📄 সংজ্ঞা ও বিধি
মুদারাবা শব্দটির মূল ধাতু হলো 'দারব' যার অর্থ ভ্রমণ করা। মুদারাবার পারিভাষিক অর্থ হলো, একজন ব্যক্তি মূলধন প্রদান করবে এবং অন্য একজন ব্যক্তি সেই মূলধন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবে। উভয়ের মধ্যে লাভ নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হবে, তবে ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধন প্রদানকারীর উপর বর্তাবে।
মুদারাবাকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: (১) মুদারাবা মুতাকা: এতে ব্যবসার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয় না, এবং ব্যবসায়ী যে কোনো বৈধ ব্যবসা করতে পারে। (২) মুদারাবা মুকায়্যাদা: এতে ব্যবসার ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়, এবং ব্যবসায়ীকে সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।
মুদারাবা শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ। মহান আল্লাহ বলেন: وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ
অর্থ: তোমরা যখন পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে, তখন তোমাদের উপর নামাজের কসর করা দোষের কিছু নেই।" (সূরা নিসা: আয়াত ১০১) এখানে 'দারব' শব্দ দ্বারা ব্যবসা করা বুঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মুদারাবার বৈধতা প্রমাণিত হয়। মহান আল্লাহ আরো বলেন: لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ
অর্থ: তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করা তোমাদের উপর দোষের কিছু নেই।" (সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৮) এখানে 'অনুগ্রহ সন্ধান' দ্বারা ব্যবসা করা বুঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মুদারাবার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
মুদারাবা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীগণ কর্তৃক বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মুদারাবা চুক্তিতে লাভ নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হবে, তবে ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধন প্রদানকারীর উপর বর্তাবে।" -বায়হাকি।
এসব হাদিস দ্বারা মুদারাবার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
📄 মুদারাবার যৌক্তিকতা
মুদারাবার যৌক্তিকতা
মুদারাবা সমাজের জন্য কল্যাণকর। এর মাধ্যমে মূলধনের মালিকরা তাদের মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ করতে পারে, এবং ব্যবসায়ীরা তাদের দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে লাভ করতে পারে। এতে সমাজে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে।
মুদারাবা এমন ব্যক্তিদের জন্য উপকারী যারা মূলধনের মালিক কিন্তু ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা বা সময় নেই, এবং যারা ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা রাখে কিন্তু মূলধন নেই। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ লাভবান হয় এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নতি ঘটে।
মুদারাবা চুক্তিতে লাভ ও ক্ষতি সুনির্দিষ্টভাবে বণ্টিত হয়। এতে কোনো পক্ষের উপর অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত দায় চাপানো হয় না। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ বজায় থাকে।
মুদারাবা চুক্তিতে ব্যবসায়ীকে স্বাধীনতা দেওয়া হয় ব্যবসা পরিচালনার জন্য। এতে সে তার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ব্যবহার করে ব্যবসা সফল করতে পারে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
📄 মুদারাবার মৌলিক উপাদান
মুদারাবার মৌলিক উপাদান
মুদারাবার মৌলিক উপাদান হলো:
১. মূলধন: মূলধন নগদ অর্থ বা সোনা-রূপার আকারে হতে হবে। অন্যান্য সম্পদ, যেমন জমি বা পণ্য, মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে না। মূলধন সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
২. ব্যবসায়ী: ব্যবসায়ীকে সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। তাকে ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৩. ব্যবসা: ব্যবসাটি বৈধ হতে হবে। অবৈধ ব্যবসার জন্য মুদারাবা চুক্তি করা হলে তা বাতিল হবে। ব্যবসার ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট হতে পারে।
৪. লাভ: লাভ নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "লাভের অর্ধেক মূলধনের মালিক পাবে এবং অর্ধেক ব্যবসায়ী পাবে," তাহলে চুক্তি বৈধ হবে। লাভের পরিমাণ অনির্দিষ্ট থাকলে চুক্তি বাতিল হবে।
৫. ক্ষতি: ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে। ব্যবসায়ী কোনো ক্ষতির দায় বহন করবে না, যদি না তার ভুল বা অবহেলার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে।
৬. চুক্তি: চুক্তিটি ইজাব ও কবুল দ্বারা সম্পন্ন হতে হবে। উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি ও প্রস্তাব গ্রহণ আবশ্যক। মুখে বলে অথবা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা যেতে পারে।
📄 মুদারাবার শর্তাবলী
মুদারাবার শর্তাবলী
মুদারাবা চুক্তির বিশুদ্ধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ আবশ্যক:
১. মূলধন: মূলধন নগদ অর্থ বা সোনা-রূপার আকারে হতে হবে। অন্যান্য সম্পদ, যেমন জমি বা পণ্য, মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে না। মূলধন সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
২. ব্যবসায়ী: ব্যবসায়ীকে সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। তাকে ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
৩. ব্যবসা: ব্যবসাটি বৈধ হতে হবে। অবৈধ ব্যবসার জন্য মুদারাবা চুক্তি করা হলে তা বাতিল হবে। ব্যবসার ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট হতে পারে।
৪. লাভ: লাভ নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টিত হবে। লাভের পরিমাণ অনির্দিষ্ট থাকলে চুক্তি বাতিল হবে।
৫. ক্ষতি: ক্ষতির দায় সম্পূর্ণরূপে মূলধনের মালিকের উপর বর্তাবে। ব্যবসায়ী কোনো ক্ষতির দায় বহন করবে না, যদি না তার ভুল বা অবহেলার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকে।
৬. চুক্তি: চুক্তিটি ইজাব ও কবুল দ্বারা সম্পন্ন হতে হবে। উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি ও প্রস্তাব গ্রহণ আবশ্যক। মুখে বলে অথবা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা যেতে পারে।
৭. চুক্তির মেয়াদ: মুদারাবা চুক্তির মেয়াদ সুনির্দিষ্ট হতে পারে বা অনির্দিষ্ট হতে পারে। যদি মেয়াদ সুনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চুক্তি বাতিল হবে। যদি মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি উভয় পক্ষের ইচ্ছানুসারে বাতিল করা যেতে পারে।
৮. ব্যবসা পরিচালনা: ব্যবসায়ীকে মূলধনের মালিকের অনুমতি ছাড়া মূলধন ব্যবহার করতে পারবে না। তাকে ব্যবসার নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে।