📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অবৈধ বর্গাচাষ

📄 অবৈধ বর্গাচাষ


অবৈধ বর্গাচাষ
শাফেয়ি, মালেক ও আবু হানিফার মতে, বর্গা চাষের কিছু পদ্ধতি অবৈধ। সেগুলো নিম্নরূপ:
১. যখন ফসলের নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ ফসলের মালিক পাবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। যেমন বলা হবে, আমি তোমার কাছে এই জমি ভাড়া দিলাম এবং আমি দশ ওয়াসাক গম নেবো। এটা অবৈধ।
২. যখন জমির মালিক নির্দিষ্ট কোনো অংশের ফসল পাবে বলে শর্তারোপ করে। যেমন বলা হবে, এই জমিটা তোমার। কিন্তু আমি এর থেকে এক তৃতীয়াংশ, বা এক চতুর্থাংশ গম নেবো। এটা অবৈধ।
৩. নদীর পাশে বা পানির কিনারায় ফসল হলে জমির মালিক তা পাবে বলে শর্তারোপ করা।
৪. যখন বর্গাচাষে বীজ কার থাকবে তা অনির্ধারিত থাকে।
৫. যখন বীজ হবে বর্গাচাষীর। কিন্তু জমির মালিকের পক্ষ থেকে কিছু কাজ করা ও শ্রম দেয়া শর্ত করা হয়।
৬. যখন চুক্তি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য করা হয়। এই সকল পদ্ধতি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, এতে এক পক্ষ লাভবান হয় ও অপর পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
টিকাঃ
বর্গা চাষের বৈধ পদ্ধতি: বর্গা চাষের বৈধ পদ্ধতিগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:
১. যখন ফসলের অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করা হবে। যেমন বলা হবে, উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তোমার ও অর্ধেক আমার। কিংবা এক তৃতীয়াংশ তোমার ও দুই তৃতীয়াংশ আমার।
২. যখন বর্গাচাষে জমির মালিকের পক্ষ থেকে কিছু শ্রম দেওয়া হবে।
৩. যখন বর্গাচাষের মেয়াদ নির্ধারিত থাকবে।
৪. যখন ফসলের বীজ জমির মালিকের থাকবে।
৫. যখন চুক্তি স্বল্প মেয়াদের জন্য করা হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পতিত জমি আবাদ করা

📄 পতিত জমি আবাদ করা


পতিত জমি আবাদ করা
ইসলাম পতিত জমিকে আবাদ করে তাকে কাজে লাগানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে। কেননা এতে আল্লাহর দীনের প্রচার হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়িত হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি পতিত জমি আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" -বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী।
আবু দাউদ ও তিরমিযি সাঈদ বিন যায়দ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন জমি আবাদ করবে, যা কারো মালিকানাধীন নয়, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" উরওয়া বিন যুবাইর রা. বলেন: উমর রা. তার শাসন আমলে বলেছেন: "যে ব্যক্তি পতিত জমি আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" ইবনুল কাইয়েম বলেন: রসূলুল্লাহ সা.-এর এই হাদিস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের শাসনকালে এর বাস্তব প্রয়োগ দ্বারা প্রমাণিত যে, পতিত জমি আবাদ করা শরয়ী পন্থায় জমি মালিকানা লাভ করার একটি পন্থা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পতিত জমি আবাদ করার শর্তাবলী

📄 পতিত জমি আবাদ করার শর্তাবলী


পতিত জমি আবাদ করার শর্তাবলী
১. জমিটি যেন অনাবাদী, পতিত ও মালিকানাহীন হয়। পূর্বে কারো মালিকানাধীন ছিলো, এমন কোনো জমিতি যদি দীর্ঘদিন অনাবাদী ও পতিত পড়ে থাকে, তাহলে তার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে: (ক) সেটি আবাদ করলে তার মালিকানা লাভ হবে। এটা উমর, আবু সাওর, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, আহমদ, ইসহাক ও দাউদের মত। (খ) মালিকের অনুমতি ছাড়া তার মালিকানা লাভ করা যাবেনা। ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আওযায়ি এই মত পোষণ করেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শাসকের অনুমতি

📄 শাসকের অনুমতি


শাসকের অনুমতি
ইমাম আবু হানিফার মতে, আবাদকারীকে জমিনের মালিকানা লাভ করতে হলে শাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এই অনুমতি ব্যতীত সে জমির মালিকানা লাভ করবে না। এটা ইবনে উমর, কাসেম বিন মুহাম্মদ, আবুস সানাদ, সুফিয়ান সাওরি, ইবনুল মুবারক ও উবায়দুল্লাহ বিন হাসান সহ অনেক ফকিহ সমর্থন করেন। তাদের প্রমাণ নিম্নরূপ: ১. রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "শাসকের অনুমতি ব্যতিত কোনো জমি আবাদ করা যাবেনা।" -বুখারি। ২. রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আল্লাহর ও তার রসূলের সম্পদ হলো, সকল পতিত জমি।" সুতরাং এগুলো শাসকের অনুমতি ছাড়া ভোগ দখল করা যাবেনা।
অন্যদিকে অধিকাংশ ফকিহ বলেন: শাসকের অনুমতি প্রয়োজন নেই। কারণ রসূলুল্লাহ সা. যে হাদিসগুলোতে পতিত জমি আবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন, সেগুলোতে অনুমতি চাওয়ার কোনো শর্ত উল্লেখ করেননি। আর জাবের বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল। সাঈদ বিন যায়দ বর্ণিত হাদিসটি সহীহ। এ হাদিসে রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন জমি আবাদ করবে যা কারো মালিকানাধীন নয়, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" এতে কোনো শর্ত উল্লেখ নেই।
৩. উমর রা. এর শাসনামলে লোকেরা ব্যাপকভাবে পতিত জমি আবাদ করতো। তিনি কাউকে বাধা দেননি।
৪. ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: পতিত জমি আবাদ করার ক্ষেত্রে শাসককে যে অধিকার দেয়া হয়েছে, তা হলো, যখন জমিতে পানির অভাব হবে, তখন শাসক পানির জন্য সেচ ব্যবস্থা বা বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করবে, অথবা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে। এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শাসককে অধিকার দেয়া হয়েছে। আর সেচ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে গেলে শাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00