📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


ইজারা শব্দটির মূল ধাতু হলো 'আজর' যার অর্থ প্রতিদান ও বিনিময়। আর আভিধানিক অর্থে ইজারা অর্থ মজুরি। শরিয়তের পরিভাষায় ইজারা অর্থ হলো, কোনো জিনিসের উপকারিতা বিনিময় দিয়ে ভোগদখল করা। ইজারাকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: (১) চুক্তিভিত্তিক মজুর নিয়োগ: এটি দুই ধরনের। (ক) নির্দিষ্ট চুক্তিতে মজুর নিয়োগ: যেমন কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া, যার ফল নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশিত হবে। যেমন বাড়ি তৈরি বা কাপড় সেলাই করার জন্য মজুর নিয়োগ। (খ) অনির্দিষ্ট চুক্তিতে মজুর নিয়োগ: যেমন কোনো কাজ করার জন্য অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য মজুর নিয়োগ, যার ফল অনির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশিত হবে। যেমন দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে মজুর নিয়োগ। (২) কোনো জিনিসের উপকারিতা ভোগদখলের উদ্দেশ্যে সেটিকে ভাড়া নেয়া, যেমন বাড়ি, গাড়ি বা অন্যান্য জিনিসপত্র ভাড়া নেয়া। উভয় প্রকারের ইজারাই বৈধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বা ভাড়া দানের বৈধতা

📄 ইজারা বা ভাড়া দানের বৈধতা


ইজারা বা ভাড়া দানের বৈধতা
ইজারা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের কোনো মতভেদ নেই। মহান আল্লাহ বলেন: فَإِنْ أَرْضَعْنَ لَكُمْ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ
অর্থ: যদি তারা তোমাদের অনুকূলে সন্তানকে দুধ পান করায়, তবে তাদেরকে তাদের মজুরি দাও। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে যথোচিতভাবে পরামর্শ করো।" (সূরা তালাক: আয়াত ৬) এখানে আল্লাহ স্পষ্টভাবে দুধ পান করানোর জন্য মজুরি দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আর মজুরি ইজারা চুক্তির একটি অংশ। মহান আল্লাহ আরো বলেন:
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
অর্থ: তাদের একজন বললো: হে আমার পিতা, তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করুন। নিশ্চয় আপনি যাদেরকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করবেন, তাদের মধ্যে সে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।" (সূরা কাসাস: আয়াত ২৬)
এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হযরত মূসা আ. এর যুগে মজুর নিয়োগ বৈধ ছিলো। আমাদের শরিয়তেও তা বৈধ। রসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীগণ কর্তৃক ইজারা চুক্তির বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে। বুখারি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।" -ইবনে মাজাহ।
এসব হাদিস দ্বারা ইজারা চুক্তির বৈধতা প্রমাণিত হয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বৈধতার যুক্তি

📄 ইজারা বৈধতার যুক্তি


ইজারা বৈধতার যুক্তি
মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা ইজারার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইজারা ব্যতিরেকে মানুষ তার সকল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম নয়। জীবন ধারণের জন্য একে অপরের সাহায্য অপরিহার্য। শ্রম, দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময় করা ইজারার মাধ্যমে সম্ভব। এতে সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ইজারা চুক্তি না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো এবং মানুষের জীবন ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়তো।
ইজারা চুক্তিকে বৈধ করার কারণে জনগণের জন্য তা অনেক সহজ হয়েছে। ইজারা চুক্তি মানুষের জন্য কল্যাণকর। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও ইজারা চুক্তির মাধ্যমে কাজ করেছেন। তিনি মক্কার এক ব্যক্তিকে চুক্তির ভিত্তিতে মজুর নিয়োগ করেছিলেন। তিনি নিজেও খয়বরের বাগান পরিচর্যার জন্য মজুর নিয়োগ করেছিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইজারা চুক্তি বৈধ।
ইজারা চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষিত হয় এবং তাদেরকে তাদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করা হয়। ইসলাম শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।" এই হাদিস শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে ইসলামের আগ্রহের একটি প্রমাণ।
ইজারা চুক্তি সমাজ ও অর্থনীতির উন্নতিতে সহায়তা করে। শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। এর মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায়। তাই ইজারা চুক্তি সমাজ ও দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান

📄 ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান


ইজারা বা ভাড়া চুক্তির মূল উপাদান
ইজারা চুক্তির মূল উপাদান হলো: ইজাব ও কবুল। অর্থাৎ প্রস্তাব ও সম্মতি। ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি ও প্রস্তাব গ্রহণ আবশ্যক। মুখে বলে অথবা লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করা যেতে পারে। ইজাব ও কবুল একই বৈঠকে সম্পন্ন হতে হবে। যদি ইজাব ও কবুলের মাঝে দীর্ঘ বিরতি হয় অথবা অন্য কোনো কথা বলা হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
ইজারা চুক্তিতে চুক্তির বিষয়বস্তু এবং পারিশ্রমিকের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি বিষয়বস্তু বা পারিশ্রমিক অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে কাজ করার জন্য নিয়োগ করলাম," কিন্তু কাজের ধরন বা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুসারে বিষয়বস্তু ও পারিশ্রমিক নির্ধারিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তিতে সময়ের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। যদি চুক্তির মেয়াদ অনির্দিষ্ট থাকে, তাহলে চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। তবে যদি চুক্তিটি এমন হয় যে, তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট হলেও প্রচলিত রীতি অনুসারে তার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে।
ইজারা চুক্তির উদ্দেশ্য বৈধ হতে হবে। যদি চুক্তির উদ্দেশ্য অবৈধ হয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয়: "আমি তোমাকে চুরি করার জন্য নিয়োগ করলাম," তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00