📄 বৈধতা
শুফআ হাদিস দ্বারা বৈধ প্রমাণিত। তদুপরি মুসলমানরা এর বৈধতার ব্যাপারে একমত।
ইমাম বুখারি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ (সা) যে জিনিস ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়নি, তাতে শুফআর পক্ষে ফায়সালা করেছেন। কিন্তু যখন সীমানা সৃষ্টি হয়ে যাবে এবং রাস্তার পরিবর্তন হবে, তখন আর শুফআ দেয়া হবেনা।'
📄 যৌক্তিকতা
ইসলাম ক্ষতি নিবারণ ও শত্রুতা রোধ করার উদ্দেশ্য শুফআকে বিধিবদ্ধ করেছে। কেননা যে বিক্রীত বস্তুটি একজন অচেনা ব্যক্তি খরিদ করেছে, অপেক্ষাকৃত নিকটতর ব্যক্তি যদি তার মালিক হয়, তবে সে এই অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারতো, তা থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে।
📄 অমুসলিম নাগরিকদের জন্যে শুফআ
শুফআ যেমন মুসলমানের প্রাপ্য হয়ে থাকে, তেমনি তা অমুসলিম নাগরিকেরও প্রাপ্য। এটা অধিকাংশ ফকিহের অভিমত। ইমাম আহমদ, হাসান, ও শাবির মতে এটা অমুসলিমের জন্য নয়। কেননা দারু কুতনিতে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: 'কোনো খ্রিষ্টান শুফআর সুবিধা পাবে না।'
📄 বিক্রয়ের পূর্বে অংশীদারের অনুমতি চাওয়া
একজন অংশীদার তার সম্পত্তি বিক্রয়ের পূর্বে তার অপর অংশীদারের অনুমতি গ্রহণ করতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া যদি বিক্রয় করে তবে সে-ই উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ের অধিকতর হকদার। আর যদি সে বিক্রয়ের অনুমতি দেয় এবং বলে: ঐ সম্পত্তিতে আমার কোনো আগ্রহ নেই, তবে বিক্রয়ের পর সে আর তার দাবি করতে পারবে না। এটা রসূলুল্লাহ (সা) এর হুকুমের দাবি এবং কোনোভাবেই এর বিরোধিতার অবকাশ নেই।
১. ইমাম মুসলিম জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন: 'একাধিক ব্যক্তির মালিকানা সম্পত্তি যতোক্ষণ বণ্টিত না হয়, ততক্ষণ রসূলুল্লাহ (সা) তাতে শুফআর বিধান দিয়েছেন, চাই তা বাড়ি হোক বা বাগান। অংশীদারের অনুমতি না নেয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। ইচ্ছা হলে সে কিনবে, নচেৎ বর্জন করবে। তার অনুমতি ছাড়া বিক্রয় করলে সে-ই উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ে অধিকতর হকদার।'
২. ইয়াহিয়া ইবনে আদম বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: যার কোনো বাড়িতে বা বাগানের মালিকানায় অংশ আছে, সে অংশীদারের অনুমতি ব্যতীত তার অংশ বিক্রয় করতে পারবে না। সে ইচ্ছা করলে কিনবে, না হয় বর্জন করবে।'
ইমাম ইবনে হাযম বলেন: 'যার কোনো সম্পত্তির মালিকানায় অংশ আছে, তার পক্ষে তার অন্যান্য শরীকদেরকে না জানিয়ে বিক্রয় করা বৈধ নয়। শরীক যদি অন্যের দেয়া মূল্যে কিনতে ইচ্ছুক হয় তবে শরীকের অধিকারই সর্বাধিক। আর যদি কিনতে না চায় তবে তার অধিকার রহিত হবে এবং অত:পর সে যার কাছেই বিক্রয় করুক, শরীকের তাতে কোনো দাবি জানানোর অধিকার থাকবে না। শরীকদেরকে না জানিয়ে যদি বিক্রয় করে তবে শরীক ইচ্ছা করলে সেই বিক্রয় বহাল রাখতে পারবে অথবা বিক্রয় বাতিল করে যে মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছে সেই মূল্যে নিজের জন্যে রেখে দিতে পারবে।'
ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন: এটা রসূলুল্লাহ (সা) এর ফায়সালা, এর বিরোধিতা করার অধিকার কারো নেই। এটাই অকাট্য, চূড়ান্ত ও সঠিক।' কতিপয় শাফেয়ি ফকিহ কিছু সংখ্যক আলিমের বক্তব্য এই যে, শরীকদেরকে জানিয়ে বিক্রয় করা মুস্তাহাব। নববী বলেন: জানিয়ে বিক্রয় করা মুস্তাহাব এবং না জানিয়ে বিক্রয় করা মাকরূহ, হারাম নয়।