📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিক্রয় চুক্তিতে সাক্ষী রাখা

📄 বিক্রয় চুক্তিতে সাক্ষী রাখা


সূরা বাকারার ২৮২ নং আয়াতে আল্লাহ্ বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের সময় সাক্ষী রাখার আদেশ দিয়েছেন: وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُم مَن وَلَا يُضَارُّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ . 'তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা করো, তখন সাক্ষী রেখো, লেখক এবং সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।'
কিছু সংখ্যক ফকিহের মতে সাক্ষী রাখার আদেশটি এখানে মুস্তাহাব ও মংগলজনক কাজে উদ্বুদ্ধ করার অর্থ সংবলিত, বাধ্যতামূলক অর্থ সংবলিত নয়।
তবে আতা এবং ইবরাহিম নাখয়ির মতে যতো ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ জিনিসই হোক না কেন, তার বিক্রয়ে সাক্ষী রাখতেই হবে। আবু জাফর তাবারীর মতে এ মতই অগ্রগণ্য।
ইমাম জাসসাস 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে লিখেছেন: ফকিহদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনোই মতভেদ নেই যে, এ আয়াতে চুক্তি লিপিবদ্ধ করা, সাক্ষী রাখা ও বন্ধক রাখার যে আদেশ দেয়া হয়েছে, তার সবই মুস্তাহাব অর্থ সংবলিত ও উপদেশমূলক এবং দীন ও দুনিয়ার স্বার্থে এগুলিকে কল্যাণকর, সতর্কতামূলক ও মংগলজনক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর কোনোটিই বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শাসিত বহু অঞ্চলে প্রাচীন ও মধ্যযুগে বহু ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন চুক্তি সাক্ষী না রেখেই সম্পাদিত হয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছে। অথচ তাদের অঞ্চলের ফকিহগণ এ আদেশের কথা জেনেও এর প্রতিবাদ করেননি। সাক্ষী রাখা যদি বাধ্যতামূলক হতো তবে এটা বর্জনকারীর বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ না করে ছাড়তেননা। এদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তারা এটিকে মুস্তাহাব মনে করতেন এবং এটা রসূলুল্লাহ সা. এর আমল থেকে আমাদের আমল পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে চলে আসছে। সাহাবি ও তাবিইদের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যদি সাক্ষী রাখা হতো, তবে তার বর্ণনা অবশ্যই ব্যাপকভাবে সর্বোচ্চ দৃঢ়তা ও বিশ্বস্ততার সাথে লিপিবদ্ধ হতো এবং তারা সাক্ষী না রেখে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিবাদ ও নিন্দা করতেন। কাজেই তাদের মধ্যে সাক্ষী রাখার বর্ণনা যখন ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় না এবং এটি বর্জনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদও উচ্চারিত হয়েছে বলে জানা যায় না, তখন প্রমাণিত হয় যে, লেনদেনে ও ক্রয়-বিক্রয়ে সাক্ষী রাখা ও লেখা বধ্যতামূলক নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বিক্রয়ের উপর বিক্রয়

📄 বিক্রয়ের উপর বিক্রয়


বিক্রয়ের উপর বিক্রয় করা হারাম। কেননা ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'তোমাদের একজন তার অপর ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর যেন বিক্রয় না করে।' (আহমদ, নাসায়ি)।
বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যেন তার অপর ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর বিক্রয় না করে।' ইমাম আহমদ, নাসায়ি, আবু দাউদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেন এবং তিরমিযি এ বর্ণনাকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন: দুই ব্যক্তির নিকট একই জিনিস বিক্রয় করলে পণ্যটি প্রথমজনের প্রাপ্য হবে।'
ইমাম নববীর বিশ্লেষণে এর উদাহরণ এ রকম: 'কোনো ব্যক্তি কোনো পণ্য এই শর্তে বিক্রয় করবে যে, ক্রেতার পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। অত:পর আরেকজন এসে তাকে অনুরোধ করবে যেন সে চুক্তি বাতিল করে, যাতে তা আরো কম মূল্যে বিক্রয় করে। আর অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করার উদাহরণ হলো, বিক্রেতার পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে, অত:পর কেউ এসে তাকে চুক্তি বাতিল করার অনুরোধ করবে, তার বিক্রীত পণ্য তার কাছ থেকে অধিকতর মূল্যে কিনতে পারে। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এ আচরণ নিষিদ্ধ ও পাপ। তবে কেউ এ ধরনের ক্রয় ও বিক্রয় করলে তা কার্যকর হবে। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও অন্যান্য ফকিহের মত। তবে যাহেরি মাযহাবের দাউদ ইবনে আলির মতে কার্যকর হবে না। ইমাম মালেক থেকে বর্ণিত দুটি মতের একটিতে কার্যকর এবং অপরটিতে অকার্যকর। তবে নিলাম
বিক্রয় এর ব্যতিক্রম। সে ক্ষেত্রে এটা জায়েয। কেননা সেখানে বিক্রয় স্থায়ী নয়। রসূলুল্লাহ্ সা. থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি কোনো পণ্য বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করে বলতেন, কে বেশি মূল্য দেবে?

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গুদামের কাছে বিক্রয় করলে পণ্য প্রথম ক্রেতার প্রাপ্য

📄 গুদামের কাছে বিক্রয় করলে পণ্য প্রথম ক্রেতার প্রাপ্য


কেউ একটি পণ্য প্রথমে একজনের কাছে বিক্রয় করার পর পুনরায় আর একজনের কাছে বিক্রয় করলে শেষের বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে। কেননা বিক্রেতা যে পণ্য বিক্রয় করেছে, সে তার মালেক নয়। সেটি প্রথম ক্রেতার মালেকানায় চলে গেছে। এরূপ ঘটনায় দ্বিতীয় বিক্রয় পুণর্বিবেচনায় মেয়াদের মধ্যে বা তার পরে সম্পন্ন হোক, তাতে কিছু যায় আসেনা। কেননা পণ্য বিক্রয় করা মাত্রই তার মালেকানা থেকে বের হয়ে গেছে। সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'যে মহিলাকে দু'জন অভিভাবক বিয়ে দেয়, সে প্রথম অভিভাবকের। আর কেউ একই পণ্য দু'জনের কাছে বিক্রয় করলে তা প্রথম ক্রেতার।'

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 গুট্টা বিক্রি ও নগদ বিক্রয়

📄 গুট্টা বিক্রি ও নগদ বিক্রয়


নগদ মূল্য প্রদান ও বিলম্বে মূল্য প্রদান উভয় উপায়ে বিক্রয় জায়েয। মূল্যের একাংশ তাৎক্ষণিকভাবে ও অপরাংশ বিলম্বে প্রদানও উভয় পক্ষের সম্মতি থাকলে বৈধ। মূল্য বিলম্বে পরিশোধে বিক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করলে তা বৈধ হবে। কেননা বিলম্বের জন্য মূল্যের কিছু অংশ প্রাপ্য রয়েছে। এটা হানাফি, শাফেয়ি ও অধিকাংশ ফকিহের মত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00