, যাঁতাকল ইত্যাদি।' ইমাম মালেক ইবনে শিহাব ও সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণনা করেন: যে সম্পত্তি শরীকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি, সেই সম্পত্তিতে রসূলুল্লাহ (সা) শুফআর অধিকার দিয়েছেন। শরীকদের মধ্যে সীমানা নির্ধারিত হয়ে গেলে তখন আর কোনো শুফআ থাকবে না।' এটা আলি, উসমান, উমার, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব, সুলায়মান ইবনুল ইয়াসার, উমর ইবনে আব্দুল আযিয, রবিয়া, মালেক, শাফেয়ি, আহমদ, ইসহাক, উবাইদুল্লাহ্ ইবনুল হাসান ও ইমামিয়া মযহাবের ফকিহদের অভিমত।
'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আলেমগণ একমত যে, বণ্টনযোগ্য সম্পত্তিতে যখন কোনো শরীক বণ্টনের আগে তার অংশ বিক্রয় করবে, তখন শুফআ দেয়া হবে, যে মূল্যে তা বিক্রয় হয়েছে, সেই মূল্যে অন্য শরীকগণ তা কিনতে পারবে। কাপড় বা অনুরূপ অন্য কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করলে সেই মূল্যে তা কিনতে হবে।' প্রতিবেশীর জন্যে তাদের মতে শুফআর অধিকার প্রাপ্য নয়।
হানাফি ফকিহগণ এ মতের বিরোধী। তারা বলেন: শুফআ ধারাক্রম অনুসারে প্রাপ্য। প্রথমে যে শরীক তার অংশ ভাগ করে নেয়নি সে পাবে, তারপর যে শরীক ভাগ করে নিয়েছে এবং রাস্তায় বা উঠানে তার কিছু অংশ বাকি রয়েছে, সে পাবে, তারপর পাবে সন্নিহিত প্রতিবেশী।
কিছু সংখ্যক আলেম মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেন। তারা মালিকানাভুক্ত সম্পত্তির কোনো সুযোগ-সুবিধা যথা রাস্তা বা পানিতে অংশীদার থাকা অবস্থায় শুফআর অধিকার দেয়ার পক্ষে প্রমাণ দর্শান। পক্ষান্তরে প্রত্যেকের অংশ চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার পর শুফআর অধিকার থাকবে না বলে মত প্রকাশ করেন। তারা আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা কর্তৃক জাবির (রা) সূত্রে বর্ণিত হাদিস থেকে এর প্রমাণ দর্শান, যাতে রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: দুই প্রতিবেশীর রাস্তা যখন এক থাকে, তখন একে অপরের শুফআর অধিকতর হকদার। একজন অনুপস্থিত থাকলেও অপর জন তার অপেক্ষায় থাকবে।'
ইবনুল কাইয়েম বলেন: জাবির (রা) বর্ণিত হাদিসসমূহ এই বক্তব্য সমর্থন করে। আর উক্ত তিনটি মতই ইমাম আহমদের মযহাবে বিদ্যমান। তন্মধ্যে শেষোক্ত তৃতীয় মতই সর্বাধিক ভারসাম্যপূর্ণ ও উৎকৃষ্ট।'
তৃতীয় শর্ত: যে সম্পত্তিতে শুফআর দাবি পেশ করা হয়েছে, তা বিক্রয় অপরাধের জরিমানা বা অন্য কোনো উপায়ে বিনিময় গ্রহণের মাধ্যমে মালিকের মালিকানা থেকে বের হয়ে যাওয়া জরুরি। দান, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো পন্থায় বিনিময় ব্যতিরেকে মালিকানা থেকে বেরিয়ে গেলে তাতে শুফআ জায়েয কিনা সে ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেক থেকে এ ব্যাপারে তিনটি মত বর্ণিত হয়েছে: একটি মত অনুসারে জায়েয, অপর মত অনুসারে নাজায়েজ, এবং তৃতীয় মত অনুসারে শরীকদের মধ্যে জমি বদল হলে শুফআ নেই, আর অ-শরীকদের মধ্যে হলে শুফআ আছে।
চতুর্থ শর্ত: শাফী বা শুফআর দাবিদারকে সম্ভব হলে বিক্রয়ের খবর জানা মাত্রই শুফআর দাবি জানাতে হবে। জানার পরও যদি বিনা ওযরে বিলম্ব করে তবে তার শুফআ রহিত হবে। কারণ শাফী যদি তাৎক্ষণিকভাবে শুফআর দাবি পেশ না করে এবং তার দাবি বিলম্বিত হয়, তাহলে তাতে ক্রেতার ক্ষতি হবে। কেননা ক্রীত সম্পত্তিতে তার মালিকানা টেকসই হবে না এবং উক্ত সম্পত্তিকে আবাদ করার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ তার চেষ্টা বিফলে যাবে ও শুফআর দাবি বলে কেউ নিয়ে যাবে এই ভয়ে ভীত থাকবে।
