📄 ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান
ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান
ইজারা চুক্তির মূল উপাদান হলো: ইজাব ও কবুল। অর্থাৎ প্রস্তাব ও সম্মতি। ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি ও প্রস্তাব গ্রহণ আবশ্যক। মুখে বলে অথবা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা যেতে পারে। ইজাব ও কবুল একই বৈঠকে সম্পন্ন হতে হবে। যদি ইজাব ও কবুলের মাঝে দীর্ঘ বিরতি হয় অথবা অন্য কোনো কথা বলা হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
ইজারা চুক্তিতে চুক্তির বিষয়বস্তু এবং পারিশ্রমিকের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি বিষয়বস্তু বা পারিশ্রমিক অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে কাজ করার জন্য নিয়োগ করলাম," কিন্তু কাজের ধরন বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে বিষয়বস্তু ও পারিশ্রমিক নির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তিতে সময়ের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি চুক্তিটি এমন হয় যে, তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট হলেও প্রচলিত রীতি অনুসারে তার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ হতে হবে। যদি চুক্তির উদ্দেশ্য অবৈধ হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে চুরি করার জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।
📄 যোগ্যতা ও সস্ত্রীকর শর্ত
যোগ্যতা ও সস্ত্রীকর শর্ত
ইজারা চুক্তির জন্য চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষকে সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। সুতরাং পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর চুক্তি বৈধ নয়। তাদের চুক্তি অভিভাবক বা শাসকের অনুমতির উপর নির্ভরশীল। অভিভাবক বা শাসক অনুমোদন করলে চুক্তি বৈধ হবে, অন্যথায় বাতিল হবে।
চুক্তি সম্পাদনকারীকে স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী হতে হবে। কাউকে বলপ্রয়োগ করে ইজারা চুক্তি করানো হলে তা বৈধ নয়। কেননা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ছাড়া চুক্তি বৈধ নয়।
ইজারা চুক্তির বিষয়বস্তু এবং পারিশ্রমিকের মূল্য নির্ধারিত হতে হবে। যদি বিষয়বস্তু বা পারিশ্রমিকের মূল্য অনির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে মূল্য নির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
📄 ইজারা বা ভাড়ার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী
ইজারা বা ভাড়ার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী
ইজারা চুক্তির বিশুদ্ধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ আবশ্যক:
১. চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়কে (অর্থাৎ মজুর নিয়োগকারী ও মজুর) চুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে একমত হতে হবে। সুতরাং যদি তাদের মধ্যে কোনো প্রকারের মতভেদ থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে না।
২. চুক্তির বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। যেমন, কোনো কাজ করার জন্য মজুর নিয়োগ করলে কাজটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৩. পারিশ্রমিক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। যেমন, প্রতি ঘন্টা, দিন বা মাস হিসেবে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে হবে।
৪. ইজারা চুক্তির মেয়াদ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে না।
৫. ইজারা চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ হতে হবে। যদি অবৈধ কাজের জন্য ইজারা চুক্তি করা হয়, তাহলে তা অবৈধ হবে।
৬. ইজারা চুক্তির বিষয়বস্তু এমন হতে হবে যা দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব। সুতরাং এমন জিনিস ইজারা দেওয়া যাবে না যা দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়।
৭. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো নিষিদ্ধ বিষয় জড়িত না থাকে।
৮. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি জড়িত না থাকে।
৯. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের সুদ বা অবৈধ অর্থ জড়িত না থাকে।
১০. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের জুয়া বা অনিশ্চিত বিষয় জড়িত না থাকে।
📄 ইজাদানের জন্য পারিশ্রমিক দেয়া
ইজাদানের জন্য পারিশ্রমিক দেয়া
ইজারা চুক্তিতে পারিশ্রমিক নগদ অর্থ, বস্তুগত সম্পদ বা সেবার মাধ্যমে প্রদান করা যেতে পারে। পারিশ্রমিকের পরিমাণ উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত হবে। যদি পারিশ্রমিক অনির্ধারিত থাকে, তাহলে প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে তা নির্ধারিত হবে।
ইজারা চুক্তিতে পারিশ্রমিক অগ্রিম, কিস্তি বা কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পরিশোধ করা যেতে পারে। এটা উভয় পক্ষের সম্মতির উপর নির্ভরশীল। তবে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পারিশ্রমিক পরিশোধ করা মুস্তাহাব। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।"
যদি কোনো কারণে ইজারা চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে পারিশ্রমিকও বাতিল হয়ে যাবে। তবে যদি কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে কাজ সম্পন্ন হওয়ার জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে।
ইজারা চুক্তিতে পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ বজায় রাখতে হবে। কোনো পক্ষের উপর অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক চাপানো যাবে না।
যদি পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে তা সালিশ বা আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করা যেতে পারে। সালিশ বা আদালত ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিরোধের নিষ্পত্তি করবে।