📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অধিক শপথ করা নিষেধ

📄 অধিক শপথ করা নিষেধ


১. রসূলুল্লাহ্ সা. অধিক শপথ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: 'শপথ পণ্যকে চালু করে, কিন্তু তার বরকত গ্রাস করে।' (বুখারি, আবু হুরায়রা) কেননা এর ফলে আল্লাহর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা কমে যায়। তাছাড়া এটা ক্রেতাকে ঠকানো ও প্রতারণার একটা কৌশলেও পরিণত হয়।
২. ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন: 'সাবধান, বিক্রয় করার সময় অধিক পরিমাণে শপথ করো না। কেননা এতে ব্যবসায়ের প্রসার ঘটে, কিন্তু অচিরেই ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পায়।'
৩. রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'ব্যবসায়ীরা পাপিষ্ঠ।' লোকেরা বললো: হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ্ কি ব্যবসায়কে হালাল করেন নি? তিনি বললেন: হাঁ, করেছেন। কিন্তু তারা শপথ করে গুনাহ করে এবং কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে।' (আহমদ)।
৪. ইবনে মাসউদ রা. সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের সম্পদের উপর অন্যায়ভাবে শপথ করবে, সে যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাত করবে তখন তিনি তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন। অত:পর রসূল সা.. এর প্রমাণস্বরূপ আমাদের সামনে আল্লাহ্র কিতাব থেকে একটি আয়াত শোনালেন: إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ 'যারা আল্লাহ্র সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্য বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।' (আলে ইমরান, ৭৭)
৫. ইমাম বুখারি বর্ণনা করেন: জনৈক বেদুইন রসূলুল্লাহ্ সা. এর নিকট এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ্, কবিরা গুনাহ কী কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক করা। সে বললো: তারপর কী? তিনি বললেন: মিথ্যা শপথ করা। সে বললো: মিথ্যা শপথ কী? তিনি বললেন: কোনো মুসলমানের সম্পত্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা। মিথ্যা শপথ শপথকারীকে জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত করে। কোনো কোনো ফকিহের মতে এর কোনো কাফ্ফারা নেই। কেননা এটা এত জঘন্য ও মারাত্মক পাপ যে, কাফ্ফারা দিয়ে তা মোচন করা সম্ভব নয়।
৬. আবু উমামা রা. সূত্রে বর্ণিত, রসূল সা. বলেন: যে ব্যক্তি শপথ দ্বারা কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ্ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব ও জান্নাত হারাম করে দেন। এক ব্যক্তি বললো: হে রসূল, যদি তা অতি নগণ্য জিনিসও হয়? প্রত্যুত্তরে রসূল সা. বললেন: গাছের একটা মরা ডালও যদি হয়।' (মুসলিম)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মসজিদের অভ্যন্তরে ক্রয়-বিক্রয়

📄 মসজিদের অভ্যন্তরে ক্রয়-বিক্রয়


ইমাম আবু হানিফা র. মসজিদে ক্রয়বিক্রয়ের অনুমতি দিলেও বিক্রয়ের সময় মসজিদে পণ্য উপস্থিত করা মসজিদের পরিচ্ছন্নতার খাতিরে মাকরূহ গণ্য করেছেন। ইমাম মালেক ও শাফেয়ি মসজিদে ক্রয়বিক্রয়কে বৈধ কিন্তু মাকরূহ আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম আহমদ এটিকে হারাম আখ্যায়িত করেছেন। রসূল সা. বলেছেন: তোমরা কাউকে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলে বলবে: 'আল্লাহ্ যেন তোমার ব্যবসা লাভজনক না করেন।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জুমুয়ার আযানের সময় বিক্রয়

📄 জুমুয়ার আযানের সময় বিক্রয়


ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় যখন সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং যখন জুমুয়ার আযান হয় তখন বিক্রয় হারাম। ইমাম আহমদের মতে এই বিক্রয় অশুদ্ধ। আল্লাহ বলেছেন: يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
'হে মু'মিনগণ! জুমুয়ার দিন যখন নামাযের আহবান জানানো হয় তখন আল্লাহ্র স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে।' (জুমুয়া: ৯)।
জুমুয়ার ব্যাপারে এ নিষেধাজ্ঞার স্বাভাবিক দাবি এই যে, নিষেধাজ্ঞা লংঘনপূর্বক যে বিক্রয় সম্পন্ন হবে তা অশুদ্ধ হবে। অন্যান্য নামাযকেও এরই আলোকে বিচার করতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাবলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়ালিয়া বৈধতা

📄 তাবলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়ালিয়া বৈধতা


তাওলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়াযিয়ার বৈধতা: তাওলিয়া, মুরাবাহা ও ওয়াযিয়া এই তিন ধরনের বিক্রয় বৈধ। তবে শর্ত এই যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিকট পণ্যের ক্রয় মূল্য জ্ঞাত থাকা চাই। তাওলিয়া হচ্ছে পণ্যকে আসল ক্রয়মূল্যে কোনো লাভ-লোকসান ছাড়া বিক্রয় করা। আর মুরাবাহা হলো ক্রয় মূল্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভসহ বিক্রয় করা। আর ওয়াযিয়া হলো ক্রয়মূল্যের চেয়েও কম মূল্যে বিক্রয় করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00