📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বায়না বিক্রয়

📄 বায়না বিক্রয়


বায়না বিক্রয়: বায়না বিক্রয় হলো, ক্রেতা কর্তৃক মূল্যের একাংশ বিক্রেতাকে প্রদান করা। অত:পর বিক্রয় সম্পন্ন হলে মোট মূল্য থেকে প্রদত্ত অংশ বাদ যাবে। নচেৎ বিক্রেতা প্রদত্ত অংশকে ক্রেতার উপহার হিসাবে গ্রহণ করবে। অধিকাংশ ফকিহের মতে এ ধরনের বিক্রয় অশুদ্ধ ও অচল। কেননা ইবনে মাজা বর্ণনা করেছেন: রসূলুল্লাহ সা. বায়না বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন। ইমাম আহমদ এ হাদিসকে দুর্বল আখ্যায়িত ও বায়না বিক্রয়কে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। তিনি এর প্রমাণ স্বরূপ নাফে' ইবনে আব্দুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন যে, নাফে' সাফওয়ান ইবনে উমাইয়ার নিকট থেকে উমর রা. এর জন্য কারাগৃহ খরিদ করেন চার হাজার দিরহামের বিনিময়ে। উমর রা. সম্মত হলে বিক্রয় সম্পন্ন হবে, নচেৎ সাফওয়ান চারশো দিরহাম পাবে। ইবনে সিরীন ও ইবনুল মুসাইয়্যব বলেন: ক্রেতা যদি পণ্যটি অপছন্দ করে তবে তা যদি ফেরত দেয় এবং সেই সাথে আরো কিছু ফেরত দেয়, তবে দিতে পারে। ইবনে উমর রা. এ বিক্রয় বৈধ বলে রায় দিয়েছেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সকল দোষ সম্পর্কে দায়মুক্ত হওয়ার শর্তে বিক্রয়

📄 সকল দোষ সম্পর্কে দায়মুক্ত হওয়ার শর্তে বিক্রয়


যে কোনো অজানা দোষত্রুটি সম্পর্কে বিক্রেতা দায়মুক্ত-এই শর্তে বিক্রয় করলেও বিক্রেতা দায়মুক্ত হবে না। ক্রেতা পণ্যে খুঁত পেলেই তা
ফেরত দিতে পারবে। কেননা কোনো খুঁত বা ত্রুটি আছে কিনা তা বিক্রয়ের পরেই প্রমাণিত হয়। কাজেই পূর্বাহ্নে দায়মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়, তবে বিক্রেতা যদি পূর্বাহ্নে পণ্যের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করে কিংবা চুক্তির পর ক্রেতা তাকে দায়মুক্ত করে তা হলে বিক্রেতা দায়মুক্ত হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. যায়েদ ইবনে সাবিতের নিকট দায়মুক্তির শর্তে আটশো দিরহামের বিনিময়ে একটি দাস বিক্রয় করেন। পরে যায়েদ দেখতে পান তার মধ্যে একটা খুঁত রয়েছে। তাই তিনি ইবনে উমরকে দাসটি ফেরত দিতে চান। কিন্তু ইবনে উমর ফেরত নিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে উভয়ে উসমান রা. এর নিকট বিচার প্রার্থী হন। উসমান রা. ইবনে উমরকে বললেন: আপনি কি শপথ করতে পারবেন যে, এই খুঁত আপনার জানা ছিলনা? তিনি বললেন: না। তখন তিনি ইবনে উমরকে দাসটি ফেরত দিলেন। অত:পর ইবনে উমর সেটি এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করেন। ইমাম আহমদ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, তারা এই বিক্রয়ের বিশুদ্ধতা ও দায়মুক্তির শর্তের বৈধতার ব্যাপারে একমত ছিলেন। আর উসমান ও যায়েদ এই মর্মে একমত ছিলেন যে, বিক্রেতা যদি পূর্বাহ্নে খুঁত সম্পর্কে অবহিত থাকে তাহলে দায়মুক্তির শর্ত তাকে দায়মুক্তি দেবে না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিরোধ

