📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শাসকের অনুমতি

📄 শাসকের অনুমতি


শাসকের অনুমতি
ইমাম আবু হানিফার মতে, আবাদকারীকে জমিনের মালিকানা লাভ করতে হলে শাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এই অনুমতি ব্যতীত সে জমির মালিকানা লাভ করবে না। এটা ইবনে উমর, কাসেম বিন মুহাম্মদ, আবুস সানাদ, সুফিয়ান সাওরি, ইবনুল মুবারক ও উবায়দুল্লাহ বিন হাসান সহ অনেক ফকিহ সমর্থন করেন। তাদের প্রমাণ নিম্নরূপ: ১. রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শাসকের অনুমতি ব্যতিত কোনো জমি আবাদ করা যাবেনা।" -বুখারি। ২. রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আল্লাহর ও তার রসূলের সম্পদ হলো, সকল পতিত জমি।" সুতরাং এগুলো শাসকের অনুমতি ছাড়া ভোগ দখল করা যাবেনা।
অন্যদিকে অধিকাংশ ফকিহ বলেন: শাসকের অনুমতি প্রয়োজন নেই। কারণ রসূলুল্লাহ সা. যে হাদিসগুলোতে পতিত জমি আবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন, সেগুলোতে অনুমতি চাওয়ার কোনো শর্ত উল্লেখ করেননি। আর জাবের বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল। সাঈদ বিন যায়দ বর্ণিত হাদিসটি সহীহ। এ হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন জমি আবাদ করবে যা কারো মালিকানাধীন নয়, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" এতে কোনো শর্ত উল্লেখ নেই।
৩. উমর রা. এর শাসনামলে লোকেরা ব্যাপকভাবে পতিত জমি আবাদ করতো। তিনি কাউকে বাধা দেননি।
৪. ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: পতিত জমি আবাদ করার ক্ষেত্রে শাসককে যে অধিকার দেয়া হয়েছে, তা হলো, যখন জমিতে পানির অভাব হবে, তখন শাসক পানির জন্য সেচ ব্যবস্থা বা বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করবে, অথবা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শাসককে অধিকার দেয়া হয়েছে। আর সেচ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে গেলে শাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কখন মালিকানা রহিত হবে?

📄 কখন মালিকানা রহিত হবে?


কখন মালিকানা রহিত হবে?
আবাদ করে যখন জমির মালিকানা লাভ করা হয়, তখন যদি সেই জমি দীর্ঘদিন আবাদ না করা হয়, তবে তার মালিকানা রহিত হবে কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেক ও আহমদ বলেন: মালিকানা রহিত হবেনা। কেননা সে তার নিজের সম্পত্তি হারায় না। কিন্তু আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ও আহমদ থেকে বর্ণিত অপর একটি মতে, মালিকানা রহিত হয়ে যাবে। কেননা জমির মালিকানা লাভের উদ্দেশ্য হলো, তাতে ফসল ফলানো। যখন সে তাতে ফসল না ফলিয়ে পতিত রেখে দেয়, তখন তার মালিকানা রহিত হয়ে যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে ব্যক্তি অন্যের মালিকানাধীন জমি তার অজ্ঞাতে আবাদ করে

📄 যে ব্যক্তি অন্যের মালিকানাধীন জমি তার অজ্ঞাতে আবাদ করে


যে ব্যক্তি অন্যের মালিকানাধীন জমি তার অজ্ঞাতে আবাদ করে
যদি কেউ অন্যের মালিকানাধীন জমি তার অজ্ঞাতে আবাদ করে, অতপর সেই জমির মালিক জানতে পারে, তাহলে সেই মালিকের অধিকার রয়েছে, চাষ করা জমি আবাদকারীর কাছ থেকে কেড়ে নেয়া এবং তার আবাদ বিনষ্ট করার জন্য তাকে বাধ্য করা, অথবা তাকে আবাদকৃত জমির খাজনা দেয়ার জন্য বাধ্য করা। এটা শাফেয়ি ও আহমদের মত। আবু হানিফার মতে, জমির মালিক আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নিতে পারবেনা। সে জমির মূল্য দেবে এবং সেই মূল্য লাভ করে জমি আবাদকারীর মালিকানাধীন হয়ে যাবে।
টিকাঃ
পণ্ডিতদের মতভেদ: ইমাম মালেক বলেন, জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।
ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ বলেন: জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।
ইমাম আহমদ বলেন: জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।
ইমাম আবু হানিফা বলেন: জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।
ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন: জমির মালিকের অধিকার রয়েছে, আবাদকারীর কাছ থেকে জমি কেড়ে নেয়া এবং আবাদকৃত জমির খাজনা আদায় করা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জমি, জলাশয় ও খনি বরাদ্দ দেয়া

📄 জমি, জলাশয় ও খনি বরাদ্দ দেয়া


জমি, জলাশয় ও খনি বরাদ্দ দেয়া
আবাদ, মৎস শিকার বা খনি আহরণের উদ্দেশ্যে শাসকের পক্ষে ভূমি, জলাশয় ও খনি বরাদ্দ করা জায়েয। কেননা উমর রা. তার শাসন আমলে এক ব্যক্তিকে কালো মাটি সমৃদ্ধ জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "পানির মালিকানা সকলের, ঘাসের মালিকানা সকলের এবং আগুনের মালিকানা সকলের।" -আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।
রসূলুল্লাহ সা. এই তিনটি জিনিসকে সকলের মালিকানাধীন বলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু যে ব্যক্তি এই তিনটি জিনিস আহরণ করার চেষ্টা করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে। এর প্রমাণ হলো, উসমান রা. কর্তৃক আবু বকর রা.-এর শাসনামলে যে কুয়া খনন করা হয়েছিল তা। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তা করেছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মানুষেরা তিনটি বিষয়ে অংশীদার: পানি, ঘাস ও আগুন।" এখানে পানির অর্থ উন্মুক্ত জলাধার, নদীর পানি ও সাগরের পানি। ঘাসের অর্থ উন্মুক্ত চারণভূমির ঘাস ও ফলমূল। আগুনের অর্থ জ্বালানী কাঠ। রসূলুল্লাহ সা. এ তিনটি বিষয়কে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন।
জলাশয় ও খনি বরাদ্দ দেয়ার ব্যাপারে আলেমদের মতামত:
আলেমগণ জলাশয় ও খনি বরাদ্দ দেয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামত নিম্নরূপ:
১. ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ বলেন: শাসক যে কোনো জলাশয়, খনি ও পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে।
২. ইমাম শাফেয়ি বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৩. ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৪. ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৫. ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৬. ইমাম আবু সাওর বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৭. ইমাম দাউদ যাহেরি বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৮. ইমাম ইসহাক বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।
৯. ইমাম আওযায়ি বলেন: শাসক শুধু পতিত জমি বরাদ্দ দিতে পারে, জলাশয় ও খনি নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00