📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বৈধতার যুক্তি

📄 ইজারা বৈধতার যুক্তি


ইজারা বৈধতার যুক্তি
মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা ইজারার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইজারা ব্যতিরেকে মানুষ তার সকল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম নয়। জীবন ধারণের জন্য একে অপরের সাহায্য অপরিহার্য। শ্রম, দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময় করা ইজারার মাধ্যমে সম্ভব। এতে সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ইজারা চুক্তি না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো এবং মানুষের জীবন ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়তো।
ইজারা চুক্তিকে বৈধ করার কারণে জনগণের জন্য তা অনেক সহজ হয়েছে। ইজারা চুক্তি মানুষের জন্য কল্যাণকর। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও ইজারা চুক্তির মাধ্যমে কাজ করেছেন। তিনি মক্কার এক ব্যক্তিকে চুক্তির ভিত্তিতে মজুর নিয়োগ করেছিলেন। তিনি নিজেও খয়বরের বাগান পরিচর্যার জন্য মজুর নিয়োগ করেছিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইজারা চুক্তি বৈধ।
ইজারা চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং তাদেরকে তাদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করা হয়। ইসলাম শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।" এই হাদিস শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে ইসলামের আগ্রহের একটি প্রমাণ।
ইজারা চুক্তি সমাজ ও অর্থনীতির উন্নতিতে সহায়তা করে। শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। এর মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায়। তাই ইজারা চুক্তি সমাজ ও দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান

📄 ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান


ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান
ইজারা চুক্তির মূল উপাদান হলো: ইজাব ও কবুল। অর্থাৎ প্রস্তাব ও সম্মতি। ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি ও প্রস্তাব গ্রহণ আবশ্যক। মুখে বলে অথবা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা যেতে পারে। ইজাব ও কবুল একই বৈঠকে সম্পন্ন হতে হবে। যদি ইজাব ও কবুলের মাঝে দীর্ঘ বিরতি হয় অথবা অন্য কোনো কথা বলা হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
ইজারা চুক্তিতে চুক্তির বিষয়বস্তু এবং পারিশ্রমিকের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি বিষয়বস্তু বা পারিশ্রমিক অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে কাজ করার জন্য নিয়োগ করলাম," কিন্তু কাজের ধরন বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে বিষয়বস্তু ও পারিশ্রমিক নির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তিতে সময়ের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি চুক্তিটি এমন হয় যে, তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট হলেও প্রচলিত রীতি অনুসারে তার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ হতে হবে। যদি চুক্তির উদ্দেশ্য অবৈধ হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে চুরি করার জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যোগ্যতা ও সস্ত্রীকর শর্ত

📄 যোগ্যতা ও সস্ত্রীকর শর্ত


যোগ্যতা ও সস্ত্রীকর শর্ত
ইজারা চুক্তির জন্য চুক্তি সম্পাদনকারী উভয় পক্ষকে সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। সুতরাং পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর চুক্তি বৈধ নয়। তাদের চুক্তি অভিভাবক বা শাসকের অনুমতির উপর নির্ভরশীল। অভিভাবক বা শাসক অনুমোদন করলে চুক্তি বৈধ হবে, অন্যথায় বাতিল হবে।
চুক্তি সম্পাদনকারীকে স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী হতে হবে। কাউকে বলপ্রয়োগ করে ইজারা চুক্তি করানো হলে তা বৈধ নয়। কেননা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ছাড়া চুক্তি বৈধ নয়।
ইজারা চুক্তির বিষয়বস্তু এবং পারিশ্রমিকের মূল্য নির্ধারিত হতে হবে। যদি বিষয়বস্তু বা পারিশ্রমিকের মূল্য অনির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে মূল্য নির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বা ভাড়ার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী

📄 ইজারা বা ভাড়ার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী


ইজারা বা ভাড়ার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী
ইজারা চুক্তির বিশুদ্ধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ আবশ্যক:
১. চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়কে (অর্থাৎ মজুর নিয়োগকারী ও মজুর) চুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে একমত হতে হবে। সুতরাং যদি তাদের মধ্যে কোনো প্রকারের মতভেদ থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে না।
২. চুক্তির বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। যেমন, কোনো কাজ করার জন্য মজুর নিয়োগ করলে কাজটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৩. পারিশ্রমিক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। যেমন, প্রতি ঘন্টা, দিন বা মাস হিসেবে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে হবে।
৪. ইজারা চুক্তির মেয়াদ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে না।
৫. ইজারা চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ হতে হবে। যদি অবৈধ কাজের জন্য ইজারা চুক্তি করা হয়, তাহলে তা অবৈধ হবে।
৬. ইজারা চুক্তির বিষয়বস্তু এমন হতে হবে যা দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব। সুতরাং এমন জিনিস ইজারা দেওয়া যাবে না যা দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়।
৭. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো নিষিদ্ধ বিষয় জড়িত না থাকে।
৮. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি জড়িত না থাকে।
৯. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের সুদ বা অবৈধ অর্থ জড়িত না থাকে।
১০. ইজারা চুক্তিটি যেন কোনো প্রকারের জুয়া বা অনিশ্চিত বিষয় জড়িত না থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00