এটা ইমাম আবু হানিফার মত, ইমাম শাফেয়ির অগ্রগণ্য মত, এবং ইমাম আহমদের একাধিক বর্ণিত মতের একটি। অবশ্য শুফয়ার দাবিদার যখন অনুপস্থিত থাকবে না, কিংবা বিক্রয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবে না অথবা এই বিধি তার অজানা থাকবে না, কেবল তখনই এই বিধি প্রযোজ্য হবে। সে যদি অনুপস্থিত থাকে কিংবা বিক্রয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে অথবা বিলম্ব করলে শুফআর দাবি রহিত হয় এটা না জানে, তবে তার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। (ইমাম আবু হানিফার দুটি বর্ণিত মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো, বিক্রয়ের খবর জানা মাত্রই দাবি পেশ করা শর্ত নয়। কেননা শুফআর দাবিদারকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা লাগতে পারে। তাই সে সুযোগ তাকে দেয়া জরুরি। আর এ সুযোগ এভাবেই দেয়া সম্ভব যে, যে বৈঠকে সে এ খবর জানবে সেই বৈঠকে সে যতোক্ষণ থাকে, ততোক্ষণ তাকে দাবি পেশ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় দিতে হবে। বৈঠক থেকে না ওঠা ও অন্য কাজে আত্মনিয়োগ না করা পর্যন্ত তার শুফআর অধিকার রহিত হবেনা।)
ইবনে হাযম প্রমুখ মনে করেন, শুফআর অধিকার আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অধিকার। কাজেই সে যদি আশি বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় পর্যন্ত দাবি পেশ না করে তবুও তার অধিকার রহিত হবে না। কেবল সে নিজে দাবি বর্জন করলেই তা রহিত হবে। তিনি মনে করেন, 'শুফআ শুধু সে ব্যক্তিই পায়, যে এ দাবিতে তৎক্ষণাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে' -এমন কথা যারা বলেন, তারা খুবই অশোভন কথা বলেন এবং এ ধরনের উক্তিকে রসূলুল্লাহ (সা) এর উক্তি বলে আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। ইমাম মালেক বলেন: এটা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব নয়, বরং এর সময় যথেষ্ট প্রশস্ত।
ইবনে রুশদ বলেন: এর সময় সীমাহীন না সীমাবদ্ধ, সে সম্পর্কে ইমাম মালেকের মতে বিভিন্নতা রয়েছে। কখনো বলেন: এর সময় সীমাহীন এবং কখনো তা শেষ হয় না। তবে ক্রেতা যদি জমিতে কোনো নির্মাণ কাজ বা ব্যাপক সংস্কার শুরু করে এবং সে তা জেনেও চুপ ও নির্বিকার থাকে তাহলে তার শুফআ দাবি করার সময় থাকবে না।
আবার কখনো তিনি এই সময়কে এক বছর, মতান্তরে এক বছরের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করেন। তাঁর সম্পর্কে এ কথাও বলা হয় যে, তিনি বলেছেন: পাঁচ বছর পর্যন্ত শুফআর অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
পঞ্চম শর্ত: শাফী বা শুফআর দাবিদারকে অবিকল সেই মূল্য ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হবে, যার জন্য সে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জাবির (রা) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: 'ক্রেতা মূল্য পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখে।' (জাওযজানি)
পুরো মূল্য পরিশোধে অক্ষম হলে শুফআর অধিকার রহিত হবে।
ইমাম মালেক ও হাম্বলি মযহাবের ফকিহগণ মনে করেন, সমগ্র মূল্য বা তার অংশ বিশেষ যদি বাকি থেকে থাকে তবে শুফআর দাবিদার তা বাকি রাখতে বা কিস্তিতে দিতে পারবে যেমনটি চুক্তিতে উল্লেখ করা আছে। তবে শর্ত এই যে, তাকে স্বচ্ছল হতে হবে অথবা কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তিকে জামিন করে আনতে হবে। নচেৎ ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মূল্য নগদ পরিশোধ করতে হবে। শাফেয়ি ও হানাফিদের মতে, শুফআর দাবিদার স্বাধীন। সে যদি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পত্তি নিতে চায় তবে তাৎক্ষণিকভাবে নেবে, নচেৎ নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত বিলম্বিত করবে।
ষষ্ঠ শর্ত: শুফআর দাবিদারকে পুরো সম্পত্তি নিতে হবে। সে যদি তার একাংশ নিতে চায় তবে সমগ্র সম্পত্তিতেই তার অধিকার রহিত হবে। শুফআর দাবিদার যদি একাধিক হয় এবং তাদের একজন যদি নিজের হিসসা বর্জন করে তবে অবশিষ্ট দাবিদারকে পুরোটা নিতেই হবে, যাতে ক্রেতার প্রাপ্য বিভক্ত হয়ে না যায়।