📄 বাইয়ে সালামের শর্তাবলী
বায়য়ে সালামের জন্যে কিছু শর্ত রয়েছে, যা বায়য়ে সালাম বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্ণ হওয়া জরুরি। এ সব শর্তের কয়েকটি এমন রয়েছে যা মূলধনের মধ্যে থাকা চাই, আর কয়েকটি এমন, যা পণ্যের মধ্যে থাকা চাই।
📄 মূল ধনের শর্তাবলী
মূলধনের (অর্থাৎ যা মূল্য হিসাবে অগ্রিম দেয়া হয় তার) শর্তাবলী: ১. শ্রেণী নির্দিষ্ট হওয়া, ২. পরিমাণ নির্দিষ্ট হওয়া ৩. একই বৈঠকে হস্তান্তরিত হওয়া।
📄 পণ্যের শর্তাবলী
১. নিশ্চয়তা সহকারে প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ।
২. এমন স্পষ্টভাবে তার বর্ণনা দেয়া, যাতে তার পরিমাণ ও গুণাবলী জানা যাবে এবং সেই গুণাবলী দ্বারা পণ্যটিকে অন্যান্য পণ্য থেকে পৃথক করা যাবে, যাতে বিবাদ-বিসম্বাদ ও প্রতারণার সম্ভাবনা না থাকে।
৩. সময় নির্দিষ্ট থাকা। ইমাম মালেক বলেন: ফসল কাটা ও হাজীদের আগমন ইত্যাদি দ্বারা সময় নির্দিষ্ট করা বছর ও মাসের সংখ্যা জানা থাকা সাপেক্ষে জায়েয।
📄 নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্ত
অধিকাংশ আলিমের মতে বায়য়ে সালামে মেয়াদ বিবেচ্য বিষয়। তারা বলেন: তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন ছাড়া বাইয়ে সালামে জায়েয নেই। শাফেয়ি মযহাব মতে এটা জায়েয। কেননা অনিশ্চয়তা থাকা সত্বেও বিলম্বিত বিক্রয় যখন জায়েয, তখন নগদ বিক্রয় আরো ভালোভাবে জায়েয। হাদিসে যে মেয়াদ নির্দিষ্টকরণের কথা বলা হয়েছে, তা শর্তারোপের উদ্দেশ্যে বলা হয়নি, বরং তার অর্থ হলো: এটা যদি তাৎক্ষণিক ও নগদ না হয়, তাহলে মেয়াদ নির্ধারিত হওয়া চাই।
ইমাম শওকানী বলেন: শাফেয়ি মযহাবের মতটাই যথার্থ ও সঠিক। অর্থাৎ মেয়াদ থাকা জরুরি নয়। এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বিনা প্রমাণে কোনো বিষয়ের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা জরুরি নয়।
যদি বলা হয় যে, মেয়াদ না থাকলে সেটা একটা অস্তিত্বহীন জিনিসের বিক্রয়ে পর্যবসিত হওয়া অবধারিত, যা বায়য়ে সালাম ব্যতীত অন্য কোথাও অনুমোদিত হয়নি এবং প্রকৃত পক্ষে বায়য়ে সালামেও প্রচলিত ক্রয়-বিক্রয়ে মেয়াদ ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই। তবে এর জবাব এই যে, সাধারণ বিক্রয় ও বায়য়ে সালামের প্রকৃতিতেই পার্থক্য রয়েছে এবং সে পার্থক্যই যথেষ্ট।