📄 মুদার বিনিময়ে জমি ভাড়া নেয়া
মুদার বিনিময়ে জমি ভাড়া নেয়া মুসাকাত বৈধ হওয়া সম্পর্কে আলেমদের কোনো মতভেদ নেই। রসূলুল্লাহ সা. খয়বরবাসীদেরকে উৎপন্ন ফলের অর্ধেক দেয়ার শর্তে তাদের বাগান ও ফসলের ক্ষেতগুলোতে কাজ করার দায়িত্ব দেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, এ চুক্তি বৈধ। মুসাকাত ও মুজারআতে পার্থক্য এই যে, মুসাকাতে ফলের বাগানের গাছগুলোকে কাজে লাগানো হয়। আর মুজারআতে ফলের বাগানের জমিকে কাজে লাগানো হয়।
মুগারাছা: মুগারাছা অর্থ চারা রোপণ করা। এ চুক্তি মুজারআ ও মুসাকাত থেকে পৃথক। এতে জমির মালিক তার জমি অপর কোনো ব্যক্তিকে দেয়, এ শর্তে যে, সে তাতে ফলবান চারা রোপণ করবে এবং সে তাতে উৎপাদিত ফলের নির্দিষ্ট অংশের মালিক হবে। এই চুক্তি চারা রোপণ করার মেয়াদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই চুক্তির বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন বৈধ, কেউ বলেন অবৈধ। ইমাম আবু হানিফা, আহমদ, ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়েম বলেন: মুগারাছা বৈধ। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো পতিত জমিকে আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" আর যদি সেই জমির মালিক অন্য কেউ হয়, তবে জমির মালিক ও আবাদকারী উভয়ের সম্মতিক্রমে উৎপাদিত ফসলের অংশীদারি নির্ধারিত হবে।
📄 অবৈধ বর্গাচাষ
অবৈধ বর্গাচাষ
শাফেয়ি, মালেক ও আবু হানিফার মতে, বর্গা চাষের কিছু পদ্ধতি অবৈধ। সেগুলো নিম্নরূপ:
১. যখন ফসলের নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ ফসলের মালিক পাবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। যেমন বলা হবে, আমি তোমার কাছে এই জমি ভাড়া দিলাম এবং আমি দশ ওয়াসাক গম নেবো। এটা অবৈধ।
২. যখন জমির মালিক নির্দিষ্ট কোনো অংশের ফসল পাবে বলে শর্তারোপ করে। যেমন বলা হবে, এই জমিটা তোমার। কিন্তু আমি এর থেকে এক তৃতীয়াংশ, বা এক চতুর্থাংশ গম নেবো। এটা অবৈধ।
৩. নদীর পাশে বা পানির কিনারায় ফসল হলে জমির মালিক তা পাবে বলে শর্তারোপ করা।
৪. যখন বর্গাচাষে বীজ কার থাকবে তা অনির্ধারিত থাকে।
৫. যখন বীজ হবে বর্গাচাষীর। কিন্তু জমির মালিকের পক্ষ থেকে কিছু কাজ করা ও শ্রম দেয়া শর্ত করা হয়।
৬. যখন চুক্তি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য করা হয়। এই সকল পদ্ধতি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, এতে এক পক্ষ লাভবান হয় ও অপর পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
টিকাঃ
বর্গা চাষের বৈধ পদ্ধতি: বর্গা চাষের বৈধ পদ্ধতিগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:
১. যখন ফসলের অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করা হবে। যেমন বলা হবে, উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তোমার ও অর্ধেক আমার। কিংবা এক তৃতীয়াংশ তোমার ও দুই তৃতীয়াংশ আমার।
২. যখন বর্গাচাষে জমির মালিকের পক্ষ থেকে কিছু শ্রম দেওয়া হবে।
৩. যখন বর্গাচাষের মেয়াদ নির্ধারিত থাকবে।
৪. যখন ফসলের বীজ জমির মালিকের থাকবে।
৫. যখন চুক্তি স্বল্প মেয়াদের জন্য করা হবে।
📄 পতিত জমি আবাদ করা
পতিত জমি আবাদ করা
ইসলাম পতিত জমিকে আবাদ করে তাকে কাজে লাগানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে। কেননা এতে আল্লাহর দীনের প্রচার হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়িত হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি পতিত জমি আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" -বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী।
আবু দাউদ ও তিরমিযি সাঈদ বিন যায়দ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন জমি আবাদ করবে, যা কারো মালিকানাধীন নয়, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" উরওয়া বিন যুবাইর রা. বলেন: উমর রা. তার শাসন আমলে বলেছেন: "যে ব্যক্তি পতিত জমি আবাদ করবে, সে তার মালিকানা লাভ করবে।" ইবনুল কাইয়েম বলেন: রসূলুল্লাহ সা.-এর এই হাদিস এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের শাসনকালে এর বাস্তব প্রয়োগ দ্বারা প্রমাণিত যে, পতিত জমি আবাদ করা শরয়ী পন্থায় জমি মালিকানা লাভ করার একটি পন্থা।
📄 পতিত জমি আবাদ করার শর্তাবলী
পতিত জমি আবাদ করার শর্তাবলী
১. জমিটি যেন অনাবাদী, পতিত ও মালিকানাহীন হয়। পূর্বে কারো মালিকানাধীন ছিলো, এমন কোনো জমিতি যদি দীর্ঘদিন অনাবাদী ও পতিত পড়ে থাকে, তাহলে তার ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে: (ক) সেটি আবাদ করলে তার মালিকানা লাভ হবে। এটা উমর, আবু সাওর, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, আহমদ, ইসহাক ও দাউদের মত। (খ) মালিকের অনুমতি ছাড়া তার মালিকানা লাভ করা যাবেনা। ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আওযায়ি এই মত পোষণ করেন।