📄 মূল্য বৃদ্ধির খাতিরে ক্রয়ের অভিনয়
মালিকের সাথে যোগসাজশপূর্বক পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির খাতিরে উচ্চতর মূল্য বলা, অথচ যে ব্যক্তি উচ্চতর মূল্য বলে, তার কেনার ইচ্ছা নেই। উচ্চতর মূল্যে কিনতে সাধারণ ক্রেতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এ রকম ক্রেতার অভিনয় করা হয়। বুখারি ও মুসলিম ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. বিক্রেতাকে উচ্চতর মূল্যে বিক্রয়ের সুযোগ করে দেয়ার জন্য তৃতীয় ব্যক্তির উচ্চতর মূল্যে ক্রয়ের ভান করা নিষিদ্ধ করেছেন। সকল আলেম একমত হয়ে বলেছেন, এটা হারাম।
হাফেয ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’গ্রন্থে বলেন: এ ধরনের বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয় বৈধ হবে কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইবনুল মুনযির বলেন: মুহাদ্দিসদের একটি গোষ্ঠীর মতে এ ধরনের বিক্রয় অবৈধ। যাহেরি মাযহাব ও ইমাম মালেকের একটি মত এর সমর্থক। কাজটি যদি মালিকের সাথে যোগসাজশ ক্রমে বা মালিকের উদ্যোগে হয়ে থাকে, তবে হাম্বলি মাযহাবের যে মতটি অধিকতর প্রসিদ্ধ, তদনুসারে এ ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা ও ক্রয় বাতিলের অধিকার কার্যকর হবে। শাফেয়িদেরও একটি মত অদৃঢ়। তবে তাদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হলো, বিক্রয় কার্যকর হবে তবে গুনাহ হবে। এটা হানাফি মাযহাবেরও অভিমত।
📄 ইকালা বা ক্রয়বিক্রয় প্রত্যাহার
কোনো ব্যক্তি যদি একটি জিনিস ক্রয় করার পর বুঝতে পারে যে, জিনিসটির তার প্রয়োজন নেই অথবা কেউ একটা জিনিস বিক্রয় করার পর যদি বুঝতে পারে যে, জিনিসটি তার প্রয়োজনীয়, তাহলে সে উক্ত ক্রয় বা বিক্রয় বাতিল করার অনুমতি প্রার্থনা করতে পারবে। ইসলাম এরূপ ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
ইমাম আবু দাউদ ও ইবনে মাজা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে চুক্তি প্রত্যাহারের অনুমতি দেবে, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করবেন।’ এ ধরনের চুক্তি প্রত্যাহার দ্বারা বিক্রয় বাতিল হয়ে যায়। এটা বিক্রীত পণ্য ক্রেতার দখলে যাওয়ার আগে জায়েয। এতে ‘খিয়ারুল মজলিস’ ও ‘খিয়ারুশ শরত্ব’ থাকে না। এতে ‘শুক্ফা’ও (অর্থাৎ সংলগ্ন ভূমির মালিকের ক্রয়াধিকার) থাকে না। কেননা এটা বিক্রয় গণ্য হয় না। চুক্তি বাতিল হওয়ার পর ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে নিজ নিজ প্রাপ্য নিয়ে নেবে। ক্রেতা মূল্য ও বিক্রেতা পণ্য ফেরত নেবে। বিক্রীত পণ্য যদি নষ্ট
হয়ে গিয়ে থাকে বা চুক্তি স্বাক্ষরকারী মারা যায়, কিংবা মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটায় তাহলে চুক্তি প্রত্যাহার অশুদ্ধ হবে।
📄 বাইয়ে সালাম
সংজ্ঞা: নগদ মূল্য পরিশোধপূর্বক কোনো জিনিস এরূপ চুক্তিতে খরিদ করা যে, পণ্যটি বিক্রেতার দায়িত্বে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত থাকবে। ফকিহগণ এর অন্য নাম দিয়েছেন 'প্রয়োজনের বিক্রয়'। কারণ এটা একটা অনুপস্থিত পণ্যের বিক্রয় এবং ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে এর তীব্র প্রয়োজন অনুভব করে। পুঁজির মালিকের পণ্যটি ক্রয় করা প্রয়োজন, আর পণ্যের মালিকের তার মূল্যের প্রয়োজন। এ প্রয়োজন এমন সময় দেখা দেয়, যখন পণ্যটি তার মালিকের নিকট প্রস্তুত অবস্থায় থাকে না। সে মূল্য নিয়ে নিজের কাজে ব্যয় করবে এবং পণ্যটি উৎপাদন ও সরবরাহের কাজে খাটাবে। সুতরাং এটা একটা প্রয়োজনীয় ও স্বার্থক বিক্রয়।
📄 বাইয়ে সালামের বৈধতা
কুরআন, সুন্নাহ্ ও ইজমা দ্বারা বায়য়ে সালামের বৈধতা প্রমাণিত।
১. ইবনে আব্বাস রা. বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অগ্রিম মূল্য প্রদানকে আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন। অত:পর তিনি নিম্নের আয়াতটি পাঠ করলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُم بِدَيْنِ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
'হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার কর তখন তা লিখে রেখ।' (সুরা বাকারা: ২৮২)
২. ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ্ সা. যখন মদিনায় এলেন তখন মদিনাবাসী ফলমূলের জন্য এক বছর বা দু'বছরের মেয়াদে অগ্রিম মূল্য দিয়ে রাখতো। এটা দেখে রসূল সা. বললেন: যে ব্যক্তি অগ্রিম পণ্যমূল্য পরিশোধ করবে সে যেন নির্দিষ্ট মাপে ও নির্দিষ্ট ওজনে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পণ্য প্রাপ্তির জন্য তা পরিশোধ করে।'
ইবনুল মুনযির বলেন: 'যে ক'জন আলিমের অভিমত আমাদের সংগ্রহে রয়েছে, তাদের সবাই একমত যে, বায়য়ে সালাম বৈধ।'