📄 বিক্রয়ের উপর বিক্রয়
বিক্রয়ের উপর বিক্রয় করা হারাম। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'তোমাদের একজন তার অপর ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর যেন বিক্রয় না করে।' (আহমদ, নাসায়ি)।
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যেন তার অপর ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর বিক্রয় না করে।' ইমাম আহমদ, নাসায়ি, আবু দাউদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেন এবং তিরমিযি এ বর্ণনাকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন: দুই ব্যক্তির নিকট একই জিনিস বিক্রয় করলে পণ্যটি প্রথমজনের প্রাপ্য হবে।'
ইমাম নববীর বিশ্লেষণে এর উদাহরণ এ রকম: 'কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য এই শর্তে বিক্রয় করবে যে, ক্রেতার পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। অত:পর আরেকজন এসে তাকে অনুরোধ করবে যেন সে চুক্তি বাতিল করে, যাতে তা আরো কম মূল্যে বিক্রয় করে। আর অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করার উদাহরণ হলো, বিক্রেতার পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে, অত:পর কেউ এসে তাকে চুক্তি বাতিল করার অনুরোধ করবে, তার বিক্রীত পণ্য তার কাছ থেকে অধিকতর মূল্যে কিনতে পারে। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এ আচরণ নিষিদ্ধ ও পাপ। তবে কেউ এ ধরনের ক্রয় ও বিক্রয় করলে তা কার্যকর হবে। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও অন্যান্য ফকিহের মত। তবে যাহেরি মাযহাবের দাউদ ইবনে আলির মতে কার্যকর হবে না। ইমাম মালেক থেকে বর্ণিত দুটি মতের একটিতে কার্যকর এবং অপরটিতে অকার্যকর। তবে নিলাম
বিক্রয় এর ব্যতিক্রম। সে ক্ষেত্রে এটা জায়েয। কেননা সেখানে বিক্রয় স্থায়ী নয়। রসূলুল্লাহ্ সা. থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কোনো পণ্য বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করে বলতেন, কে বেশি মূল্য দেবে?
📄 গুদামের কাছে বিক্রয় করলে পণ্য প্রথম ক্রেতার প্রাপ্য
কেউ একটি পণ্য প্রথমে একজনের কাছে বিক্রয় করার পর পুনরায় আর একজনের কাছে বিক্রয় করলে শেষের বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে। কেননা বিক্রেতা যে পণ্য বিক্রয় করেছে, সে তার মালেক নয়। সেটি প্রথম ক্রেতার মালেকানায় চলে গেছে। এরূপ ঘটনায় দ্বিতীয় বিক্রয় পুণর্বিবেচনায় মেয়াদের মধ্যে বা তার পরে সম্পন্ন হোক, তাতে কিছু যায় আসেনা। কেননা পণ্য বিক্রয় করা মাত্রই তার মালেকানা থেকে বের হয়ে গেছে। সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'যে মহিলাকে দু'জন অভিভাবক বিয়ে দেয়, সে প্রথম অভিভাবকের। আর কেউ একই পণ্য দু'জনের কাছে বিক্রয় করলে তা প্রথম ক্রেতার।'
📄 গুট্টা বিক্রি ও নগদ বিক্রয়
নগদ মূল্য প্রদান ও বিলম্বে মূল্য প্রদান উভয় উপায়ে বিক্রয় জায়েয। মূল্যের একাংশ তাৎক্ষণিকভাবে ও অপরাংশ বিলম্বে প্রদানও উভয় পক্ষের সম্মতি থাকলে বৈধ। মূল্য বিলম্বে পরিশোধে বিক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করলে তা বৈধ হবে। কেননা বিলম্বের জন্য মূল্যের কিছু অংশ প্রাপ্য রয়েছে। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও অধিকাংশ ফকিহের মত।
📄 দালালি বৈধ
ইমাম বুখারি বলেছেন: ইমাম ইবনে সিরীন, আতা, ইবরাহিম নাখয়ী ও হাসান দালালিকে দূষণীয় মনে করেননি। বিক্রয়ের কাজকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যস্থতাকে দালালি বলা হয়। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: কেউ যদি কাউকে বলে, 'এই কাপড়টি বিক্রয় করে দাও একশো টাকার বেশি যা হবে তা তোমার' তবে এতে দোষের কিছু নেই। ইবনে সিরীন বলেছেন: 'এ জিনিসটি পঞ্চাশ টাকায় বিক্রয় করে দাও, এতে যা মুনাফা হবে তা তোমার অথবা তা তোমার ও আমার' তাহলে কোনো দোষ নেই। রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'মুসলমানরা তাদের আরোপিত শর্তের অধীন।' (আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম, বুখারি)।