📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খিয়ারুল শর্ত বা মেয়াদী অবকাশ

📄 খিয়ারুল শর্ত বা মেয়াদী অবকাশ


খিয়ারুশ শরত বা মেয়াদী অবকাশ: যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার যে কোনো একজন এই শর্তে ক্রয় বা বিক্রয় করে যে, একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সে উক্ত ক্রয় বা বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিল করার স্বাধীনতা বা অবকাশ পাবে, সে মেয়াদ বা অবকাশ যত দীর্ঘ হোকনা কেন তখন তাকে 'খিয়ারুশ শরত' বলা হয়। এ ধরনের শর্ত আরোপ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যে কিংবা যে কোনো একজনের জন্যে চলতে পারে। এ ধরনের শর্ত আরোপের বৈধতার উৎস হলো নিম্নোক্ত দু'টি হাদিস:
১. ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন: 'যে কোনো ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে সম্পাদিত ক্রয় বা বিক্রয় চুড়ান্ত হবে না যতোক্ষণ তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। তবে শর্ত আরোপের অধিকার সংবলিত ক্রয়-বিক্রয় এর ব্যতিক্রম।' অর্থাৎ তারা উভয়ে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পাদিত ক্রয় বা বিক্রয় তাদের জন্য অপরিহার্য হবে না। তবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও তারা উভয়ে বা একজনে যদি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পুনর্বিবেচনার অবকাশ গ্রহণ করে তাহলে সেই মেয়াদ পর্যন্তও ক্রয় বা বিক্রয় অপরিহার্য হবে না, বরং বাতিল করার সুযোগ থাকবে।
২. ইবনে উমর রা. থেকে আরো বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন: 'যখন দুই ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন উভয়ে যতোক্ষণ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন না হয় ততোক্ষণ বহাল রাখা বা বাতিল করার স্বাধীনতা তাদের সামনে অনুরূপ যখন উভয়ে বা একজন অপরজনকে অবকাশ দিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করবে তখনও ক্রয়-বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিল করার স্বাধীনতা থাকবে।' যখন নির্ধারিত মেয়াদ অতিবাহিত হয়ে যাবে এবং ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বাতিল হবে না, তখন ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। মেয়াদী অবকাশের শর্ত কথা বলেও বাতিল করা যাবে, আবার ক্রেতার কার্য দ্বারাও তা আপনা আপনি রহিত হতে পারে। যেমন সে যদি তার ক্রীত দ্রব্য ওয়াকফ বা দান করে দেয় কিংবা বিক্রয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে, তা হলে রহিত হবে। কেননা এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সে বিক্রয়টা মেনে নিয়েছে। যতোক্ষণ তার অবকাশ বহাল থাকবে, ততোক্ষণ তার পক্ষ থেকে পণ্যটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নিষ্ফল হবে।
ইমাম আহমদের মতে পুনর্বিবেচনার অবকাশের মেয়াদ দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে যতখুশি দীর্ঘ করা যেতে পারে। ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ির মতে মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন দিন এবং ইমাম মালেকের মতে প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খিয়ারুল আয়র বা ত্রুটিজনিত অবকাশ

📄 খিয়ারুল আয়র বা ত্রুটিজনিত অবকাশ


খিয়ারুল আয়ব বা ত্রুটি জনিত অবকাশ: বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি গোপন করা হারাম: বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি ক্রেতার নিকট ব্যক্ত না করে বিক্রয় করা হারাম।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি গোপন করা হারাম

📄 বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি গোপন করা হারাম


বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি গোপন করা হারাম: বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি ক্রেতার নিকট ব্যক্ত না করে বিক্রয় করা হারাম।
১. উব্বা ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'মুসলমান মুসলমানের ভাই। কোনো মুসলমান ভাই তার নিকট কোনো পণ্য বিক্রয় করবে, অথচ তাতে যে ত্রুটি রয়েছে তা তাকে জানাবেনা এটা অবৈধ।' (আহমদ, ইবনে মাজা, দারা কুতনি, হাকিম ও তাবরানী)
২. আদ্দা ইবনে খালিদ বলেন: রসূলুল্লাহ্ সা. আমাকে লিখে দিয়েছিলেন: 'এ হচ্ছে আল্লাহ্র রসূল মুহাম্মদ সা.এর নিকট থেকে আদ্দা ইবনে খালিদের ক্রীত পণ্যের দলিল। সে তাঁর কাছ থেকে এমন একজন দাস বা দাসী ক্রয় করেছে, যার কোনো রোগ নেই, কোনো অমঙ্গল নেই, চরিত্রহীনতা নেই। মুসলমানের সাথে মুসলমানের বিক্রয়।'
৩. রসূল সা. বলেন: 'যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোঁকা দেয় সে আমাদের লোক নয়।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লোকসটি সহকারে বিক্রয়ের বিধি

📄 লোকসটি সহকারে বিক্রয়ের বিধি


দোষত্রুটি সহকারে বিক্রয়ের বিধি: দোষত্রুটি ক্রেতার জানা থাকা সত্ত্বেও যখন ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয় তখন উক্ত চুক্তি বাধ্যতামূলক হয়ে যায় এবং কোনো পুনর্বিবেচনার অবকাশ থাকে না। কেননা সে ওটা মেনে নিয়েছে। তবে যখন ক্রেতার অজানা থাকে এবং চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর সে দোষত্রুটির কথা জানতে পারে, তখনও চুক্তি শুদ্ধ ও বৈধ হবে, তবে বাধ্যতামূলক হবে না। সে ক্ষেত্রে ক্রেতার স্বাধীনতা থাকবে যে, বিক্রেতার নিকট পণ্যটি ফেরত দিয়ে প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেবে, অথবা পণ্যটি নিয়ে নেবে এবং বিদ্যমান ত্রুটির কারণে আনুপাতিক হারে মূল্যের অংশ ফেরত নেবে। তবে সে যদি তাতেই সন্তুষ্ট থাকে কিংবা সম্মতি সূচক কোনো আচরণ করে, যথা ক্রীত পণ্যটি বিক্রয়ের উদ্যোগ নেয়, বা তাকে পুঁজি হিসাবে বিনিয়োগ করে বা হস্তান্তর করে।
ইবনে মুনযির বলেন: হাসান, শুরাইহ্, আব্দুল্লাহ্ ইবনুল হাসান, ইবনে আবি লায়লা, সাওরী প্রমুখ বলেছেন: 'যখন কেউ কোনো পণ্য ক্রয় করে এবং তাতে কিছু খুঁত আছে জেনেও বিক্রয়ের উদ্যোগ নেয়, তখন সেটা আর ফেরত দেয়ার অধিকার তার থাকে না।' এটা ইমাম শাফেয়িরও অভিমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00