📄 ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিরোধ


ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যখন মূল্য নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং উভয়ের মধ্যে কোনো সাক্ষী প্রমাণ থাকে না, তখন বিক্রেতা শপথপূর্বক যা বলবে, সেটাই গ্রহণযোগ্য হবে। আর ক্রেতাকে হয় বিক্রেতা যে মূল্য বলেছে তা দিয়ে পণ্যটি নিতে হবে, নতুবা শপথ করে বলতে হবে যে, সে এই মূল্যে ক্রয় করে নি, বরং আরো কম মূল্যে ক্রয় করেছে। ক্রেতা এভাবে শপথ করলে পণ্যটি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই পাবে এবং তা বিক্রেতাকে ফেরত দেয়া হবে, চাই পণ্যটি বহাল থাকুক বা নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকুক। এর ভিত্তি হাদিস, যা আব্দুর রহমান ইবনে কায়েস ইবনে আশয়াস থেকে ইমাম আবুদাউদ বর্ণনা করেছেন: 'আশয়াস আব্দুল্লাহর নিকট থেকে খুমুস বাবত আগত গোলামদের মধ্য থেকে কয়েকটি গোলাম বিশ হাজার মুদ্রায় খরিদ করলেন। অত:পর আব্দুল্লাহ্ তাদের মূল্য আদায় করতে তার নিকট দূত পাঠালেন। তখন আয়াস বললেন: আমি তো এই গোলামগুলো দশ হাজার মুদ্রায় কিনেছি। আব্দুল্লাহ্ বললেন: তাহলে আপনি আমার ও আপনার বিরোধ মীমাংসার্থে একজন সালিশ নির্ধারণ করুন। আশ্যাস বললেন: আপনিই আমার ও আপনার মধ্যে সালিশ। আব্দুল্লাহ্ বললেন: আমি রসূলুল্লাহ্ সা. কে বলতে শুনেছি: যখন ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিরোধ দেখা দেবে এবং তাদের মধ্যে কোনো সাক্ষী থাকবে না, তখন পণ্যের মালেক যা বলবে, সেটাই গ্রহণযোগ্য হবে, নচেৎ বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে।' আলিমগণ এ হাদিস গ্রহণ করেছেন। শাফেয়ি এই হাদিসের সাধারণ মর্ম গ্রহণপূর্বক বলেছেন: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে শপথ করে যেমন বলবে তেমন ফায়সালা হবে, যখন মূল্য, মেয়াদ, শর্ত, বন্ধক বা রাহন নিয়ে বিরোধ হবে, তখন উভয়ে শপথ করবে।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অজ্ঞাত বিক্রয়ের বিধি

📄 অজ্ঞাত বিক্রয়ের বিধি


অশুদ্ধ বিক্রয়ের বিধি: যে বিক্রয় শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিক্রয়ের সকল শর্ত ও উপাদান পূর্ণ করে সম্পাদন করা হয়, সেটাই শুদ্ধ ও বৈধ বিক্রয়। এ দ্বারা বিক্রীত পণ্য, তার মূল্যের মালেকানা স্বত্ব ও তা দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ হয়। কিন্তু যদি শরিয়তের বিধি লংঘিত হয়, তবে সেই বিক্রয় শুদ্ধ হবে না, বরং তা অশুদ্ধ, অবৈধ ও বাতিল হবে।
সুতরাং অশুদ্ধ ও অবৈধ বিক্রয় হচ্ছে সে বিক্রয়, যা ইসলাম অনুমোদন করেনি। তাই এই বিক্রয় অসম্পন্ন ও শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ থেকে যায় এবং এ দ্বারা মালেকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়না। এমনকি ক্রেতা যদি পণ্য হস্তগত করে বা দখলে নিয়ে নেয় তবুও নয়। অবৈধ কাজ মালেকানা অর্জনের মাধ্যম হতে পারেনা।
ইমাম কুরতুবি বলেন: 'সুস্পষ্ট হারাম কাজ দ্বারা যাই সম্পাদিত হয়ে থাকুক না কেন, তা বাতিল। সে ক্ষেত্রে ক্রেতার করণীয় হবে পণ্যটি হুবহু ফেরত দেয়া। আর যদি তার হাতে আসার পর তা নষ্ট হয়ে থাকে তবে তার মূল্য নির্ধারিত থাকলে মূল্য পরিশোধ করবে, যেমন ভূমি, জীবজন্তু ও আসবাবপত্র। আর যে জিনিসের বিনিময় ওজন বা মাপ যোগ্য জিনিস দ্বারা দেয়া হয়, যেমন খাদ্যশস্য বা অনুরূপ অন্য কোনো দ্রব্য, তার বিনিময় উক্ত জিনিস দিয়ে পরিশোধ করবে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00