📄 ব্যবসাকারী যদি অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে
ব্যবসাকারী যদি অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে
ব্যবসাকারী মূলধনের মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করতে পারবে না। যদি ব্যবসাকারী মূলধনের মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে, তাহলে সে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকতে হবে।
যদি ব্যবসাকারী মূলধনের মালিকের অনুমতি নিয়ে অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে, তাহলে মূলধনের মালিক এবং ব্যবসাকারী উভয়ের সম্মতিক্রমে চুক্তিটি সম্পন্ন হবে।
যদি ব্যবসাকারী মূলধনের মালিকের অনুমতি নিয়ে অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে এবং তাতে লাভ হয়, তাহলে লাভ চুক্তি অনুযায়ী বণ্টিত হবে। যদি ক্ষতি হয়, তাহলে ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে, যদি না ব্যবসাকারীর ভুল বা অবহেলার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে।
যদি ব্যবসাকারী মূলধনের মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্যের নিকট পুঁজি হস্তান্তর করে এবং তাতে লাভ হয়, তাহলে লাভ মূলধনের মালিকের হবে। ব্যবসাকারী কোনো লাভ পাবে না। যদি ক্ষতি হয়, তাহলে ব্যবসাকারী সম্পূর্ণ ক্ষতির দায় বহন করবে।
📄 ব্যবসাকারীর ব্যয়
ব্যবসাকারীর ব্যয়
মুদারাবা চুক্তিতে ব্যবসাকারীর ব্যক্তিগত ব্যয় মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে না। ব্যবসাকারীর ব্যক্তিগত ব্যয় তাকে নিজের উপার্জন থেকে বহন করতে হবে।
তবে যদি চুক্তিটি এমন হয় যে, তাতে ব্যবসাকারীর ব্যয় মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে, তাহলে মূলধনের মালিককে ব্যবসাকারীর ব্যয় বহন করতে হবে। তবে ব্যয় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
যদি ব্যবসাকারীর ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যবসা পরিচালনার জন্য আবশ্যক হয়, যেমন ভ্রমণ ব্যয় বা যোগাযোগের ব্যয়, তাহলে সেই ব্যয় মূলধন থেকে বহন করা যেতে পারে। তবে ব্যয় সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং মূলধনের মালিকের অনুমতি আবশ্যক।
যদি ব্যবসাকারীর ব্যক্তিগত ব্যয় মূলধন থেকে বহন করা হয়, তাহলে সেই ব্যয় লাভ থেকে বাদ দেওয়া হবে। যদি লাভ না হয়, তাহলে সেই ব্যয় মূলধন থেকে বাদ দেওয়া হবে।
📄 মুদারাবা বাতিল করা
মুদারাবা বাতিল করা
মুদারাবা চুক্তি নিম্নলিখিত কারণে বাতিল হতে পারে:
১. চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে: যদি চুক্তিটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হয়, তাহলে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
২. চুক্তির উদ্দেশ্য অর্জিত হলে: যদি চুক্তিটি একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য করা হয়, তাহলে কাজটি সম্পন্ন হয়ে গেলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
৩. উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে: মূলধনের মালিক এবং ব্যবসায়ী উভয়ই সম্মত হলে চুক্তি বাতিল করা যেতে পারে।
৪. কোনো এক পক্ষের চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে: যদি মূলধনের মালিক বা ব্যবসায়ী চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করে, তাহলে অন্য পক্ষ চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
৫. অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে: যদি এমন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করা অসম্ভব করে তোলে, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ব্যবসাকারী অসুস্থ হয়ে যায় এবং কাজ করতে অক্ষম হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।
৬. মৃত্যু: মূলধনের মালিক বা ব্যবসায়ী মারা গেলে চুক্তি বাতিল হবে।
চুক্তি বাতিল হওয়ার পর মূলধনের মালিক মূলধন ফেরত পাবে। যদি লাভ হয়ে থাকে, তাহলে লাভ চুক্তি অনুযায়ী বণ্টিত হবে। যদি ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে, যদি না ব্যবসাকারীর ভুল বা অবহেলার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে।
📄 মূলধনের মালিক মারা গেলে ব্যবসায়ীর করণীয়
মূলধনের মালিক মারা গেলে ব্যবসায়ীর করণীয়
যদি মূলধনের মালিক মুদারাবা চুক্তি চলাকালীন মারা যায়, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীকে মূলধন এবং লাভ (যদি থাকে) মূলধনের মালিকের উত্তরাধিকারীদের নিকট ফেরত দিতে হবে।
ব্যবসায়ীকে ব্যবসার সকল হিসাব এবং মূলধন ও লাভের পরিমাণ উত্তরাধিকারীদের নিকট স্পষ্ট করতে হবে। তাকে কোনো প্রকারের গোপন তথ্য রাখা যাবে না।
যদি মূলধনের মালিক মারা যাওয়ার পর ব্যবসায়ী ব্যবসা চালিয়ে যায়, তাহলে সে তার নিজস্ব ঝুঁকিতে ব্যবসা করবে। যদি লাভ হয়, তাহলে লাভ ব্যবসাকারীর হবে। যদি ক্ষতি হয়, তাহলে ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে ব্যবসাকারীর উপর বর্তাবে।
ব্যবসায়ীকে মূলধনের মালিকের উত্তরাধিকারীদের সাথে সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তাকে উত্তরাধিকারীদের অধিকার সংরক্ষণে যত্নশীল হতে হবে।