📄 দালালি বৈধ
ইমাম বুখারি বলেছেন: ইমাম ইবনে সিরীন, আতা, ইবরাহিম নাখয়ী ও হাসান দালালিকে দূষণীয় মনে করেননি। বিক্রয়ের কাজকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যস্থতাকে দালালি বলা হয়। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: কেউ যদি কাউকে বলে, 'এই কাপড়টি বিক্রয় করে দাও একশো টাকার বেশি যা হবে তা তোমার' তবে এতে দোষের কিছু নেই। ইবনে সিরীন বলেছেন: 'এ জিনিসটি পঞ্চাশ টাকায় বিক্রয় করে দাও, এতে যা মুনাফা হবে তা তোমার অথবা তা তোমার ও আমার' তাহলে কোনো দোষ নেই। রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'মুসলমানরা তাদের আরোপিত শর্তের অধীন।' (আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম, বুখারি)।
📄 ব্যবস্থাজাত জনিত বিক্রয়
বল প্রয়োগ জনিত বিক্রয়: অধিকাংশ ফকিহ নিজের পণ্য বিক্রয়ে বিক্রেতার স্বাধীনতার শর্ত আরোপ করেছেন অবৈধভাবে কাউকে তারা বিক্রয়ে বাধ্য করলে বিক্রয় বৈধ হবেনা। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُوٓاْ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ 'হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা। কিন্তু তোমাদের পরস্পরে সম্মত হয়ে ব্যবসায় করা বৈধ।' (সূরা ৪ নিসা: আয়াত ২৯)।
শরিয়তের পরিভাষায় ব্যবসা এমন যে কোনো চুক্তির নাম, যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, যেমন বিক্রয় চুক্তি, ভাড়ার চুক্তি, ইত্যাদি। কেননা সাধারণত এসব চুক্তিতে মুনাফা অর্জনই মানুষের লক্ষ্য হয়ে থাকে। সুতরাং ব্যবসা বিক্রয়ের চেয়ে ব্যাপকতর।
রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'বিক্রয় শুধু পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই হতে হবে।' তিনি আরো বলেছেন: 'আমার উম্মতকে সকল ভুল, ত্রুটি ও বলপ্রয়োগজনিত কাজ থেকে দায়মুক্ত করা হয়েছে।' (ইবনে মাজা, ইবনে হাব্বান, দারা কুতনি, তাবারানি, বায়হাকি ও হাকেম)
তবে ন্যায়সংগতভাবে কাউকে তার সম্পত্তি বিক্রয়ে বাধ্য করা হলে বিক্রয় শুদ্ধ ও কার্যকর হবে, যেমন রাস্তা প্রশস্ত করণ, মসজিদ বা কবরস্তান নির্মাণের জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য, স্ত্রীর বা পিতামাতার খোরপোশ দেয়ার জন্য। এ সব ক্ষেত্রে বল প্রয়োগে বিক্রয় বৈধ হবে এবং শরিয়তের সম্মতিকে বিক্রেতার সম্মতি গণ্য করা হবে। আব্দুর রহমান ইবনে কা'ব বলেন: মুয়ায ইবনে জাবাল একজন দানশীল যুবক ছিলেন। তিনি নিজের জন্য কিছুই সঞ্চয় করতেন না। ফলে তিনি ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হতে থাকেন এবং একসময় তার সমস্ত সম্পত্তি ঋণে জর্জরিত হয়ে যায়। অবশেষে তিনি রসূলুল্লাহ্ সা. এর কাছে এলেন এবং তাকে ঋণ থেকে অব্যাহতি দিতে তার ঋণদাতাদেরকে রাযী করার জন্য রসূলুল্লাহ্ সা. কে অনুরোধ করলেন। কিন্তু রসূল সা. মুয়াযের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার ঋণ পরিশোধ করে দিলেন এবং মুয়ায
একেবারেই নি:স্ব হয়ে গেলেন। অথচ তাঁর ঋণদাতারা রসূলুল্লাহ্ সা. এর অনুরোধে তাকে অব্যাহতি দিতো, এমন সম্ভাবনা ছিলো।
📄 উপার্জনের বিক্রয়
উপায়হীনের বিক্রয়: মানুষ কখনো কখনো ঋণ পরিশোধ করা অথবা কোনো আর্থিক প্রয়োজনে হাতে যা কিছু আছে তা ন্যায্য মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হয়। এ ধরনের বিক্রয় জায়েয আছে, তবে মাকরূহ, কিন্তু বাতিল করা হবে না। এরূপ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, বিপাকে পড়া ব্যক্তিকে সাহায্য করা ও ঋণ দেয়া, যাতে আপতিত সংকট থেকে মুক্তি পায়। আবু দাউদে বর্ণিত আছে, বনু তামীমের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি (নাম অজ্ঞাত) বলেছেন: আলি ইবনে আবু তালেব রা. আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বললেন: অচিরেই মানুষের উপর একটা মর্মান্তিক যুগ আসবে, যখন ধনী লোকেরা তাদের হাতে যে সম্পদ আছে তা নিয়ে কৃপণতা করবে, অথচ তাদেরকে তা করতে বলা হয়নি। আল্লাহ্ বলেছেন: 'তোমরা নিজেদের মধ্যে সদাশয়তার কথা ভুলে যাবে না।' (সূরা ২ বাকারা: আয়াত ২৩৭) সংকটাপন্ন লোকদের জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়। অথচ রসূলুল্লাহ সা. উপায়হীন ব্যক্তির জিনিসপত্র বিক্রয়, ধোঁকা দিয়ে বিক্রয় ও অপরিপক্ক শস্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।'
📄 অত্যাচারের ভয়ে বিক্রয়
কোনো অত্যাচারী তার সম্পত্তি গ্রাস করতে পারে এই ভয়ে কোনো ব্যক্তি তা বিক্রয় করে এবং বিক্রয়ের সকল শর্ত পূরণ করত চুক্তি সম্পাদন করলে, এ বিক্রয় শুদ্ধ হবেনা। কেননা ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রকৃত পক্ষে ক্রয় ও বিক্রয় কামনা করেনি এবং তারা ভান করেছে মাত্র। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ির মতে সকল শর্ত পুরণ হওয়ায় বিক্রয় শুদ্ধ হয়েছে। ইবনে কুদামা বলেন, এ বিক্রয় অবৈধ।