📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাইয়ে সালামের বৈধতা

📄 বাইয়ে সালামের বৈধতা


কুরআন, সুন্নাহ্ ও ইজমা দ্বারা বায়য়ে সালামের বৈধতা প্রমাণিত।
১. ইবনে আব্বাস রা. বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অগ্রিম মূল্য প্রদানকে আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন। অত:পর তিনি নিম্নের আয়াতটি পাঠ করলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُم بِدَيْنِ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার কর তখন তা লিখে রেখ।' (সুরা বাকারা: ২৮২)
২. ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ সা. যখন মদিনায় এলেন তখন মদিনাবাসী ফলমূলের জন্য এক বছর বা দু'বছরের মেয়াদে অগ্রিম মূল্য দিয়ে রাখতো। এটা দেখে রসূল সা. বললেন: যে ব্যক্তি অগ্রিম পণ্যমূল্য পরিশোধ করবে সে যেন নির্দিষ্ট মাপে ও নির্দিষ্ট ওজনে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পণ্য প্রাপ্তির জন্য তা পরিশোধ করে।'
ইবনুল মুনযির বলেন: 'যে ক'জন আলিমের অভিমত আমাদের সংগ্রহে রয়েছে, তাদের সবাই একমত যে, বায়য়ে সালাম বৈধ।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শরিয়তের বিধিধানের সাথে এটি সংগতিপূর্ণ

📄 শরিয়তের বিধিধানের সাথে এটি সংগতিপূর্ণ


শরিয়তের বিধিমালার সাথে এটি সংগতিপূর্ণ: বাই'য়ে সালামের বৈধতা শরিয়তের দাবি ও চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ, শরিয়তের বিধিমালার অনুকূল এবং কিয়াসের সাথে তার কোনো বিরোধ নেই। কেননা ক্রয়বিক্রয়ে মূল্য বিলম্বে পরিশোধ করা যেমন জায়েয, তেমনি বায়য়ে সালামে পণ্য বিলম্বে প্রদানও জায়েয। এই দুটিতে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহ্ তো বলেছেন: 'যখন তোমরা একে অন্যের সাথে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার কর, তখন তা লিখে রাখ।' এখানে ঋণ দ্বারা সেই সম্পদ বুঝানো হয়েছে, যা প্রদান করার নিশ্চয়তা দেয়া ও দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে। যখন পণ্য সুনির্দিষ্ট ও সুবিদিত হবে এবং তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া ও দায়িত্ব গ্রহণ করা হবে, আর ক্রেতা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হবার পূর্বেই বিক্রেতার নিকট থেকে পণ্য বুঝে পাওয়ার ব্যাপারে আস্থাশীল হবে, তখন বিক্রীত পণ্যটিই ঋণ বা ধার বলে গণ্য হবে, যা বিলম্বে প্রদান বা হস্তান্তর করা জায়েয আছে।
এ বিষয়েই ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: কোনো ব্যক্তি তার নিজের কাছে যে দ্রব্য নেই তা বিক্রয় করতে রসূলুল্লাহ সা. যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, বায়য়ে সালাম তার আওতাভুক্ত নয়। যেমন তিনি হাকিম ইবনে হিযাম রা.কে বলেছিলেন: 'তোমার কাছে যা নেই তা বিক্রয় করোনা।' (আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজা, তিরমিযি ও ইবনে হাব্বান কর্তৃক সহিহ আখ্যায়িত) কেননা এ নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত মর্ম হলো, যে দ্রব্য সরবরাহ করার ক্ষমতাই নেই তা যেন কেউ বিক্রয় না করে। কেননা যে জিনিস সরবরাহ করার ক্ষমতা বিক্রেতার নেই, তা আদৌ তার মালেকানায় নেই। কাজেই এমন জিনিস বিক্রয় ধোঁকা ও প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে যে জিনিস সুনির্দিষ্টভাবে বিবৃত ও যা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে
দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে মর্মে বিক্রেতার প্রায় সুনিশ্চিত বিশ্বাস রয়েছে, সে জিনিস উক্ত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বাইয়ে সালামের শর্তাবলী

📄 বাইয়ে সালামের শর্তাবলী


বায়য়ে সালামের জন্যে কিছু শর্ত রয়েছে, যা বায়য়ে সালাম বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্ণ হওয়া জরুরি। এ সব শর্তের কয়েকটি এমন রয়েছে যা মূলধনের মধ্যে থাকা চাই, আর কয়েকটি এমন, যা পণ্যের মধ্যে থাকা চাই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মূল ধনের শর্তাবলী

📄 মূল ধনের শর্তাবলী


মূলধনের (অর্থাৎ যা মূল্য হিসাবে অগ্রিম দেয়া হয় তার) শর্তাবলী: ১. শ্রেণী নির্দিষ্ট হওয়া, ২. পরিমাণ নির্দিষ্ট হওয়া ৩. একই বৈঠকে হস্তান্তরিত হওয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00