📄 লোকসটি সহকারে বিক্রয়ের বিধি
দোষত্রুটি সহকারে বিক্রয়ের বিধি: দোষত্রুটি ক্রেতার জানা থাকা সত্ত্বেও যখন ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয় তখন উক্ত চুক্তি বাধ্যতামূলক হয়ে যায় এবং কোনো পুনর্বিবেচনার অবকাশ থাকে না। কেননা সে ওটা মেনে নিয়েছে। তবে যখন ক্রেতার অজানা থাকে এবং চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর সে দোষত্রুটির কথা জানতে পারে, তখনও চুক্তি শুদ্ধ ও বৈধ হবে, তবে বাধ্যতামূলক হবে না। সে ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বাধীনতা থাকবে যে, বিক্রেতার নিকট পণ্যটি ফেরত দিয়ে প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেবে, অথবা পণ্যটি নিয়ে নেবে এবং বিদ্যমান ত্রুটির কারণে আনুপাতিক হারে মূল্যের অংশ ফেরত নেবে। তবে সে যদি তাতেই সন্তুষ্ট থাকে কিংবা সম্মতি সূচক কোনো আচরণ করে, যথা ক্রীত পণ্যটি বিক্রয়ের উদ্যোগ নেয়, বা তাকে পুঁজি হিসাবে বিনিয়োগ করে বা হস্তান্তর করে।
ইবনে মুনযির বলেন: হাসান, শুরাইহ্, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল হাসান, ইবনে আবি লায়লা, সাওরী প্রমুখ বলেছেন: 'যখন কেউ কোনো পণ্য ক্রয় করে এবং তাতে কিছু খুঁত আছে জেনেও বিক্রয়ের উদ্যোগ নেয়, তখন সেটা আর ফেরত দেয়ার অধিকার তার থাকে না।' এটা ইমাম শাফেয়িরও অভিমত।
📄 ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পণ্যের ত্রুটি নিয়ে বিবাদ
ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছে থাকা অবস্থায় পণ্যে ত্রুটি দেখা দিয়েছে এ বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং যে কোনো একজনের কাছে থাকা অবস্থায় ত্রুটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু কারো নিকট কোনো প্রমাণ থাকে না, তখন বিক্রেতা শপথপূর্বক যা বলবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। উসমান রা. এ রকমই ফয়সালা করেছিলেন।
কেউ কেউ বলেন: ক্রেতা শপথপূর্বক যা বলবে সেটাই গ্রহণ করা হবে এবং সে বিক্রেতাকে পণ্যটি ফেরত দেবে।
📄 নষ্ট ডিম ক্রয়
যে কোন ব্যক্তি মুরগীর ডিম ক্রয় করার পর ভেংগে নষ্ট দেখতে পায়, সে যখন ইচ্ছা বিক্রেতার নিকট থেকে পূর্ণ মূল্য ফেরত নিতে পারবে। কেননা এ ক্ষেত্রে ক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ বিক্রীত পণ্যটি একটি মূল্যহীন জিনিস এবং তা সম্পদ হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। নষ্ট ডিমটি বিক্রেতাকে ফেরত দিতে ক্রেতা বাধ্য নয়। কেননা তাতে কোনো লাভ নেই এবং উপকারিতাও নেই।
📄 দায় থেকে আয়
যখন বিক্রয় বাতিল হয়ে যায় এবং ইতিপূর্বে পণ্যটি ক্রেতার নিকট থাকা অবস্থায় তা থেকে কিছু লাভ পাওয়া যায়, তখন ঐ লাভ ক্রেতার প্রাপ্য। আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'দায় থেকে আয়ের উৎপত্তি।' (ইমাম আহমদ, আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজা। তিরমিযি কর্তৃক বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত।) হাদিসটির ব্যাখ্যা এই যে, বিক্রীত পণ্যটি থেকে যে লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তা ক্রেতার প্রাপ্য। কেননা পণ্যটি তার কাছে থাকা কালে নষ্ট হলে সে তার জন্য দায়ী হতো। কেউ যদি একটা জন্তু কেনে এবং তা কয়েকদিন ভোগ করে, অত:পর তাতে বিক্রয়ের আগে থেকে বিদ্যমান ত্রুটি প্রকাশ পায় এবং অভিজ্ঞ লোকদের অভিমত তার সততা প্রমাণ করে, তবে সে ঐ বিক্রয় বাতিল করতে পারবে এবং যে কয়দিন সে ভোগ করেছে সেটা তার প্রাপ্য। বিক্রেতাকে তার কোনো অংশ দিতে সে বাধ্য নয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে: এক ব্যক্তি একটি দাস ক্রয় করলো অত:পর তাকে নিজের কাজে খাটালো, তারপর তার মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখতে পেল, অত:পর তা বিক্রেতার নিকট ফেরত দিল। বিক্রেতা বললো: আমার দাসকে যে কাজে খাটিয়েছ তার বিনিময়? রসূলুল্লাহ্ সা. বললেন: 'কাজে খাটানো ওটার দায় বহনের বিনিময়ে হয়েছে।' (আবুদাউদ)