📄 গুদামের কাছে বিক্রয় করলে পণ্য প্রথম ক্রেতার প্রাপ্য
কেউ একটি পণ্য প্রথমে একজনের কাছে বিক্রয় করার পর পুনরায় আর একজনের কাছে বিক্রয় করলে শেষের বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে। কেননা বিক্রেতা যে পণ্য বিক্রয় করেছে, সে তার মালেক নয়। সেটি প্রথম ক্রেতার মালেকানায় চলে গেছে। এরূপ ঘটনায় দ্বিতীয় বিক্রয় পুণর্বিবেচনায় মেয়াদের মধ্যে বা তার পরে সম্পন্ন হোক, তাতে কিছু যায় আসেনা। কেননা পণ্য বিক্রয় করা মাত্রই তার মালেকানা থেকে বের হয়ে গেছে। সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'যে মহিলাকে দু'জন অভিভাবক বিয়ে দেয়, সে প্রথম অভিভাবকের। আর কেউ একই পণ্য দু'জনের কাছে বিক্রয় করলে তা প্রথম ক্রেতার।'
📄 গুট্টা বিক্রি ও নগদ বিক্রয়
নগদ মূল্য প্রদান ও বিলম্বে মূল্য প্রদান উভয় উপায়ে বিক্রয় জায়েয। মূল্যের একাংশ তাৎক্ষণিকভাবে ও অপরাংশ বিলম্বে প্রদানও উভয় পক্ষের সম্মতি থাকলে বৈধ। মূল্য বিলম্বে পরিশোধে বিক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করলে তা বৈধ হবে। কেননা বিলম্বের জন্য মূল্যের কিছু অংশ প্রাপ্য রয়েছে। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও অধিকাংশ ফকিহের মত।
📄 দালালি বৈধ
ইমাম বুখারি বলেছেন: ইমাম ইবনে সিরীন, আতা, ইবরাহিম নাখয়ী ও হাসান দালালিকে দূষণীয় মনে করেননি। বিক্রয়ের কাজকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যস্থতাকে দালালি বলা হয়। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: কেউ যদি কাউকে বলে, 'এই কাপড়টি বিক্রয় করে দাও একশো টাকার বেশি যা হবে তা তোমার' তবে এতে দোষের কিছু নেই। ইবনে সিরীন বলেছেন: 'এ জিনিসটি পঞ্চাশ টাকায় বিক্রয় করে দাও, এতে যা মুনাফা হবে তা তোমার অথবা তা তোমার ও আমার' তাহলে কোনো দোষ নেই। রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'মুসলমানরা তাদের আরোপিত শর্তের অধীন।' (আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম, বুখারি)।
📄 ব্যবস্থাজাত জনিত বিক্রয়
বল প্রয়োগ জনিত বিক্রয়: অধিকাংশ ফকিহ নিজের পণ্য বিক্রয়ে বিক্রেতার স্বাধীনতার শর্ত আরোপ করেছেন অবৈধভাবে কাউকে তারা বিক্রয়ে বাধ্য করলে বিক্রয় বৈধ হবেনা। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُوٓاْ أَمْوَٰلَكُم بَيْنَكُم بِٱلْبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ 'হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা। কিন্তু তোমাদের পরস্পরে সম্মত হয়ে ব্যবসায় করা বৈধ।' (সূরা ৪ নিসা: আয়াত ২৯)।
শরিয়তের পরিভাষায় ব্যবসা এমন যে কোনো চুক্তির নাম, যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়, যেমন বিক্রয় চুক্তি, ভাড়ার চুক্তি, ইত্যাদি। কেননা সাধারণত এসব চুক্তিতে মুনাফা অর্জনই মানুষের লক্ষ্য হয়ে থাকে। সুতরাং ব্যবসা বিক্রয়ের চেয়ে ব্যাপকতর।
রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'বিক্রয় শুধু পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই হতে হবে।' তিনি আরো বলেছেন: 'আমার উম্মতকে সকল ভুল, ত্রুটি ও বলপ্রয়োগজনিত কাজ থেকে দায়মুক্ত করা হয়েছে।' (ইবনে মাজা, ইবনে হাব্বান, দারা কুতনি, তাবারানি, বায়হাকি ও হাকেম)
তবে ন্যায়সংগতভাবে কাউকে তার সম্পত্তি বিক্রয়ে বাধ্য করা হলে বিক্রয় শুদ্ধ ও কার্যকর হবে, যেমন রাস্তা প্রশস্ত করণ, মসজিদ বা কবরস্তান নির্মাণের জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য, স্ত্রীর বা পিতামাতার খোরপোশ দেয়ার জন্য। এ সব ক্ষেত্রে বল প্রয়োগে বিক্রয় বৈধ হবে এবং শরিয়তের সম্মতিকে বিক্রেতার সম্মতি গণ্য করা হবে। আব্দুর রহমান ইবনে কা'ব বলেন: মুয়ায ইবনে জাবাল একজন দানশীল যুবক ছিলেন। তিনি নিজের জন্য কিছুই সঞ্চয় করতেন না। ফলে তিনি ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হতে থাকেন এবং একসময় তার সমস্ত সম্পত্তি ঋণে জর্জরিত হয়ে যায়। অবশেষে তিনি রসূলুল্লাহ্ সা. এর কাছে এলেন এবং তাকে ঋণ থেকে অব্যাহতি দিতে তার ঋণদাতাদেরকে রাযী করার জন্য রসূলুল্লাহ্ সা. কে অনুরোধ করলেন। কিন্তু রসূল সা. মুয়াযের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার ঋণ পরিশোধ করে দিলেন এবং মুয়ায
একেবারেই নি:স্ব হয়ে গেলেন। অথচ তাঁর ঋণদাতারা রসূলুল্লাহ্ সা. এর অনুরোধে তাকে অব্যাহতি দিতো, এমন সম্ভাবনা ছিলো।