📄 অপেক্ষাটি বাধ্যতামূলক অর্থবোধক না মুস্তাহাব সূচক
হাম্বলি মযহাবের বহু সংখ্যক ফকিহ, ইবনে জারীর, আবু সাওর ও যাহেরি মযহাবের মতে, এ আদেশ অনুযায়ী ঋণদাতার উপর ঋণ পরিশোধে সম্মত সামর্থ্যবান ধনী ব্যক্তির নিকট ঋণদাতাকে হাওয়ালা বা সমর্পণ করার প্রস্তাব মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু অধিকাংশ আলেমের মতে এ আদেশ মুস্তাহাব বোধক।
📄 হাওয়ালার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী
হাওয়ালার বিশুদ্ধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ জরুরি:
১. হাওয়ালাকারী (খাতক) ও হাওয়ালাকৃত (ঋণদাতা) এই দুজনের সম্মতি জরুরি। যার নিকট হাওয়ালা করা হয় তার সম্মতি জরুরি নয়। কেননা উপরোক্ত হাদিসে রসূলুল্লাহ (সা) এই দুজনের কথাই উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া যেহেতু যেখান থেকেই সম্ভব ঋণ পরিশোধ করা হাওয়ালাকারীর অপরিহার্য কর্তব্য। এবং হাওয়ালাকৃত (ঋণদাতা) ব্যক্তির হাওয়ালাকারীর নিকট ঋণ পাওনা রয়েছে, তাই তার সম্মতি ব্যতিরেকে হাওয়ালা শুদ্ধ হতে পারে না।
কেউ কেউ বলেন: তার সম্মতি শর্ত নয়। কেননা হাওয়ালার প্রস্তাব গ্রহণ করা হাদিস অনুযায়ী তার জন্য বাধ্যতামূলক। তাছাড়া হাওয়ালাকারীর নিকট থেকেই হোক, বা তার স্থলাভিষিক্ত অন্য কারো নিকট থেকে হোক, সে তার পাওনা আদায় করতে পারে। যে ব্যক্তির নিকট ঋণদাতাকে সমর্পণ করা হয়েছে, তার সম্মতি জরুরি নয় এজন্য যে, হাদিসে রসূলুল্লাহ (সা) তার কথা উল্লেখ করেননি। তবে হানাফি মযহাব ও শাফেয়ি মযহাবের আসতাখালির মতানুযায়ী তার সম্মতিও জরুরি।
২. উভয় প্রাপ্যের শ্রেণী, পরিমাণ, তাৎক্ষণিক বা বিলম্বিত হওয়া, ভালো বা খারাপ মানের হওয়ার দিক দিয়ে সমান হওয়া জরুরি। ঋণ যদি স্বর্ণ হয় আর তা রৌপ্য দ্বারা পরিশোধ করার জন্য যদি হাওয়ালা করা হয় তবে হাওয়ালা শুদ্ধ হবে না। অনুরূপ, ঋণ যদি ত্বরিত পরিশোধ করার কথা থাকে এবং তা বিলম্বে পরিশোধ করার জন্যে অথবা যদি ঋণ বিলম্বে পরিশোধ করার কথা থাকে এবং ত্বরিত পরিশোধ করার জন্য হাওয়ালা করা হয়, তবে হাওয়ালা শুদ্ধ হবে না।
৩. ঋণের স্থিতিশীলতা। সুতরাং এমন কোনো চাকুরিজীবীর নিকট যদি হাওয়ালা করা হয়, যে এখনো বেতন পায়নি, তবে হাওয়ালা শুদ্ধ হবেনা।
৪. উভয় প্রাপ্য উভয়ের নিকট জানা থাকা জরুরি।
📄 হাওয়ালা দ্বারা হাওয়ালাকারীর দায় মোচন হবে কি?
হাওয়ালা যদি শুদ্ধ হয় তবে হাওয়ালাকারী দায়মুক্ত হবে। কিন্তু যার নিকট হাওয়ালা করা হলো সে যদি দেউলে হয়ে যায় কিংবা হাওয়ালা অস্বীকার করে, বা মারা যায়, তাহলে ঋণদাতা খাতকের নিকট কিছুই দাবি করতে পারবে না। এটা অধিকাংশ আলেমের মত।
তবে মালেকি ফকিহগণ বলেন: যে ক্ষেত্রে খাতক ঋণদাতাকে ধোঁকা দিয়ে একজন নি:স্ব ব্যক্তির নিকট হাওয়ালা করবে, সে ক্ষেত্রে সে খাতকের নিকট থেকে প্রাপ্য আদায় করার হকদার।
ইমাম আবু হানিফা ও বিচারপতি শুরাইহ প্রমূখ বলেন: যার নিকট হাওয়ালা করা হয়েছে সে দেউলে অবস্থায় মারা গেলে বা হাওয়ালার কথা অস্বীকার করলে ঋণদাতা খাতকের কাছে নিজের প্রাপ্য দাবি করতে পারবে। উসমান আলবাত্তিও একই মত পোষণ করেন।