📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ

📄 মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ


মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ: আঙ্গুর থেকে মদ উৎপাদন করা যার পেশা, তার কাছে আঙ্গুর বিক্রয় করা, দেশে গোলযোগে চলাকালে যে কারো কাছে এবং যুদ্ধরত ব্যক্তিদের নিকট সর্বাবস্থায় অস্ত্র বিক্রয় করা নিষিদ্ধ। অনুরূপ, যে জিনিস দ্বারা হারাম ও নিষিদ্ধ কিছু করা ইচ্ছা করা হয়, তা বিক্রয় করাও হারাম। এ ধরনের বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হলে তা বাতিল গণ্য হবে। কেননা চুক্তির উদ্দেশ্য হলো ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের উপকৃত হওয়া। এই উপকার সাধিত হতে পারে প্রাপ্ত বিনিময় হস্তগত হওয়ার মাধ্যমে। বিক্রেতা মূল্য পেয়ে ও ক্রেতা পণ্য পেয়ে উপকৃত হবে। অথচ এখানে কাংখিত উপকার সাধিত হচ্ছে না। কেননা এতে একটা নিষিদ্ধ কাজ সম্পন্ন এবং অন্যায় ও অপরাধ জনক-কাজে সাহায্য করা হচ্ছে, যা শরিয়তে অবৈধ। আল্লাহ বলেছেন: وَتَعَاوَلُوا عَلَى البر والتقوى ط وَلَا تَعَاوَلُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ .
'তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমা লংঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।' (সূরা ৫ মায়িদা: আয়াত ২)
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: মদকে, মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, মদের ক্রেতা-বিক্রেতাকে, প্রস্তুতকারী, প্রস্তুত করার ব্যবস্থাকারী, প্রেরণকারী ও যার নিকট প্রেরণ করা হয়-এই সকল ব্যক্তিকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। রসূলুল্লাহ্ সা. আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি আঙ্গুর পাড়ার মওসুমে আঙ্গুর আটকে রাখলো, যাতে আঙ্গুর দিয়ে মদ প্রস্তুতকারীর কাছে তা বিক্রয় করতে পারে, সে যেন জেনে শুনে নিজের দোযখে প্রবেশের ব্যবস্থা করলো।'
উমর ইবনুল হাসীন বলেন: রসূলুল্লাহ্ সা. গোলযোগের সময় অস্ত্র বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির মতে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন বৈধ। কেননা এর উদ্দেশ্য অবৈধ হলেও প্রচ্ছন্ন। এ ক্ষেত্রে বিষয়টা আল্লাহ্র নিকট সোপর্দ। তিনিই শাস্তি দেবেন।
ইবনে কুদামা বলেন: যে ব্যক্তি সম্পর্কে এটা নিশ্চিত যে, সে আঙ্গুরের নির্যাস দিয়ে মদ বানাবে, তার নিকট আঙ্গুরের নির্যাস বিক্রয় করা হারাম। ক্রেতার মদ বানানোর সুপ্ত ইচ্ছা তার কথাবার্তা বা গতিবিধি দ্বারা জানা গেলে বিক্রয় বাতিল ও হারাম হয়ে যাবে। আর যদি মদ বানানোর ব্যাপারটা কেবল সম্ভাবনার পর্যায়েই থাকে, যেমন যার পেশা বা অবস্থা মোটেই জানা যায় না, অথবা সির্কা ও মদ দুটোই তৈরি করা যার পেশা, এবং সে মদ বানানোর ইচ্ছা ব্যক্তকারী কোনো কথা বলে না, তার নিকট বিক্রয় করা বৈধ। এই বিধি সে সকল জিনিসেই প্রযোজ্য যা দ্বারা হারাম কাজ করার সংকল্প গৃহীত হয়। যেমন যুদ্ধরত লোকদের নিকট, বা ডাকাতদের নিকট বা গোলযোগের সময় যে কোনো ব্যক্তির নিকট অস্ত্র বিক্রয় করা। অনুরূপ, নিজের বাড়ি এ জন্য ভাড়া দেয়া যে, সেখানে মদ বিক্রয় করা হবে ইত্যাদি। এ সব বিক্রয় হারাম ও এর জন্য সম্পাদিত চুক্তি বাতিল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হারাম বস্তুর সাথে মিশ্রিত বস্তু বিক্রয়

