📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শারিরিক দ্রুত বা বিপদে প্রদানের শর্ত আরোপ

📄 শারিরিক দ্রুত বা বিপদে প্রদানের শর্ত আরোপ


শারিরিক দ্রুত বা বিপদে প্রদানের শর্ত আরোপ
শারীরিক ত্রুটি বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষে ইজারা চুক্তিতে কাজ করার শর্ত আরোপ করা বৈধ। যদি ব্যক্তি তার কাজ করার সামর্থ্য থাকে, তবে তাকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। তবে চুক্তি সম্পাদনকারীকে এই ত্রুটি বা বিপদ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে, যাতে সে প্রতারিত না হয়।
যদি শারীরিক ত্রুটি বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে অক্ষম হয়, তবে চুক্তি বাতিল হবে। যদি চুক্তি বাতিল না হয়, তবে পারিশ্রমিক হ্রাস পাবে।
যদি শারীরিক ত্রুটি বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে তাকে সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে। তাকে কোনো প্রকারের বৈষম্য করা যাবে না।
যদি শারীরিক ত্রুটি বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি চুক্তি সম্পাদন করার সময় তার ত্রুটি বা বিপদ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে চুক্তি বাতিল হবে। যদি চুক্তি বাতিল না হয়, তবে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরিশ্রমিকে বা ভাড়া পাওয়া হয় কখন

📄 পরিশ্রমিকে বা ভাড়া পাওয়া হয় কখন


পরিশ্রমিকে বা ভাড়া পাওয়া হয় কখন
পারিশ্রমিক বা ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যাবে। যদি চুক্তিতে সময় নির্ধারিত না থাকে, তাহলে প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে তা নির্ধারিত হবে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পারিশ্রমিক পরিশোধ করা মুস্তাহাব। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।"
যদি কোনো কারণে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে পারিশ্রমিকও বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে।
যদি চুক্তিটি এমন হয় যে, তাতে পারিশ্রমিক নির্ভর করে কাজের ফলাফলের উপর, তাহলে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে ফসল ফলানোর জন্য নিয়োগ করলাম, এবং তুমি উৎপাদিত ফসলের অংশ পাবে," তাহলে ফসল কাটা হওয়ার পর পারিশ্রমিক পাওয়া যাবে।
যদি পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে তা সালিশ বা আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করা যেতে পারে। সালিশ বা আদালত ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিরোধের নিষ্পত্তি করবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মজুর নিয়োগের চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট বস্তু ধ্বংস হয়ে গেলে

📄 মজুর নিয়োগের চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট বস্তু ধ্বংস হয়ে গেলে


মজুর নিয়োগের চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট বস্তু ধ্বংস হয়ে গেলে
মজুর নিয়োগের চুক্তিতে যদি চুক্তির বিষয়বস্তু ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। মজুর কোনো পারিশ্রমিক পাবে না। তবে যদি মজুর তার কাজ সম্পন্ন করার আগে বস্তুটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে মজুর তার সম্পন্ন করা কাজের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাবে।
যদি মজুরের ভুলের কারণে বস্তুটি ধ্বংস হয়, তাহলে মজুর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। যদি মজুরের কোনো ভুল না থাকে, তাহলে মজুর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে না।
যদি মজুর নিয়োগকারী মজুরকে কাজ করার জন্য যে বস্তুটি প্রদান করে তা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে মজুর নিয়োগকারী মজুরকে অন্য বস্তুটি প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। যদি মজুর নিয়োগকারী অন্য বস্তুটি প্রদান করতে অক্ষম হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ধাত্রী ভাড়া করা

📄 ধাত্রী ভাড়া করা


ধাত্রী ভাড়া করা
ধাত্রী ভাড়া করা বৈধ। মহান আল্লাহ বলেন: فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ
অর্থ: যদি তারা তোমাদের অনুকূলে সন্তানকে দুধ পান করায়, তবে তাদেরকে তাদের মজুরি দাও। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে যথোচিতভাবে পরামর্শ করো।" (সূরা তালাক: আয়াত ৬) এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ধাত্রী ভাড়া করা বৈধ এবং দুধ পান করানোর জন্য মজুরি দেওয়া আবশ্যক।
ধাত্রী ভাড়া করার জন্য ধাত্রীর দুধের পরিমাণ, দুধ পান করানোর সময়কাল, পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য শর্তাবলী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। যদি শর্তাবলী অনির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।
ধাত্রী শিশুটির জন্য উপযুক্ত হতে হবে। ধাত্রী সুস্থ, সৎ ও বিশ্বস্ত হতে হবে। যদি ধাত্রীর কোনো শারীরিক বা মানসিক ত্রুটি থাকে যা শিশুটির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তবে তাকে ধাত্রী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না।
যদি ধাত্রী চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে, তবে চুক্তি বাতিল হবে এবং তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না। যদি ধাত্রী চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে, তবে তাকে সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00