📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শূন্যে ভিত্তি বিক্রয় নিষিদ্ধ

📄 শূন্যে ভিত্তি বিক্রয় নিষিদ্ধ


৫. ছুঁড়ে মারার ভিত্তিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে নিজের কাছে যা আছে তা ছুঁড়ে মারবে এবং তার ভিত্তিতেই উভয় পক্ষের সম্মতি না থাকলেও বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, এরূপ বিক্রয় নিষিদ্ধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 খুঁড়ে মারার ভিত্তিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ

📄 খুঁড়ে মারার ভিত্তিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ


৫. ছুঁড়ে মারার ভিত্তিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে নিজের কাছে যা আছে তা ছুঁড়ে মারবে এবং তার ভিত্তিতেই উভয় পক্ষের সম্মতি না থাকলেও বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, এরূপ বিক্রয় নিষিদ্ধ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ফেড়ে দেয়া, জবর দখল করা ও চোরাই মাল বিক্রয় করা হারাম

📄 ফেড়ে দেয়া, জবর দখল করা ও চোরাই মাল বিক্রয় করা হারাম


কেড়ে নেয়া, জবর দখল করা ও চোরাই মাল বিক্রয় করা হারাম: একটি জিনিস অন্যের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা থাকা সত্ত্বেও তা ক্রয় করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর হারাম। কেননা বিক্রেতা জিনিসটি তার মালিকের কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে তা মালিকের মালেকানা থেকে তার হাতে হস্তান্তরিত হয়নি। তাই জিনিসটি তার কাছ থেকে ক্রয় করার সমার্থক হবে, যে তার মালেক নয়। উপরন্তু এই ক্রয় গুনাহ ও আগ্রাসনের সাথে সহযোগিতার নামান্তর হবে। ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি একটা চোরাই মাল ক্রয় করে, অথচ সে জানে যে, পণ্যটি একটা চোরাই মাল, সে ঐ গুনাহ ও কেলেংকারিতে জড়িত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ

📄 মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ


মদ উৎপাদকের নিকট আঙ্গুর ও গোলযোগ চলাকালে অস্ত্র বিক্রয় অবৈধ: আঙ্গুর থেকে মদ উৎপাদন করা যার পেশা, তার কাছে আঙ্গুর বিক্রয় করা, দেশে গোলযোগে চলাকালে যে কারো কাছে এবং যুদ্ধরত ব্যক্তিদের নিকট সর্বাবস্থায় অস্ত্র বিক্রয় করা নিষিদ্ধ। অনুরূপ, যে জিনিস দ্বারা হারাম ও নিষিদ্ধ কিছু করা ইচ্ছা করা হয়, তা বিক্রয় করাও হারাম। এ ধরনের বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হলে তা বাতিল গণ্য হবে। কেননা চুক্তির উদ্দেশ্য হলো ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের উপকৃত হওয়া। এই উপকার সাধিত হতে পারে প্রাপ্ত বিনিময় হস্তগত হওয়ার মাধ্যমে। বিক্রেতা মূল্য পেয়ে ও ক্রেতা পণ্য পেয়ে উপকৃত হবে। অথচ এখানে কাংখিত উপকার সাধিত হচ্ছে না। কেননা এতে একটা নিষিদ্ধ কাজ সম্পন্ন এবং অন্যায় ও অপরাধ জনক-কাজে সাহায্য করা হচ্ছে, যা শরিয়তে অবৈধ। আল্লাহ বলেছেন: وَتَعَاوَلُوا عَلَى البر والتقوى ط وَلَا تَعَاوَلُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ .
'তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমা লংঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।' (সূরা ৫ মায়িদা: আয়াত ২)
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: মদকে, মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, মদের ক্রেতা-বিক্রেতাকে, প্রস্তুতকারী, প্রস্তুত করার ব্যবস্থাকারী, প্রেরণকারী ও যার নিকট প্রেরণ করা হয়-এই সকল ব্যক্তিকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। রসূলুল্লাহ্ সা. আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি আঙ্গুর পাড়ার মওসুমে আঙ্গুর আটকে রাখলো, যাতে আঙ্গুর দিয়ে মদ প্রস্তুতকারীর কাছে তা বিক্রয় করতে পারে, সে যেন জেনে শুনে নিজের দোযখে প্রবেশের ব্যবস্থা করলো।'
উমর ইবনুল হাসীন বলেন: রসূলুল্লাহ্ সা. গোলযোগের সময় অস্ত্র বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির মতে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন বৈধ। কেননা এর উদ্দেশ্য অবৈধ হলেও প্রচ্ছন্ন। এ ক্ষেত্রে বিষয়টা আল্লাহ্র নিকট সোপর্দ। তিনিই শাস্তি দেবেন।
ইবনে কুদামা বলেন: যে ব্যক্তি সম্পর্কে এটা নিশ্চিত যে, সে আঙ্গুরের নির্যাস দিয়ে মদ বানাবে, তার নিকট আঙ্গুরের নির্যাস বিক্রয় করা হারাম। ক্রেতার মদ বানানোর সুপ্ত ইচ্ছা তার কথাবার্তা বা গতিবিধি দ্বারা জানা গেলে বিক্রয় বাতিল ও হারাম হয়ে যাবে। আর যদি মদ বানানোর ব্যাপারটা কেবল সম্ভাবনার পর্যায়েই থাকে, যেমন যার পেশা বা অবস্থা মোটেই জানা যায় না, অথবা সির্কা ও মদ দুটোই তৈরি করা যার পেশা, এবং সে মদ বানানোর ইচ্ছা ব্যক্তকারী কোনো কথা বলে না, তার নিকট বিক্রয় করা বৈধ। এই বিধি সে সকল জিনিসেই প্রযোজ্য যা দ্বারা হারাম কাজ করার সংকল্প গৃহীত হয়। যেমন যুদ্ধরত লোকদের নিকট, বা ডাকাতদের নিকট বা গোলযোগের সময় যে কোনো ব্যক্তির নিকট অস্ত্র বিক্রয় করা। অনুরূপ, নিজের বাড়ি এ জন্য ভাড়া দেয়া যে, সেখানে মদ বিক্রয় করা হবে ইত্যাদি। এ সব বিক্রয় হারাম ও এর জন্য সম্পাদিত চুক্তি বাতিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00