📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইজাব ও কবুলের শর্ত

📄 ইজাব ও কবুলের শর্ত


ইজাব ও কবুল হচ্ছে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যম। এই ইজাব ও কবুল বিশুদ্ধ হওয়া তিনটি শর্ত পূরণের উপর নির্ভরশীল:
প্রথমত উভয় পক্ষ একই বৈঠকে থাকা অবস্থায় কোনো ক্ষতিকর ব্যবধান ছাড়াই পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করবে।
দ্বিতীয়ত যে পণ্য ও মূল্যের উপর উভয় পক্ষের সম্মতি জরুরি, তার উপর উভয় পক্ষের ইজাব ও কবুলের মিল থাকা চাই। মিল না থাকলে ক্রয়বিক্রয় বৈধ হবেনা। সুতরাং বিক্রেতা যদি বলে: 'তোমার নিকট এই কাপড়খানি পাঁচ পাউন্ডে বিক্রয় করলাম।' আর ক্রেতা যদি বলে: 'আমি চার পাউন্ডে কিনতে রাজি', তাহলে দু'পক্ষের মধ্যে বিক্রয় সম্পন্ন হবেনা। কেননা ইজাব ও কবুলে মিল নেই। তৃতীয়ত ইজাব ও কবুল অতীতকাল বাচক বাক্য দ্বারা সম্পন্ন হওয়া চাই। যেমন বিক্রেতা বলবে: 'আমি বিক্রি করলাম' আর ক্রেতা বলবে: 'আমি রাজি হলাম' ভবিষ্যত বোধক শব্দ দ্বারা ইজাব ও কবুল করা হলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি রূপে গণ্য হবে, ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি নয়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 লিখিতভাবে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন

📄 লিখিতভাবে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন


মৌখিক ইজাব ও কবুল দ্বারা যেমন ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হয়, তেমনি লিখিতভাবে প্রস্তাব প্রদান ও তা গ্রহণের মাধ্যমেও ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবে লিখিতভাবে ক্রয়বিক্রয় সম্পাদনের শর্ত এই যে, এক পক্ষ অপর পক্ষ থেকে দূরে অবস্থান করবে অথবা লিখিতভাবে চুক্তি সম্পাদনকারী বোবা হওয়ার কারণে কথা বলতে সক্ষম হবেনা। যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে একই বৈঠকে অবস্থান করে এবং তাদের পরস্পরে বাক্যালাপে কোনো বাধাবিপত্তি বা ওযর না থাকে, তাহলে লিখিতভাবে ইজাব কবুল দ্বারা ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবেনা। কেননা এটা কথার বিকল্প বা সমকক্ষ নয়। কথা হচ্ছে সর্বাপেক্ষা প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ মাধ্যম। তবে বাক্যালাপের বিকল্প পথ অবলম্বনের যথার্থ কারণ থাকলে লিখিতভাবে ইজাব কবুল করা যাবে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে শর্ত, যাকে উদ্দেশ্য করে লিখিত প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সে যেন যে স্থানে চিঠিটা পড়া হয়েছে, সে স্থানে থাকা অবস্থায়ই তা গ্রহণ করে।
দূতের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন: বাক্যালাপ ও চিঠির মাধ্যমে যেমন ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হয়, তেমনি তা দুই পক্ষের এক পক্ষের প্রেরিত দূতের মাধ্যমেও সম্পন্ন হয়। তবে শর্ত হলো, যার নিকট দূত পাঠানো হয়েছে সে বার্তা পাওয়ার অব্যবহিত পর তা গ্রহণ করবে। এ দুপন্থায় যখনই প্রস্তাব গৃহীত হবে তখনই ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হবে, চাই প্রস্তাব প্রেরক প্রস্তাব গ্রহণের কথা জানুক বা না জানুক।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বোবার ক্রয়-বিক্রয়

📄 বোবার ক্রয়-বিক্রয়


বোবারা যে সকল সুবিদিত পন্থায় ইশারার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে, সে ইশারার মাধ্যমেই ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন হয়, ঠিক যেমন মুখের কথা দ্বারা সম্পন্ন হয়। অবশ্য বোবা যদি লিখতে জানে, তবে ইশারার পরিবর্তে লেখার মাধ্যমেও ক্রয়বিক্রয় সম্পন্ন করতে পারবে। কোনো কোনো ফকিহ কিছু নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা ইজাব ও কবুল শুদ্ধ হওয়ার শর্ত আরোপ করলেও কুরআন ও সুন্নাহতে তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যবসা শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি

📄 ব্যবসা শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি


ক্রয়বিক্রয় বা ব্যবসার কিছু শর্ত রয়েছে। ব্যবসার বিশুদ্ধতা ও বৈধতার জন্য সেই শর্তাবলী পুরণ জরুরি। এই শর্তসমূহের কয়েকটি ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে এবং অপর কতগুলো পণ্য বা মূল্যের সাথে সম্পৃক্ত। মূল্য: যা খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে ক্রয়বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়না। হস্তান্তরের পূর্বে এর পরিবর্তন সাধনও বৈধ। পণ্য: যা নষ্ট হলে ক্রয়বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়না। এবং তার প্রাপ্যতা রহিত হয়না। ত্রুটিযুক্ত হলে তার ক্রয়বিক্রয় বাতিল হয়ে যায়। রদবদল করা জায়েয নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00