📄 তাবলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়ালিয়া বৈধতা
তাওলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়াযিয়ার বৈধতা: তাওলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়াযিয়া এই তিন ধরনের বিক্রয় বৈধ। তবে শর্ত এই যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিকট পণ্যের ক্রয় মূল্য জ্ঞাত থাকা চাই। তাওলিয়া হচ্ছে পণ্যকে আসল ক্রয়মূল্যে কোনো লাভ-লোকসান ছাড়া বিক্রয় করা। আর মুরাবাহা হলো ক্রয় মূল্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভসহ বিক্রয় করা। আর ওয়াযিয়া হলো ক্রয়মূল্যের চেয়েও কম মূল্যে বিক্রয় করা।
📄 কুরআন শরীফ ক্রয় ও বিক্রয়
সকল ফকীহ একমত যে, কুরআন মজীদ ক্রয় করা বৈধ। কিন্তু বিক্রয় করা বৈধ কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। হাম্বলীদের মতে বিক্রয় অবৈধ। অবশিষ্ট তিন মযহাবে বৈধ। ইমাম আহমদ বলেন: কুরআন শরীফ বিক্রয়ে আমি কোনো বৈধতা পাই না।
📄 মক্কার ঘরবাড়ি বিক্রয় ও ভাড়া দেয়া
ইমাম আওয়ায়ি, ইমাম সাওরি, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আবু হানিফার মতে এটা বৈধ।
📄 পানি বিক্রয়
নদির পানি, সমুদ্রের পানি, ঝর্নার পানি ও বৃষ্টির পানি সকল মানুষের মালেকানাভুক্ত। এ সব পানিতে কারো কোনো অগ্রাধিকার নেই। এ সব পানি যতক্ষণ তার আধারে থাকবে ততক্ষণ ক্রয়-বিক্রয় চলবেনা। আবুদাউদের বর্ণনা মোতাবেক রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন:
মুসলমানগণ তিনটি জিনিসের উপর সম্মিলিত মালেকানার অধিকারী: পানি, আগুন ও ঘাস।' ইয়াস মাযানি বর্ণনা করেন, তিনি দেখলেন একদল মানুষ পানি বিক্রয় করছে। তিনি বললেন: 'তোমরা পানি বিক্রয় করোনা। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সা. কে পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করতে শুনেছি।' তবে যখন কোনো ব্যক্তি পানি সংরক্ষণ করে, তখন সে তার মালেক হয়ে যায় এবং তখন তা বিক্রয় করা বৈধ হয়ে যায়। তদ্রূপ যখন কেউ নিজ মালেকানাভুক্ত যমিতে কোনো পুকুর খনন করে কিংবা ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করে, তখন তার জন্য পানি বিক্রয় করা বৈধ হয়ে যায়। কেননা রসূলুল্লাহ্ সা. যখন মদিনায় এলেন, তখন সেখানে 'রুমার কুয়া' নামে জনৈক ইহুদির একটা কুয়া ছিল। সে ঐ কুয়া থেকে জনসাধারণের নিকট পানি বিক্রয় করতো। রসূলুল্লাহ সা. তার এই পানি বিক্রয় এবং তার নিকট থেকে মুসলমানদের পানি ক্রয় বহাল রাখলেন। এটা সেদিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল যেদিন উসমান রা. কুয়াটি কিনে মুসলমানদের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন। এরূপ পরিস্থিতিতে পানি বিক্রয় করা, জংগলের কাঠ কেটে মালেক হওয়ার পর তা বিক্রয় করার সাথে তুলনীয়। মালেক হওয়ার আগে জংগলের কাঠ সবার জন্য অনুমোদিত। যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি তার মালেক হয়ে যায় তখন তা বিক্রয় করা বৈধ। রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'তোমাদের কেউ যদি একটা রশি জোগাড় করে তা দ্বারা কাঠের আঁটি বানিয়ে মানুষের নিকট বিক্রয় করে তবে সেটা ভিক্ষা করার চেয়ে ভালো। ভিক্ষুককে কেউ কিছু দিতেও পারে, নাও দিতে পারে।'
পানি বিক্রয় করার সময় সেখানে পানির পরিমাণ নির্ধারণের কোনো উপকরণ যথা মিটার থাকলে তা দিয়ে পরিমাণ নির্ণয় করা শরিয়তে বৈধ। আর যদি পরিমাপের কোনো উপকরণ না থাকে তবে সমাজে যে রীতি-প্রথা প্রচলিত আছে তা অনুসরণ করা হবে। এ হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থার বিধি। কোথাও অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করলে সেখানে পানির মালিকের উপর বিনামূল্যে পানি বিতরণ করা বাধ্যতামূলক হবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: 'কেয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ কথা বলবেন না: যে ব্যক্তি নিজের উদ্বৃত্ত পানি পথিককে দিতে অস্বীকার করে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে পণ্য বিক্রয় করে, আর যে ব্যক্তি শাসকের আনুগত্যের অংগীকার করার পর শাসক তাকে পারিতোষিক দিলে অংগীকার পূর্ণ করে, নচেৎ অংগীকার ভংগ করবে।'