📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হস্তগত হওয়ার আগে পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে

📄 হস্তগত হওয়ার আগে পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে


১. বিক্রীত পণ্য যদি ক্রেতার কর্ম দোষে পুরোপুরিভাবে বা আংশিকভাবে হস্তগত করার আগে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বিক্রয় বাতিল হবে না, বরং বহাল থাকবে, এবং ক্রেতা পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হবে। কেননা পণ্যটি ধ্বংস হওয়ার জন্য সে-ই দায়ী।
২. আর যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কর্ম দোষে ধ্বংস হয়, তাহলে ক্রেতা হয় ক্রয় বাতিল করবে, নতুবা দায়ী ব্যক্তির কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করবে।
৩. যদি পণ্যটি ক্রেতার দখলে যাওয়ার আগে বিক্রেতার দোষে, বা বিক্রীতের দোষে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আংশিক বা সামগ্রিকভাবে নষ্ট হয়, তবে বিক্রয় বাতিল হবে।
৪. বিক্রেতার দোষে যখন বিক্রীত পণ্যের অংশ বিশেষ নষ্ট হয় তবে ক্রেতা নষ্ট হওয়া অংশের পরিমাণ মূল্য প্রদান থেকে অব্যাহতি পাবে। অবশিষ্ট অংশ মূল্য দিয়ে নেয়া বা না নেয়ার ব্যাপারে সে স্বাধীন।
৫. বিক্রীত পণ্যের অংশ বিশেষ যদি বিক্রীতের নিজের দোষে নষ্ট হয় তাহলে মূল্যের কোনো অংশ থেকেই ক্রেতা অব্যাহতি পাবে না। হয় সে পুরো ক্রয় বাতিল করবে, নচেৎ পুরো মূল্য দিয়ে পণ্যের অবশিষ্টাংশ গ্রহণ করবে।
৬. যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নষ্ট হয় তাহলে যে পরিমাণ নষ্ট হয়েছে, সে পরিমাণ মূল্য থেকে ক্রেতা অব্যাহতি পাবে। অবশিষ্ট অংশ হয় বাদবাকি মূল্য দিয়ে নিয়ে নেবে, নচেৎ ক্রয় বাতিল করবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হস্তগত হওয়ার পর নিয়মিত পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে

📄 হস্তগত হওয়ার পর নিয়মিত পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে


হস্তগত হওয়ার পর বিক্রীত পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে: বিক্রীত পণ্য যখন ক্রেতার হস্তগত হওয়ার পর ধ্বংস হয়, তখন তা বিক্রেতার অবকাশ প্রার্থনার আওতাভুক্ত না হলে পণ্যটি ক্রেতার দায়ভুক্ত হবে এবং সে তার মূল্য দিতে বাধ্য থাকবে। আর যদি বিক্রেতার অবকাশ প্রার্থনার আওতাভুক্ত হয় তবে সে তার মূল্য বা সমপরিমাণ পণ্য ক্রেতাকে দিতে বাধ্য থাকবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দর নিয়ন্ত্রণ

📄 দর নিয়ন্ত্রণ


দর নিয়ন্ত্রণ: দর নিয়ন্ত্রণ দ্বারা বুঝায় পণ্যমূল্য এমন সীমার মধ্যে রাখা, যাতে বিক্রেতা যুলুম না করে এবং ক্রেতা না ঠকে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দর নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ

📄 দর নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ


ইমাম আবুদাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজা বিশুদ্ধ সনদে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন: লোকেরা বললো, হে রসূলুল্লাহ্, পণ্য মূল্য বেড়ে গেছে। সুতরাং আপনি মূল্য নির্দিষ্ট করে দিন। রসূলুল্লাহ্ সা. বললেন: মূল্য নির্দিষ্টকারী তো আল্লাহ। তিনি রিযিকদাতা, রিযিক হ্রাস-বৃদ্ধিকারী। আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করতে চাই যে, কারো জান বা মালের ক্ষতি করে যুলুম করেছি- এমন অভিযোগ কেউ যেন আমার বিরুদ্ধে করতে না পারে।'
এ হাদিস থেকে আলেমগণ এ বিধি প্রণয়ন করেন যে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বা নির্ধারণে হস্তক্ষেপ অবৈধ। কেননা তাতে যুলুমের ধারণা জন্মে। অথচ সাধারণ মানুষ আর্থিক লেনদেনে স্বাধীন। বাজার দর বেঁধে দেয়া এই স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিক্রেতার স্বার্থ রক্ষার চেয়ে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষা অগ্রগণ্য নয়। উভয়ের স্বার্থ যখন পরস্পর বিরোধী হয় তখন কিভাবে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করা যায় তা ভেবে দেখতে উভয় পক্ষকে সুযোগ ও ক্ষমতা প্রদান করা জরুরী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00