📄 হারাম বস্তুর সাথে মিশ্রিত বস্তু বিক্রয়


হালাল ও হারাম উভয় প্রকার বস্তু একত্রে বিক্রয়ের চুক্তি করা হলে সে সম্পর্কে দুটি মতামত রয়েছে। কেউ বলেন: হালাল বস্তুর উপর চুক্তি বৈধ এবং হারাম বস্তুর
উপর চুক্তি অবৈধ। এটা ইমাম শাফেয়ির দুটি মতের একটি এবং ইমাম মালেকের মত। আবার কেউ বলেন: উভয় বস্তু সংক্রান্ত চুক্তিই অবৈধ ও বাতিল।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অধিক শপথ করা নিষেধ

📄 অধিক শপথ করা নিষেধ


১. রসূলুল্লাহ্ সা. অধিক শপথ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: 'শপথ পণ্যকে চালু করে, কিন্তু তার বরকত গ্রাস করে।' (বুখারি, আবু হুরায়রা) কেননা এর ফলে আল্লাহর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা কমে যায়। তাছাড়া এটা ক্রেতাকে ঠকানো ও প্রতারণার একটা কৌশলেও পরিণত হয়।
২. ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন: 'সাবধান, বিক্রয় করার সময় অধিক পরিমাণে শপথ করো না। কেননা এতে ব্যবসায়ের প্রসার ঘটে, কিন্তু অচিরেই ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পায়।'
৩. রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'ব্যবসায়ীরা পাপিষ্ঠ।' লোকেরা বললো: হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ্ কি ব্যবসায়কে হালাল করেন নি? তিনি বললেন: হাঁ, করেছেন। কিন্তু তারা শপথ করে গুনাহ করে এবং কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে।' (আহমদ)।
৪. ইবনে মাসউদ রা. সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের সম্পদের উপর অন্যায়ভাবে শপথ করবে, সে যখন আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাত করবে তখন তিনি তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন। অত:পর রসূল সা.. এর প্রমাণস্বরূপ আমাদের সামনে আল্লাহ্র কিতাব থেকে একটি আয়াত শোনালেন: إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ 'যারা আল্লাহ্র সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্য বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।' (আলে ইমরান, ৭৭)
৫. ইমাম বুখারি বর্ণনা করেন: জনৈক বেদুইন রসূলুল্লাহ্ সা. এর নিকট এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ্, কবিরা গুনাহ কী কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শরিক করা। সে বললো: তারপর কী? তিনি বললেন: মিথ্যা শপথ করা। সে বললো: মিথ্যা শপথ কী? তিনি বললেন: কোনো মুসলমানের সম্পত্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা। মিথ্যা শপথ শপথকারীকে জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত করে। কোনো কোনো ফকিহের মতে এর কোনো কাফ্ফারা নেই। কেননা এটা এত জঘন্য ও মারাত্মক পাপ যে, কাফ্ফারা দিয়ে তা মোচন করা সম্ভব নয়।
৬. আবু উমামা রা. সূত্রে বর্ণিত, রসূল সা. বলেন: যে ব্যক্তি শপথ দ্বারা কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ্ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব ও জান্নাত হারাম করে দেন। এক ব্যক্তি বললো: হে রসূল, যদি তা অতি নগণ্য জিনিসও হয়? প্রত্যুত্তরে রসূল সা. বললেন: গাছের একটা মরা ডালও যদি হয়।' (মুসলিম)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মসজিদের অভ্যন্তরে ক্রয়-বিক্রয়

📄 মসজিদের অভ্যন্তরে ক্রয়-বিক্রয়


ইমাম আবু হানিফা র. মসজিদে ক্রয়বিক্রয়ের অনুমতি দিলেও বিক্রয়ের সময় মসজিদে পণ্য উপস্থিত করা মসজিদের পরিচ্ছন্নতার খাতিরে মাকরূহ গণ্য করেছেন। ইমাম মালেক ও শাফেয়ি মসজিদে ক্রয়বিক্রয়কে বৈধ কিন্তু মাকরূহ আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম আহমদ এটিকে হারাম আখ্যায়িত করেছেন। রসূল সা. বলেছেন: তোমরা কাউকে মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলে বলবে: 'আল্লাহ্ যেন তোমার ব্যবসা লাভজনক না করেন।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00