📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পণ্যের ত্রুটি নিয়ে বিবাদ

📄 ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পণ্যের ত্রুটি নিয়ে বিবাদ


ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে থাকা অবস্থায় পণ্যে ত্রুটি দেখা দিয়েছে এ বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং যে কোনো একজনের কাছে থাকা অবস্থায় ত্রুটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু কারো নিকট কোনো প্রমাণ থাকে না, তখন বিক্রেতা শপথপূর্বক যা বলবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। উসমান রা. এ রকমই ফয়সালা করেছিলেন।
কেউ কেউ বলেন: ক্রেতা শপথপূর্বক যা বলবে সেটাই গ্রহণ করা হবে এবং সে বিক্রেতাকে পণ্যটি ফেরত দেবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নষ্ট ডিম ক্রয়

📄 নষ্ট ডিম ক্রয়


যে কোন ব্যক্তি মুরগীর ডিম ক্রয় করার পর ভেংগে নষ্ট দেখতে পায়, সে যখন ইচ্ছা বিক্রেতার নিকট থেকে পূর্ণ মূল্য ফেরত নিতে পারবে। কেননা এ ক্ষেত্রে ক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ বিক্রীত পণ্যটি একটি মূল্যহীন জিনিস এবং তা সম্পদ হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। নষ্ট ডিমটি বিক্রেতাকে ফেরত দিতে ক্রেতা বাধ্য নয়। কেননা তাতে কোনো লাভ নেই এবং উপকারিতাও নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দায় থেকে আয়

📄 দায় থেকে আয়


যখন বিক্রয় বাতিল হয়ে যায় এবং ইতিপূর্বে পণ্যটি ক্রেতার নিকট থাকা অবস্থায় তা থেকে কিছু লাভ পাওয়া যায়, তখন ঐ লাভ ক্রেতার প্রাপ্য। আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'দায় থেকে আয়ের উৎপত্তি।' (ইমাম আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজা। তিরমিযি কর্তৃক বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত।) হাদিসটির ব্যাখ্যা এই যে, বিক্রীত পণ্যটি থেকে যে লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তা ক্রেতার প্রাপ্য। কেননা পণ্যটি তার কাছে থাকা কালে নষ্ট হলে সে তার জন্য দায়ী হতো। কেউ যদি একটা জন্তু কেনে এবং তা কয়েকদিন ভোগ করে, অত:পর তাতে বিক্রয়ের আগে থেকে বিদ্যমান ত্রুটি প্রকাশ পায় এবং অভিজ্ঞ লোকদের অভিমত তার সততা প্রমাণ করে, তবে সে ঐ বিক্রয় বাতিল করতে পারবে এবং যে কয়দিন সে ভোগ করেছে সেটা তার প্রাপ্য। বিক্রেতাকে তার কোনো অংশ দিতে সে বাধ্য নয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে: এক ব্যক্তি একটি দাস ক্রয় করলো অত:পর তাকে নিজের কাজে খাটালো, তারপর তার মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখতে পেল, অত:পর তা বিক্রেতার নিকট ফেরত দিল। বিক্রেতা বললো: আমার দাসকে যে কাজে খাটিয়েছ তার বিনিময়? রসূলুল্লাহ্ সা. বললেন: 'কাজে খাটানো ওটার দায় বহনের বিনিময়ে হয়েছে।' (আবুদাউদ)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিক্রয়ে ধোঁকাবাজির অবকাশ

📄 বিক্রয়ে ধোঁকাবাজির অবকাশ


বিক্রেতা যখন ক্রেতাকে ধোঁকার মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি করে ঠকায় তখন সেটা তার জন্যে হারাম। ক্রেতা এ ধরনের বিক্রীত পণ্য ফেরত দেয়ার জন্যে তিন দিনের অবকাশ পাবে। কেউ কেউ বলেন: তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিতে হবে। বিক্রয়টি হারাম হওয়ার কারণ হলো খোঁকাবাজী বা প্রতারণা। রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের কেউ নয়'।
পণ্য ফেরত দেয়ার অধিকারের প্রমাণ হলো আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত এই হাদিস: রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'উট ও ছাগল-ভেড়ার ওলানে কয়েকদিন দুধ আটকে রেখে ওলান বড় দেখিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করো না।
১৪২ ফিস্ সুন্নাহ যে ব্যক্তি এ ধরনের জন্তু খরিদ করবে সে দুধ দোহনের পর ইচ্ছা করলে রেখে দেবে, নচেৎ তা ফেরত দেবে ও এক সা খোরমাও দেবে।' (বুখারি, মুসলিম)
অর্থাৎ অতিরিক্ত দুধের বিনিময়ে খোরমা বা প্রধান খাদ্য শস্যের কিছু পরিমাণ ফেরত দিতে হবে। ইবনে আব্দুল বার বলেন: এ হাদিসটি প্রতারণা নিষিদ্ধ হওয়ার মূল প্রমাণ। তাছাড়া প্রতারণা যে মূল বিক্রয়কে বাতিল করে না, এটা তারও প্রমাণ, অবকাশের মেয়াদ যে তিনদিন তারও প্রমাণ, এবং ওলান কৃত্রিমভাবে বড় করে দেখানো ও তা দ্বারা অবকাশ সাব্যস্ত হওয়ারও প্রমাণ।'
প্রতারণা যখন বিক্রেতার পক্ষ থেকে হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়, তখন তা হারাম থাকে না। তবে ক্রেতা যাতে ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় সে জন্য তার ফেরত দেয়ার অবকাশ ও অধিকার বহাল থাকবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00