📄 বাইয়ে সালামে পণ্য বিক্রেতার নিকট থাকা শর্ত নয়
বাই'য়ে সালামে পণ্যের মালেক হওয়া জরুরি নয়, বরং পণ্যটি মেয়াদান্তে তার কাছে থাকা চাই। মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যদি পণ্য না পাওয়া যায় তবে বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে যদি নাপাওয়া যায় তবে কোনো ক্ষতি নেই।
ইমাম বুখারি বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ বলেন: আব্দুল্লাহ্ ইবনে শাদ্দাদ ও আবু বুরদা আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফার নিকট এই বলে পাঠালেন যে, জিজ্ঞাসা কর, রসূলুল্লাহ্ সা. এর জীবদ্দশায় তাঁর সাহাবিগণ কি গমের জন্য অগ্রিম মূল্য দিতেন? আব্দুল্লাহ্ জবাব দিলেন; আমরা সিরিয়ার কৃষকদের সাথে (মতান্তরে সিরিয়ার খ্রিষ্টানদের সাথে) গম, যব, ও তেলের জন্য নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অগ্রিম মূল্য দিতাম।' আমি বললাম: যার নিকট পণ্যের উৎস থাকতো তার কাছে? তিনি বলেন: এ বিষয়ে আমরা তাদেরকে কিছু জিজ্ঞাসা করতাম না। এরপর তারা আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আব্যার নিকট পাঠালেন। আমি তাকে একই প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন: রসূলুল্লাহ্ সা.-এর আমলে সাহাবীগণ অগ্রিম মূল্য প্রদান করতেন। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসা করিনি, তাদের ক্ষেত-খামার আছে কিনা।
📄 হস্তান্তর স্থান উল্লেখ না করলে চুক্তি বাতিল হয়না
পণ্য হস্তান্তরের স্থান সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতা মৌনতা অবলম্বন করলে বায়য়ে সালাম শুদ্ধ হবে এবং স্থান নির্ধারণ হবে। কেননা স্থান উল্লেখের শর্ত হাদিসে উল্লেখিত হয় নি। এটা যদি শর্ত হতো তবে রসূলুল্লাহ্ সা. তা উল্লেখ করতেন, যেমন মাপ, ওজন ও মেয়াদের কথা উল্লেখ করেছেন।
📄 দূধ ও পাকা খেজুর বাইয়ে সালাম
দুধ ও পাকা খেজুরে বাইয়ে সালাম: ইমাম কুরতুবি বলেন: 'দুধ ও পাকা খেজুরে বায়য়ে সালাম এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সংগ্রহ করা একটা সামাজিক রীতি, যা গোটা নগরবাসীর জীবনে প্রচলিত। জনস্বার্থ সম্বন্ধীয় মূলনীতির উপর এর ভিত্তি। কেননা মানুষ প্রতিদিন দুধ ও খেজুর সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত ও বাধ্য। প্রতিদিন নতুন করে এটা নগদ অর্থ দিয়ে সংগ্রহ করা কঠিন ব্যাপার। কারণ তার কাছে নগদ অর্থ প্রতিদিন হাতে নাও আসতে পারে। তাছাড়া এর দর এক এক দিন এক এক রকম হতে পারে। অথচ খেজুর গাছ ও দুধের মালিকের নগদ অর্থের প্রয়োজন। কারণ যার কাছে নগদ অর্থ ছাড়া অন্যান্য দ্রব্য আছে, সে খেজুর ও দুধের মালিকের কাছে যাবে না। অতএব প্রয়োজন যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সমান, তখন তাদের জন্য এই লেনদেনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।'
📄 বাইয়ে সালামে নির্দিষ্ট পণ্যের পরিবর্তে অন্য পণ্য গ্রহণ
বায়য়ে সালামে যে পণ্য বিক্রয়ের চুক্তি হয়েছে, বায়য়ে সালামের চুক্তি বহাল রেখে সেই পণ্যের পরিবর্তে অন্য পণ্য গ্রহণ অধিকাংশ আলিমের মতে বৈধ নয়। কেননা হয়তো সে পণ্যটি হস্তগত করার পূর্বেই তা ঋণের দায়ে বিক্রয় করে দিয়েছে। তা ছাড়া রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করেছে, সে যেন প্রদত্ত অগ্রিম অর্থ অন্য জিনিসে স্থানান্তরিত না করে।' (দারা কুতনি, ইবনে উমর থেকে) তবে ইমাম মালেক ও আহমদের মতে এটা বৈধ।
ইবনুল মুন্যির বলেন: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: 'যখন তুমি কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের তরে কোনো পণ্যের জন্য অগ্রিম মূল্য দিয়ে দেবে, তখন তা যদি তুমি মেয়াদের মধ্যে হস্তগত কর তবে তো ভালো কথা। নচেৎ তার পরিবর্তে তার চেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস গ্রহণ করবে এবং দুবার মুনাফা অর্জন করবে না।' শু বা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটা সাহাবির উক্তি। বস্তুত সাহাবির উক্তি অন্য কোনো আয়াত বা হাদিসের বিরোধী না হলে অকাট্য প্রমাণ হিসাবে গণ্য।
ইবনুল কাইয়্যিম উভয় পক্ষের প্রমাণাদি পর্যালোচনা করার পর এই মতটি অগ্রগণ্য বলে অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন কোনো আয়াত বা হাদিস, এবং কোনো ইজমা বা কিয়াস দ্বারা যে এটা অবৈধ প্রমাণিত হয়নি, তা প্রতিষ্ঠিত। বরঞ্চ কুরআন হাদিস ও কিয়াস এর বৈধতার দাবি জানায়। বস্তুত যে কোনো বিতর্কের মীমাংসার জন্য বিষয়টি আল্লাহ ও তার রসূলের সামনে পেশ করাই শরিয়তের মূলনীতি। বাইয়ে সালামের চুক্তি ইকালা বা অন্য কোনো কারণে বাতিল হয়ে গেলে চুক্তিকৃত পণ্যের পরিবর্তে অন্য পণ্য গ্রহণকে কেউ অবৈধ এবং কেউ বৈধ মনে করেন। শেষোক্ত অভিমত ইমাম শাফেয়ি, কাযী আবু ইয়া'লা ও ইমাম ইবনে তাইমিয়ার। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, শেষোক্ত মতটিই যথার্থ ও সঠিক। কেননা বিকল্প পণ্য গ্রহণ দায়মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায়। ঋণ ও অন্যান্য দায় পরিশোধের মতো এখানেও বিকল্প বৈধ।